ধর্মান্তর নয় কেন?

‘ধর্মতলায় সভা ধর্ম বদলের, সঙ্গে গুন্ডামি’ (১৫-২) পড়লাম। গুন্ডামি নিশ্চয়ই কাম্য নয়, অত্যন্ত নিন্দনীয়। কিন্তু হিন্দুধর্মে ধর্মান্তরকরণ হলে আপত্তি কোথায়? আমি ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে বলছি, কোনও একটা জিনিস আগে কখনও হয়নি, তাই এখন হবে না— তার তো মানে নেই। তা হলে তো নতুন কিছুই ঘটত না!  যেমন এখন রোমান হরফে বাংলা ভাষার কথা ভাবা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের নাম বদল নিয়ে বিতর্ক হয়েছে, কখনও সাংবিধানিক ধারা বদলাচ্ছে, সমকাম স্বীকৃত হচ্ছে এবং সমকামীদের বিবাহ স্বীকৃতি লাভ করেছে, কত বছর আগে বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়েছে, সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত হয়েছে— আরও কত কী। অন্য ধর্মে ধর্মান্তরকরণ হয়, হিন্দুধর্মে নয় কেন? কত বিদেশি তো মায়াপুরে বৈষ্ণব ধর্ম গ্রহণ করেছেন। অতি সম্প্রতি, মি. ফোর্ড মায়াপুরে বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত হয়েছেন। যদি কেউ অন্য ধর্মান্তরিত হওয়ার পর আবার হিন্দুধর্মে ফিরতে চান, বা অন্য ধর্মের লোক হিন্দুধর্ম গ্রহণ করতে চান, তা হলে তাঁকে গ্রহণ করতে বাধা কোথায়? এ উদারতা তো থাকা উচিত। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা যখন ইচ্ছে দল-বদল করছেন, শুধু হিন্দুধর্মের বেলায় দোষ?

অর্চনা ভট্টাচার্য,
ক্রুকেড লেন, চুঁচুড়া, হুগলি

হিন্দুধর্মেও হয়

১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ধর্মান্তরকরণ ঘিরে হিন্দু সংহতির সঙ্গে পুলিশের ঝামেলা প্রসঙ্গে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের মন্তব্য ‘হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরকরণ হয় বলে আমার জানা নেই’(১৫-২) একটু বিস্ময়কর মনে হল। আমরা জানি ইসকন-এর লাখো মানুষ, এমনকী সিস্টার নিবেদিতা থেকে সম্প্রতি ফোর্ড গাড়ির কর্ণধার উইলিয়াম ফোর্ড তথা অম্বরীশ দাস সকলেই অন্য ধর্ম থেকে হিন্দুধর্মে দীক্ষিত হয়েছেন। এমন উদাহরণ আরও আছে।

স্নেহময় দাস,
রঘুনাথগঞ্জ, মুর্শিদাবাদ

নৈরাজ্যের শহর

‘গড়িয়া থেকে কেষ্টপুর, নৈরাজ্যের শহরে নিগৃহীত মহিলারা’ শিরোনামে সংবাদ (৯-২) পার্ক স্ট্রিট (২০১২) ও কামদুনি-র (২০১৩) বীভৎসতাকে মনে করিয়ে দেয়। সে-দিনের দোষীরা সাজা পেলেও সেই পরিবেশ আজও এই শহরের মহিলাদের যে তাড়া করে বেড়াচ্ছে, খবর পড়েই বোঝা যায়। এই শহরে মহিলাদের নিরাপত্তাহীনতা আগের মতোই বিদ্যমান আর ‘প্রশাসন’ নামক বস্তুটি ক্রমেই বিলীয়মান।

ভাবতে অবাক লাগে, এই কলকাতা তো মোদীর রাজ্যের শহর নয়, এমনকী যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যেরও নয়। তা হলে সম্প্রীতির এই বঙ্গের শহরে কেন মহিলাদের কোনও নিরাপত্তা নেই? কিসের মদতে বলীয়ান হয়ে এই শহরের বুকে ‘অটো রাজ’, ‘সিন্ডিকেট রাজ’ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে? দুষ্কৃতীরা মহিলাদের সম্ভ্রম কেড়ে নিতে দ্বিধাবোধ করছে না? অটো চালকদের হাতে যাত্রীদের নিগ্রহ প্রায় প্রতিনিয়ত ঘটে কী করে?

কিছু দিন আগে ক্লাবগুলিকে অনুদান দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী পাড়ার সম্প্রীতি রক্ষায় সচেতন হতে বলেছিলেন। কোথায় সেই সচেতনতা? কেষ্টপুরের এক ২২ বছরের তরুণীকে পাঁচ যুবক
কী করে ২০ মিনিট ধরে পিছনে ধাওয়া করতে পারল?

মিহির কানুনগো,
কলকাতা-৮১

‘ব্যক্তিগত’?

অতি সম্প্রতি একটি শিরোনাম, ‘পারিবারিক হিংসায় পশ্চিমবঙ্গ প্রথম’, সকলকে নাড়িয়ে দিয়েছে। অবশ্যই এই হিসাব শুধু সেই ঘটনাগুলিকে নিয়ে, যেগুলি থানা বা আদালতে নথিভুক্ত। ধর্ষণ, খুন, আত্মহত্যা, মহিলাদের প্রতি নানা ধরনের নির্যাতন আজ সত্যি লাগামছাড়া। দু’চার জন পুরুষও হয়তো মাঝে মাঝে নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকেন, তবে তাঁদের সংখ্যাটা খুবই নগণ্য। এখনই বিশেষ ব্যবস্থা না নিলে অদূর ভবিষ্যতেই ধর্ষণ, খুন, আত্মহত্যা মহামারির চেহারা নেবে। সকলেই জানেন, প্রতি পাড়াতেই কিছু কিছু বাড়ি থাকে, যেগুলিতে প্রত্যহ অকথ্য গালিগালাজ, বাড়ির বউকে মারধর, বাবা, মা’কে মারধর ও অন্যান্য অত্যাচার, শ্বশুর-শাশুড়ির উপর অত্যাচার, মদ খেয়ে অসভ্য মাতলামো, শিশুদের প্রতি নির্মম আচরণ ইত্যাদি চলে, অথচ নানা কারণেই থানায় কোনও নালিশ হয় না। প্রতিবেশীরা অনেক সময়ই এই ঘটনাগুলিকে ‘ব্যক্তিগত’ বা ‘পারিবারিক’ ব্যাপার বলে এড়িয়ে যান। আগামী দিনে হয়তো ওই পরিবারগুলিতেই খুন, আত্মহত্যা, শিশুহত্যা, বধূহত্যা ইত্যাদি ঘটবে। তখন আর কেঁদে বা পুলিশের সামনে ‘অনেক দিন ধরে চলছে, স্যর’— এ সব বলে কী হবে?

যে সব ঘটনা সমগ্র সমাজকে বিষাক্ত করে, সেগুলিকে আর ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সমস্যা বলা যায় না। এগুলি হয়ে দাঁড়ায় সামাজিক সমস্যা। তাই সমাজেরও কিছু দায়িত্ব থেকে যায়। সাধারণত পরিবারের দু’এক জন বেয়াড়া সদস্য এই অপকর্মগুলি ঘটিয়ে থাকে। থানার অফিসাররা তাদের ডেকে ধমকে দিলেই অনেকটা কাজ হবে। এখন প্রশ্ন, থানাকে জানাবেই বা কে? সম্প্রতি আমাদের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘ক্লাবগুলিকে এলাকায় নজর রাখতে হবে।’ অত্যন্ত সময়োচিত নির্দেশ। উপরোক্ত সমস্যাগুলিরও সমাধানের দায়িত্ব দেওয়া হোক পাড়ার ক্লাবগুলিকে। তারা আর কিছু পারুক বা না পারুক, থানায় খবর তো দিতে পারবে, যে কাজটা প্রাণভয়ে বা অন্য কোনও ভয়ে অত্যাচারিত বাড়ির লোকেরা করতে পারছেন না।

সমীর সরকার,
সিউড়ি, বীরভূম

অমুক সেনা

‘প্রেমবিরোধী সেনা...’ (১০-২) লেখাটিতে ঈশা দাশগুপ্ত মূলত প্রেমের মুক্তি চেয়েছেন, কিন্তু তা পড়ে কিছু প্রশ্নও মনে এল। মানুষ যখন ধাক্কা খায়, ব্যথায় কাতর হয় তখন সে একটা প্রশমনের জায়গা খোঁজে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সেখানে পরিবারের বড় ভূমিকা থাকে। তার মধ্যে অমুক কাকু, অমুক দিদি, তমুক মাসিমারাও থাকেন। আমাদের অনেকের জীবনেই তাঁদের ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে। প্রেম সম্পর্কে তাঁদের বিবেচনা অনেক ক্ষেত্রেই বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই মনে হয় এমন জেঠু-জেঠিমা, এমনকী দাদু-দিদিমাকে জানি, যাঁদের প্রেম অনেক প্রেরণা জোগাতে পারে। ছবি বিশ্বাস, কমল মিত্র, সন্ধ্যারানি থেকে যে যৌবন রসদের সন্ধান করতে পারে, তার প্রেমানুভূতি কিছু কম হয় কি?

আজকের প্রজন্মের মধ্যে বাড়তে থাকা হতাশা, অবসাদ ও একাকিত্বের একটা বড় কারণ: ঠিক অভিভাবকের অভাব। আত্মসমীক্ষার প্রশ্ন না তুলে শুধুমাত্র বহির্মুখী প্রবণতাকে উৎসাহ দিতে থাকলে এক সময় যে ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়, তা এখন চারিদিকে দেখা যাচ্ছে। এখানে পূর্বজদের অভিজ্ঞতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখনকার মানুষ এখনকার মতো করেই বাঁচছে এবং পূর্বজদের কাছে তার কোনও দাবি নেই, এ মনে হয় নিতান্তই বিচ্ছিন্নতার যাপন; ছিন্নমূলের মতাদর্শ!

প্রেম ও প্রেমানুভূতির যে বিশাল জগৎ তাকে কেবলমাত্র একটি দিনে ও সংকীর্ণ পরিসরে আবদ্ধ করাটা বিরাট আত্মপ্রবঞ্চনা বলেই মনে হয়! ভ্যালেনটাইন’স ডে উদ্‌যাপন নিয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি মানেই ‘প্রেমবিরোধী’ বলে দেগে দেওয়াটাও তো মনে হয় এক রকম ‘অমুক সেনা’ মানসিকতা।

প্রতাপ রুদ্র,
কলকাতা-৭৪

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়