সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সম্পাদক সমীপেষু: কবিকণ্ঠের রেকর্ডিং

Rabindranath Tagore

কলকাতার কড়চা-য় লেখা হয়েছে, “রবীন্দ্রনাথের কণ্ঠ প্রথম রেকর্ডিং হয় ১৯৩২ সালের এপ্রিল মাসে” (‘আর এক অযান্ত্রিক’, ২৪-২)। প্রকৃত ঘটনা কি তা-ই? বিশ শতকের গোড়ায় সফলতম বাঙালি উদ্যোগপতি ও ব্যবসায়ী ছিলেন হেমেন্দ্রমোহন বসু বা এইচ বোস। ১৯০০ সালে হেমেন্দ্রমোহন এডিসনের ফোনোগ্রাফ মেশিন ও তার প্রযুক্তি কেনেন। 

১৯০৪ সালে হেমেন্দ্রমোহন তাঁর ৬৩/১ হ্যারিসন রোডের সাইকেল তৈরির কারখানাতেই ‘এইচ বোসেস রেকর্ডস’ নামে সিলিন্ড্রিকাল বা চোঙার আকৃতির রেকর্ড তৈরি ও বিক্রির কাজ শুরু করেন। ১৯০৬-এর ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ৪১ ধর্মতলা স্ট্রিটের মার্বেল হাউসে ‘দ্য টকিং মেশিন হল’ নামে ফোনোগ্রাফ মেশিন ও সিলিন্ড্রিকাল রেকর্ডের প্রতিষ্ঠান খোলেন। প্রতিষ্ঠানটি পরে বৌবাজার স্ট্রিটের ‘দেলখোস হাউস’-এ স্থানান্তরিত হয়। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে রবীন্দ্রনাথের কয়েকটি দেশাত্মবোধক গান ও কবিতা আবৃত্তির রেকর্ডিং করেন হেমেন্দ্রমোহন। সেই সময় রবীন্দ্রনাথের অন্তত ১৪টি গান মোমের সিলিন্ডারের উপর রেকর্ড করা হয়েছিল। সেগুলি পরে সিলিন্ড্রিকাল রেকর্ড থেকে ‘প্যাথে’ ডিস্ক রেকর্ডে স্থানান্তরিত করা হয়।

১৯০৬-এর ১৬ ফেব্রুয়ারি ‘বেঙ্গলী’ পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যম হেমেন্দ্রমোহন জানান যে কিছু দিনের মধ্যেই বেশ কয়েকটি ডিস্ক রেকর্ড বাজারে চলে আসবে তাঁর প্রতিষ্ঠানের প্রচেষ্টায়। ১৯০৮-এ ফ্রান্সের বিখ্যাত রেকর্ডিং কোম্পানি ‘প্যাথে’-র সাহায্য ‘প্যাথে-এইচ বোস ডিস্ক রেকর্ড’-এ রবীন্দ্রনাথের কণ্ঠের গান ও আবৃত্তি নতুন করে রেকর্ডিং করা হয়। সিলিন্ড্রিকাল ও ডিস্ক রেকর্ডগুলির মধ্যে শেষ পর্যন্ত মাত্র একটি ডিস্ক রেকর্ডই রক্ষা পায়। রেকর্ডটির এক পিঠে আছে কবি কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম্’ গান এবং অন্য পিঠে ‘সোনার তরী’ কবিতার আবৃত্তি। 

অমল হোম লিখেছেন, “বড় দুঃখের কথা, স্বদেশী যুগে রবীন্দ্রনাথের তেজদৃপ্ত কণ্ঠের সে উদ্দীপ্ত সংগীতগুলির রেকর্ড প্রায় সবই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সেগুলি থাকলে আজ লোকে জানতে পারত কী বীর্যবন্ত ছিল সে-কণ্ঠ।... ভুল ধারণা আছে, রবীন্দ্রনাথের গলা ছিল মেয়েলি। একেবারেই নয়।” (‘রবীন্দ্রসঙ্গীত-স্মৃতিকথা’: এক দুই তিন, ১৩৬৫)।

রবীন্দ্রনাথের কণ্ঠের সংরক্ষিত দ্বিতীয় রেকর্ডটি আছে জার্মানির বার্লিনের হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কাইভে, যার উপরে রবীন্দ্রনাথের সইও আছে। ১৯২১ সালের ১ জুন কবি সেখানে ‘দ্য মেসেজ অব দ্য ফরেস্ট’ বক্তৃতাটি দেন। বার্লিনের নাগরিকদের অনুরোধে কবি আবার বক্তৃতাটি দেন ফ্রেডরিক উইলহেল্‌ম (এখনকার হামবোল্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ে, ২ জুন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৪ জুন হোটেল এসপ্লানেডে কবিকণ্ঠে বক্তৃতাটির শেষ অংশ রেকর্ড করেন। 

বক্তৃতাটির শেষ বাক্যে কবি জোরালো ভাষায় হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ইত্যাদির সক্রিয় সহযোগিতায় তৈরি ভারতবর্ষের অন্তরের ঐক্যের কথা বলেছিলেন।

পীযূষ রায়

কলকাতা-৩৪

রামমোহন

রূপালী গঙ্গোপাধ্যায় ‘কোথায় সেই বিজ্ঞানচেতনা’ (৪-৩) শীর্ষক নিবন্ধে লিখেছেন, অক্ষয়কুমার দত্তের ‘চারুপাঠ’ বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার প্রথম মাইলফলক। কিন্তু ‘বঙ্কিম স্মারকগ্রন্থ’ (২০১৬) থেকে একটি উদ্ধৃতি দিই: ‘‘এ দেশীয়দের মধ্যে বিজ্ঞানগ্রন্থ রচনায় যিনি সর্বপ্রথম উদ্যোগী হন তিনি রামমোহন। তিনি বাংলায় একটি ভূগোল লিখলেন নাম, ‘জ্যাগ্রাহী’। এ ছাড়া জ্যোতির্বিদ্যার বই নাম, ‘খগোল’ এবং একটি জ্যামিতি।’’

শ্যামল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

নৈহাটি, উত্তর ২৪ পরগনা 

 

কন্যাশ্রী 

স্বাতী ভট্টাচার্যের ‘এই মুহূর্তটাই নারী দিবস’ (৮-৩) শীর্ষক নিবন্ধের প্রেক্ষিতে এই চিঠি। বহিরঙ্গে শহুরে অন্তরে গ্রাম্য একটি এলাকায় সরকার পোষিত একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা হল, প্রশাসনিক গাফিলতিতে কন্যাশ্রী প্রকল্পের সাফল্য সঠিক ভাবে সর্বস্তরে পৌঁছচ্ছে না। 

বছর দুয়েক আগের একটি ঘটনা বলি। ছাত্রছাত্রী মারফত জানতে পারলাম, অষ্টম শ্রেণির এক নাবালিকা ছাত্রীর বিয়ে দিতে তার বাবা-মা উদ্যোগী হয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে বাবা-মা দু’জনকেই ডেকে পাঠালাম পত্র মারফত। তাঁরা এলেন না। এলাকার থানায় ব্যাপারটি লিখিত ভাবে জানাই, আশ্বাস পাই যে বিয়েটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। 

কিন্তু খবর পাই, বিবাহ সুষ্ঠু ভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। 

কিছু দিন পর এক দল লোক আমার সঙ্গে দেখা করতে এলেন। তাঁরা বললেন, ‘‘মনে রাখবেন, আপনি বহিরাগত (আমি কাজের প্রয়োজনে রোজ রহড়া থেকে হাবড়া যাতায়াত করি) আর আপনি প্রধান শিক্ষক, সমাজ সংস্কারক নন।’’ 

নাবালিকা ছাত্রীর বিয়ে রোখা নিয়ে আলোচনায় বেশ কিছু অভিভাবক বলেছেন, ‘‘আপনি মেয়েদের ভার নিন, পড়াশোনা শিখিয়ে চাকরি লাভের লিখিত গ্যারান্টি দিন। তা যদি না পারেন, বিয়েতে বাধা দেবেন না।’’ 

লেখিকা অত্যন্ত জরুরি ও সঠিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন, ‘‘কন্যাশ্রীর পঁচিশ হাজার টাকাকে মেয়ের বাপ-মা আঠারো বছরে মেয়ের বিয়ের লাইসেন্স বলে ধরে নিয়েছে, সরকার কি তা জানে না?’’ বহু মেয়ের বাবা-মা’কে দেখেছি, মেয়ের বয়স ১৮ বছর ১ দিন হলেই, কন্যাশ্রীর ২৫,০০০-এর সঙ্গে আরও কিছু টাকা জোগাড় করে বুক ফুলিয়ে মেয়ের বিয়ে দিচ্ছেন। 

কন্যাশ্রীর অপব্যবহার ঠেকাতে, কন্যাশ্রী-২’এর ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ (যেমন ১৮ বছরের পর অন্তত ২ বছর পড়াশোনা করতে হবে) জারি করা প্রয়োজন। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হওয়ার পরেই যারা পড়াশোনা ত্যাগ করছে, তাদের সম্পর্কে ভাবনাচিন্তা করা জরুরি। এক কথায়, যান্ত্রিক ভাবে কন্যাশ্রী প্রকল্প নিয়ে ঢক্কানিনাদ না করে, নিবিড় পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ জরুরি।

শোভনাভ ভট্টাচার্য

প্রধান শিক্ষক, আক্রমপুর হাই স্কুল 

 

টিকিট নিয়ে

‘টিকিট কাটুন’ (১৬-৩) শীর্ষক িচঠির পরিপ্রেক্ষিতে নিজের অভিজ্ঞতা বলছি। গত ১৬-১২-১৯ তারিখে এনআরসি-বিরোধী বিক্ষোভের জেরে মেচেদা স্টেশন সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ড থেকে বাস বন্ধ ছিল। এসবিএসটিসি-র বাস ধরি হলদিয়া যাওয়ার জন্যে। কন্ডাক্টর ওঠার সময়েই জানিয়ে দেন, পুরো ভাড়া লাগবে। ননস্টপ বাস, ভাড়া ১২৫ টাকা। নিমতৌড়ি এসে অবরোধের কারণে বাস অনেক ক্ষণ দাঁড়ায়, ওঠার পর থেকে কন্ডাক্টরকে বহু বার ভাড়া দিতে গেলেও উনি নেননি। শেষে সিটি সেন্টার নামার সময় উনি ভাড়া চান এবং আমাকে হতভম্ব করে ১০০ টাকা নেন! আমি টিকিট চাইবার আগেই বাস ছেড়ে দেয়। বুঝতেই পারি, ওটা হিসেবে আসবে না। পরে বাসের অন্য যাত্রীদের কাছে শুনি, এটা প্রতি দিনের ব্যাপার।

অভিজিৎ ঘোষ

বাসুদেবপুর, পূর্ব মেদিনীপুর

 

দু’টি গান

গীতিকার হিসেবে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্কে আলোচনা ‘ডাকহরকরা’ ছবির দু’টি গানের উল্লেখ ছাড়া অসম্পূর্ণ থেকে যায়। সুধীন দাশগুপ্তের সুরে গান দু’টি হল ‘ওগো তোমার শেষ বিচারের আশায়’ (কণ্ঠ: মান্না দে) এবং ‘কাচের চুড়ির ছটা’ (কণ্ঠ: গীতা দত্ত)। 

নির্মাল্য বর্মণ

সিউড়ি, বীরভূম

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু, 

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, 

কলকাতা-৭০০০০১। 

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

 
ভ্রম সংশোধন
 

‘স্টকহলমে’ (১৭-৩) শীর্ষক চিঠিতে লেখা হয়েছে, সুইডেনের জনসংখ্যা ১১ কোটি। তা হবে ১.০১ কোটি। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন