রেলের টিকিট কাউন্টার। লাইনে দাঁড়িয়েছেন দূর গ্রামের এক যাত্রী। তিনি গুছিয়ে কথা বলতে পারেন না, পয়সার হিসেব ঠিকঠাক বোঝেন না। আর তাতেই ঘটল বিপত্তি। কাউন্টারে ডিউটিরত ছিলেন ভদ্র পোশাকে সজ্জিত এক মহিলা। ওঁর কথা স্পষ্ট বুঝতে না পেরে তিনি মেজাজ হারালেন, মুখঝামটা দিয়ে বললেন, ‘‘কথা বলতে পারে না, বোঝে না, কোত্থেকে যে সব জোটে!’’

এ অভিজ্ঞতা আমাদের অনেকের। নানা ধরনের লাঞ্ছনা নিত্য বইতে হয় কম-লেখাপড়া-জানা কিংবা কম-রোজগেরেদের। বাঙালি সমাজে উঁচু তলার মানুষ তথা প্রতিপত্তিশালীরা নিচু তলার মানুষ তথা গরিবদের হেয়জ্ঞান করে। শ্রদ্ধাহীন এ মনোভাব বহু শতাব্দীর।

শরৎচন্দ্রের ‘মহেশ’ গল্পে জমিদার তর্করত্ন দরিদ্র গফুর মিঞাকে গফরা, হারামজাদা কিংবা ছোটলোক বলে সম্বোধন করেছেন। গফুররা এ ধরনের সম্মানহীন জীবন নিয়েই বেঁচে থাকেন। রবীন্দ্রনাথ শ্রী লক্ষ্মীশ্বর সিংহের ‘কাঠের কাজ’ বই প্রসঙ্গে লেখেন, ‘‘ভদ্রলোকের ভয়ে ছুতারের কাজ নাম দিতে পারেন নাই।’’ কায়িক শ্রমকে ঘৃণার চোখে দেখে ভদ্রলোক সমাজ, কাজেই ছুতার শব্দটি প্রয়োগ করলে পাছে ভদ্রলোকরা বই না ছোঁয়! এ আশঙ্কার কথাই বলেছিলেন কবি। গরিব নয় কিন্তু পেশায় নিম্নপদস্থ বলে তিনিও হতে পারেন ঘৃণার পাত্র। বনফুলের ‘নিত্য চৌধুরী’ গল্পে পড়ি, নিত্যর বাবা ছিলেন জমিদারের কর্মচারী। তিনি সেরেস্তায় পাটোয়ারি পদে বহাল ছিলেন। তাঁর ছিল হাজার বিঘে জমি, গোয়ালভরা গরু। ঠাটবাটের জীবন বলা যায়। তবু তো নিত্য চৌধুরীকে বলতে শোনা গিয়েছে: ‘‘আমার কাছে কেউ আসে না ভাই। আমি দেওয়ানজির ছেলে বলে বোধ হয় সবাই আমাকে ঘেন্না করে।’’

সদানন্দ পাল এক জন কুম্ভকার। নানা কারিগরি কাজও জীবনে করেছেন। বই লিখেছেন— ‘একা কুম্ভ’। প্রকাশিত হয়েছে ২০০৯-এর ডিসেম্বরে। এ বই পড়লে লজ্জায় অধোবদন হতে হয়। লিখেছেন: ‘‘আমি মৃৎশিল্পী। চাকা ঘুরিয়ে জল-কাদামাটি দিয়ে দেবীপূজার ঘট গড়ি। জলখাবার গ্লাস গড়ি, খুড়ি, কটরা গড়ি। তা গড়তে গিয়ে শরীরে জল-কাদা মাখে। তাই খালি গা, হাঁটুর উপরে ধুতি, ধুতির উপরে গামছা জড়ানো থাকে। এ কাজের এমনিই সাজ। এমনি সাজ স্ত্রী-সন্তানদেরও। ওরাও কাজ করে। তা দেখে শিক্ষিত, আধুনিক সম্প্রদায় শিল্পীর মর্যাদার পরিবর্তে জমিদারি চালে তুই-তোকারি করে। এ বদভ্যাস এই সম্প্রদায়ের মহিলাদের বেশি। একদিন খুব খুশি হয়েছিলাম। বছর দশেকের একটি মেয়ে ওর মায়ের সঙ্গে দোকানে এল। অবশ্যই আঁতেল শ্রেণির। পিঠে স্কুলব্যাগ। সঙ্গে মা। মেয়েটি একটা লক্ষ্মীর ঘট দেখিয়ে বলল, ওই ঘটটা দিন তো কাকু। দিলাম। বলল, ‘কত দাম?’ —চার আনা। ‘কুড়ি পয়সায় দেবেন তো?’ বললাম, দাও। আমার মুখে ‘দাও’ কথাটা শুনে ওর মা আমার দিকে এমন করে তাকালেন— যেন মস্ত অন্যায় করে ফেলেছি। যেতে যেতে তাঁর মেয়েকে বললেন, ওদের আপনি বলতে নেই। মুচি মেথর সব্জিআলাদের তুই বলবে। সঙ্গে সঙ্গে মনে হল মহিলার সাজপোশাক আসলে ভদ্রতার বোরখা। মুখটা মুখোসের মুখ।’’

আমরা সংস্কৃতিমান বলতে কোনও শ্রমজীবীকে বুঝি না, আজও তাঁদের ঘৃণার চোখে দেখি। ভদ্রলোক সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বিশেষ বদলায়নি।

শিবাশিস দত্ত

কলকাতা-৮৪

ছাই উড়ছে

মেজিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছাইতে বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। জমিতে ছাই পড়ে জমিগুলি চাষের অযোগ্য হয়ে উঠছে। পুকুরে মাছ চাষ প্রায় বন্ধ। ছাইয়ের দূষণে মাঠের ঘাস খেয়ে গরু-ছাগল রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ছে। ঝড় উঠলে ছাইয়ের গুঁড়ো আকাশ ছেয়ে ফেলে, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

বীরেন সরকার

অরবিন্দনগর, বাঁকুড়া

বাইরে বগি

ব্যান্ডেল স্টেশনে ৪নং প্ল্যাটফর্মে রাত্রে দূরপাল্লার কিছু ট্রেন দেওয়া হলে, ট্রেনের চার-পাঁচটা বগি প্ল্যাটফর্মের বাইরে থেকে যায়। যার মধ্যে মহিলা বগি ও রিজ়ার্ভ বগিও থাকে। লাইন টপকে অন্ধকারে নীচ থেকে বগিতে উঠতে গিয়ে মহিলা ও বাচ্চাদের বড় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থেকে যায়।

অশোক কুমার কর্মকার

সোমড়া বাজার, হুগলি

ট্রেনে

গত ২৮-৫ আমরা ছ’জন বেনারস যাই এবং ১-৬ তারিখে বেনারস থেকে হরিদ্বার যাওয়ার জন্য টিকিট কাটা হয়েছিল (ট্রেন নম্বর ১৪২৬৫)। ৩১-৫ রাত্রি ৯:১৪ মিনিটে ফোনে মেসেজ আসে যে ট্রেনটি বাতিল করা হয়েছে। এত রাতে বিভিন্ন জায়গায় দৌড়োদৌড়ি শুরু করলাম, দালাল ধরে বিভূতি এক্সপ্রেস তৎকালে টিকিট কাটলাম ৩-৬ তারিখে।

সে দিন সন্ধ্যা ৬:০২ মিনিটে বেনারস স্টেশনে গাড়িটি ঢোকে,  কিন্তু দেখা যায় অসম্ভব ভিড়, আমরা উঠতেই পারছি না, সব কোচেই এক অবস্থা। অনেক চেষ্টা করে উঠে লটবহর নিয়ে আমাদের নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছতে এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগল। আমাদের সিটে যাঁরা বসেছিলেন, তাঁদের হাত জোড় করে অনুনয় বিনয় করে কোনও মতে বসার ব্যবস্থা করি। কিন্তু সন্ধ্যা থেকে রাত্রি ৩:৪০ মিনিট পর্যন্ত বহু যাত্রীই বাথরুমে যেতে পারেননি, কারণ একটি পা ফেলার মতো জায়গা ছিল না। ট্রেনটি জসিডি স্টেশনে আসার পর ৯৫ শতাংশ খালি হয়ে যায়। এর মধ্যে কোনও টিটিই বা আরপিএফ-এর দেখা মেলেনি, কিন্তু ট্রেন খালি হওয়ার পর দেবতাদের দর্শন মেলে।

প্রভাকর মজুমদার

উত্তর কালিকাপুর, দ. ২৪ পরগনা

যানজট

বহরমপুর শহরের যানজটের দুর্বিষহ যন্ত্রণা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। এই শহরের প্রবেশমুখ পঞ্চাননতলায়, ৩৪নং জাতীয় সড়কের উপরে রেলগেট থাকার জন্য এবং রেল চলাচলের সময় রেলগেট দীর্ঘ ক্ষণ বন্ধ থাকার জন্য (শিয়ালদহ-লালগোলা রেলপথে দৈনিক ২৪ জোড়া ট্রেন যাতায়াত করে থাকে) ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। এই রেলগেটের দু’প্রান্তে তিনটি শ্রমিক ইউনিয়নের অাওতাধীন ট্রাক স্ট্যান্ড রয়েছে। এই ট্রাক স্ট্যান্ডে প্রতি দিন কয়েকশো ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকে রাস্তা দখল করে। ট্রাকগুলি চলাচল শুরু করলে তীব্র যানজট শুরু হয়। এই স্ট্যান্ডটিকে শহরের বাইরে কোথাও স্থানান্তরিত করলে, সমস্যা কিছুটা হলেও মিটবে মনে হয়।

তুষার ভট্টাচার্য

কাশিমবাজার, মুর্শিদাবাদ

জঞ্জালাশয়

আমি উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসত পুরসভার অন্তর্গত দক্ষিণপাড়া ৩০ নং ওয়ার্ডের এক জন বরিষ্ঠ নাগরিক। আমাদের অ্যাপার্টমেন্টের লাগোয়া একটি বড় জলাশয় আছে, যার প্রচলিত নাম ল্যারেঙ্গা পুকুর। জলাশয়টিকে জঞ্জালাশয় বললেও কম বলা হয়। বারাসত পুরসভার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ড্রেনের আবর্জনাময় বিষাক্ত জল সরাসরি এখানে পড়ে। স্থানীয় নাগরিকদের একটি অংশ জলাশয়টিকে ডাস্টবিন হিসাবে ব্যবহার করেন। এ রকম একটি জলাশয়েই প্রতিমা নিরঞ্জন হয়!

নিমাই চন্দ্র পাল

বারাসত, উত্তর ২৪ পরগনা

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়

 

ভ্রম সংশোধন

‘স্কুল হল অ্যাকাডেমি, গানের স্যরই গ্রুমার’ শীর্ষক সংবাদ প্রতিবেদনে (আবাপ, কলকাতা, ২১-৬) ব্যবহৃত ছবিটি বাণীচক্রের। প্রতিবেদনে এই প্রতিষ্ঠানের নামটি বাদ পড়ে গিয়েছিল। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।