অরিন্দম ঘোষের ‘সংস্কৃতি’ শীর্যক পত্রটি (১১-২) পড়ে জানা গেল, রবীন্দ্রনাথ ১৯২২ সালেই culture-এর প্রতিশব্দ হিসাবে ‘কৃষ্টি’র পরিবর্তে ‘সংস্কৃতি’ শব্দটির ব্যবহার শ্রেয় মনে করতেন। প্রায় এগারো বছর পরে, ১৯৩৩ সালে, সাহিত্যিক প্রবোধকুমার সান্যাল তাঁর বিখ্যাত বই ‘মহাপ্রস্থানের পথে’-তে ‘কৃষ্টি’ শব্দটি ব্যবহার করলে রবীন্দ্রনাথ আপত্তি জানান। মিত্র ও ঘোষ-এর প্রকাশনায় গ্রন্থটির একটি সংস্করণের ফুটনোটে প্রবোধকুমার জানিয়েছেন: ‌‌আমার ব্যবহৃত এই ‘কৃষ্টি’ শব্দটা নিয়ে তৎকালে সাহিত্য-সমাজে একটা বাদানুবাদ উপস্থিত হয়। রবীন্দ্রনাথ সর্বপ্রথমে (নভেম্বর ১৯৩৩) আমাকে লেখেন, ‘‘‘কৃষ্টি’ শব্দটা ভাষায় কুশ্রী অপজনন। অন্যত্র ‘সংস্কৃতি’ শব্দটাই প্রচলিত— এটা ভদ্র সমাজের যোগ্য।’’ তখনকার বহু সাময়িক পত্রে নানা বাকবিতণ্ডার পর রবীন্দ্রনাথের ‘সংস্কৃতি’ই ভোটাধিক্যে জয়লাভ করেছিল। মনে করি, ‘সংস্কৃতি’ শব্দটি বাংলা ভাষায় প্রচলনে সুনীতিকুমার ও রবীন্দ্রনাথ উভয়েরই অবদান আছে। রবীন্দ্রনাথ একটু বেশি মাত্রায় তৎপর ছিলেন।

রঞ্জিতকুমার দাস বালি, হাওড়া

 

রেল ও প্রবীণ

প্রবীণদের জন্য রেল কর্তৃপক্ষ কিছু ছাড়ের ব্যবস্থা রেখেছেন ঠিকই, কিন্তু তার সঙ্গে যন্ত্রণারও ব্যবস্থা রেখেছেন। প্রবীণদের জন্য সিট রিজার্ভেশনের ক্ষেত্রে কোনও অপশন রাখা হয়নি। বাধ্যতামূলক ভাবে নীচের সিট-ই তাঁকে নিতে হবে। যেটা কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে সুবিধাজনক হলেও, অনেকে তা পছন্দ না-ই করতে পারেন। কারণ, ওপরের বার্থের যাত্রীরা সারা দিন নীচের সিটে বসে থাকেন। ফলে নীচের বার্থ পাওয়া প্রবীণ নাগরিককেও সারা দিন বসেই কাটাতে হয়।

শুধু তা-ই নয়, প্রবীণ নাগরিক হলে, নীচের সিট দেওয়ার জন্য, স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে যাত্রা করার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনে আলাদা-আলাদা কোচেও পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আমি এবং আমার স্ত্রী দু’জনের বয়সই ষাট বছরের ঊর্ধ্বে। হাওড়া থেকে যশবন্তপুর যাওয়ার জন্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে ই-টিকিট কাটি। যেহেতু ই-টিকিটে টিকিট সম্পূর্ণ না করলে সিট নম্বর জানার কোনও সুযোগ থাকে না, তাই আমাদের টিকিট যখন বের হল, দেখা গেল এক জনের এ২-১৫ অন্য জনের এ৩-১৫। অথচ আমার অপশন ছিল— নীচের এবং ওপরের জন্য।

তাই রেল কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, প্রবীণদের সুবিধার জন্য শুধু তাঁদের অপশনটাকেই গুরুত্ব দেওয়া হোক, বাধ্যতামূলক নীচের সিট ব্যবস্থা না করে। এর সঙ্গে ই-টিকিটের ক্ষেত্রে, ভাড়ার টাকা কাটার আগে জানিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকুক, কোন সিট সংরক্ষিত হল।

কানন চট্টোপাধ্যায়  শ্রীরামপুর, হুগলি

 

আলো বাতিল

এখন বাজারে বিদ্যুৎ সাশ্রয়কারী সিএফএল, এলইডি বাতি আসায় সর্বত্র উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন (১০০, ২০০, ৫০০, ১০০০ ওয়াট) ভাস্বর বাতির ব্যবহার কমেছে ঠিকই, কিন্তু পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সস্তা হওয়ার কারণে, যেখানে বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার প্রয়োজন হয় না, সেখানে এখনও এই সব বাতির ব্যবহার চালু। যেমন হুকিং করে পাড়ায় পাড়ায় ক্যারম, টেনিস, ব্যাডমিন্টন খেলা। গ্রামেগঞ্জে অলিতে-গলিতে, ক্লাব, পুজোমণ্ডপে। তাই সরকারের উচিত ১০০, ২০০, ৫০০, ১০০০ ওয়াটের ভাস্বর বাতির উৎপাদন পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দেওয়া। তাতে লোকে বাধ্য হবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়কারী বাতি কিনতে। শক্তির অপচয় অনেকটা হ্রাস করা যাবে।

সুজয়কুমার চন্দ  রায়পুর, উত্তর দিনাজপুর

 

‘আধা’ সেনা?

‘প্যারামিলিটারি ফোর্স’ কথাটির বঙ্গানুবাদ করা হয়েছে ‘আধাসেনা’ বা ‘আধাসামরিক বাহিনী’। ‘আধা’ বিশেষণটি কোনও আধুনিক, সুশিক্ষিত বাহিনীর সম্বন্ধে মর্যাদাপূর্ণ নয়। প্যারা-টিচার শব্দটির বাংলা করা হয়েছে পার্শ্বশিক্ষক। তা হলে আধাসেনার পরিবর্তে ‘পার্শ্বসেনা’ শব্দটি প্রয়োগ করলে কেমন হয়? এ ছাড়া নৈকট্য, সাদৃশ্য, ন্যূনতা প্রভৃতি বোঝাতে শব্দের আগে ‘উপ’ ব্যবহার করা হয় (উপকূল, উপবন, উপগ্রহ), তা হলে ‘উপসেনা’ শব্দটিও ব্যবহার করা যেতে পারে।

মলয় বসু  কলকাতা-১২২

 

শুশুনিয়ার লিপি

বাঁকুড়ার গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনস্থল শুশুনিয়া পাহাড়। এখানেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রাচীনতম শিলালিপি। যা চন্দ্রবর্মণের শিলালিপি নামে খ্যাত। ব্রাহ্মী হরফে সংস্কৃত ভাষায় লিখিত লিপিটির সময়কাল আনুমানিক চতুর্থ শতক। ইংরেজ আমল থেকেই লিপিটি পুরাতত্ত্ব দফতর কর্তৃক সংরক্ষিত হত। এখনও এটি সংরক্ষিত জাতীয় স্মারক। যদিও সংরক্ষণের চিহ্নমাত্র নেই। নেই কোনও কর্মী। উচ্ছৃঙ্খল পর্যটক লিপি সুরক্ষার তারের বেড়া কেটে দিয়েছে। লিপির পাশেই চক দিয়ে বা খোদাই করে লেখা হচ্ছে প্রেম-পিরিতির হাজারো নিদর্শন!

শুভম মুখোপাধ্যায়  বড়জোড়া, বাঁকুড়া

 

পুরুষের ওভারি!

২১ জানুয়ারি বাঁশদ্রোণীর এক ক্লিনিকে আমার ‘হোল অ্যাবডোমেন সিটি স্ক্যান’ করাই। রিপোর্ট পাওয়ার পরে দেখা গেল, আমার ইউটেরাস এবং ওভারি সম্বন্ধেও বিশদ বিবরণ দিয়েছেন ডাক্তার। আমি এক জন ৭১ বছরের পুরুষ। রিপোর্ট প্যাড-এ তা লেখাও আছে। ডাক্তার তাঁর সইয়ের নীচে ওঁর রেজিস্ট্রেশন নম্বরও দেননি। আমি তাদের ফি বাবদ ৯,৪০০ টাকা দিয়েছি। যোগাযোগ করা হলে তারা বলে, ‘ভুল হয়ে গেছে। আপনি রিপোর্টটা নিয়ে আসুন। আমরা ওটা পালটে ঠিক রিপোর্টটা দিয়ে দেব।’

দীপককুমার চক্রবর্তী  কলকাতা-১০৩

 

প্লেটলেটের লাফ

‘ভূত তাড়াতে হঠাৎ হানা প্যাথ-ল্যাবে’ (২৫-১) শীর্ষক খবরের প্রেক্ষিতে এই চিঠি। কিছু দিন আগে যখন ডেঙ্গি মহামারি চলছিল, দমদম ছাতাকল এলাকার এক ল্যাব থেকে সোনোগ্রাফিসহ রক্তের বহু পরীক্ষা করাতে হয়। রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তারবাবুর কাছে যেতেই তিনি আঁতকে ওঠেন। আমার রক্তের প্লেটলেট মাত্র ৪৮ হাজার। প্রমাদ গুনলাম। ডাক্তারবাবু আবার আমাকে ডেঙ্গির পরীক্ষাসহ রক্তের প্লেটলেট পরীক্ষা করাতে বললেন। পর দিন পরীক্ষা হল। ডেঙ্গি নেই, তবে প্লেটলেট সামান্য বেড়ে হল ৬৮ হাজার। ডাক্তারবাবু আবার অন্য এক বড় জায়গায় প্লেটলেট পরীক্ষা করাতে বললেন। দমদম স্টেশনের কাছে এক ল্যাবে পরীক্ষা করালাম। এ বার হল ১ লক্ষ ৬৫ হাজার। এক দিনের ব্যবধানে আমার প্লেটলেট এমন লাফ দিল!

অপরেশচন্দ্র সেন  কলকাতা-৮০

 

মোরগ হইতে

অনেক বাড়িতেই দরজায় লেখা থাকে ‘কুকুর হইতে সাবধান’। কিন্তু ‘মোরগ হইতে সাবধান’ এমন সতর্কতাসূচক বাক্য কেউ দেখেছেন কখনও? গতকাল অফিস যাওয়ার রাস্তায় এক বাড়ির সদর দরজায় লেখাটা দেখে প্রথমে ভেবেছিলাম কোনও রসিকের কাণ্ড। কিন্তু কৌতূহল মেটাতে খবর নিয়ে শুনি, ওই বাড়িতে কতকগুলি মোরগ থাকে যারা মোরগ-লড়াইয়ে অংশ নেয়। এই ধরনের মোরগ খুব হিংস্র হয়। কয়েক দিন আগে পথচলতি এক জনকে মারাত্মক ভাবে জখম করার পর থেকেই এটা লেখা হয়েছে। এর পর হয়তো কোনও দিন দেখতে পাবেন ‘মানুষ হইতে সাবধান’ লেখা জ্বলজ্বল করছে। কারণ, মানুষের হিংস্রতাও ক্রমশ বাড়ছে।

অমরনাথ কর্মকার  কলকাতা-১৫০

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়