মিলনের পুজো

• সরস্বতী পুজোয় স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা বাগ্‌দেবীর আরাধনায় মেতে উঠবে। ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার এই জটিল বাতাবরণে, মানুষের মন থেকে ধর্মান্ধতার শিকড়টাকে উপড়ে ফেলতে চাইলে, এই পুজোকে কেন্দ্র করে আমরা ছোট ছোট দু’একটা পদক্ষেপ নিতে পারি। বিদ্যাস্থানগুলিতে যেমন পুজোর আয়োজন হয় তেমনই হোক, তার সঙ্গে যুক্ত হোক একটি প্রদর্শনীর আয়োজন। এই প্রদর্শনীতে থাকবে মুসলমান ও খ্রিস্টান (সম্ভব হলে অন্য ধর্মেরও) আচার-অনুষ্ঠান-সংস্কৃতির বিবরণ। যেমন, হজরত মহম্মদ বা জিশু খ্রিস্টের সংক্ষিপ্ত জীবনী, সবেবরাত বা গুড ফ্রাইডে সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিবরণ। থাকতে পারে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কৃতী অথচ ভুলে যাওয়া মনীষীদের চিত্র সহযোগে জীবনী ও তাঁদের অবদানের কথা।

এর উদ্বোধনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে এলাকার বিশিষ্ট কোনও মুসলমান অথবা খ্রিস্টান সর্বমান্য ব্যক্তিকে। সরস্বতী পুজোর আমন্ত্রণপত্রে এই প্রদর্শনীর উল্লেখ বিশেষ ভাবে থাকবে। সেরা প্রদর্শনীকে সরকার কিংবা নাগরিক মঞ্চের পক্ষ থেকে পুরস্কৃতও করা যেতে পারে।

সংবাদপত্র ও বৈদ্যুতিন গণমাধ্যম যদি প্রদর্শনীর আয়োজকদের কথা গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করেন, ছেলে-মেয়েরা আরও বেশি উৎসাহিত হবেন। ছাত্রছাত্রীরা সরস্বতী পুজোকে সফল করতে যে ভাবে মেতে ওঠে, এই প্রদর্শনীকে সফল করে তুলতেও তাদের আন্তরিকতায় কোনও খামতি থাকবে না বলেই মনে হয়। একাধিক ধর্মের মানুষের মধ্যে পরিচয় বাড়িয়ে তোলার সুন্দর একটি উপায় হয়ে উঠতে পারে সরস্বতী পুজো।

শুভাশিস চক্রবর্তী

সংহতি পার্ক, উত্তর ২৪ পরগনা

পথ নিরাপত্তা

• মাঝে মাঝেই দেখি ঘটা করে পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ বা দিবস পালিত হচ্ছে। কিন্তু আসল কথা, রাস্তার রাজা বাস এবং অটো, অন্তত পশ্চিমবঙ্গে। এই মুকুটহীন অভব্য রাজাদের পায়ে যদি না বেড়ি পরানো যায়, হাজার পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ পালন করেও লাভ হবে না। সাধারণ নাগরিক হিসেবে আইনরক্ষকদের প্রতি কিছু প্রশ্ন: ১) কোন অধিকারে বাসচালকরা যেখানে সেখানে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলেন? ২) বাস লেন থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁরা পিছনের গাড়ির পথ আটকে মাঝ রাস্তা থেকে যাত্রী তোলেন বা নামান? ৩) লেন পালটানোর সময় হাত দেখানো বা ইন্ডিকেটর দেওয়ার সামান্য নিয়মটুকু মানেন না কেন? ৪) কেন এক জন বাসচালক নিরীহ পথচারীকে মেরে ফেলার পরও বিনা বাধায় জামিন পায়?

সঞ্জয় দত্ত

কলকাতা-৩৩

 

পুলিশের ব্যবহার

• ‘বাসে উঠে প্রৌঢ়কে মারায় অভিযুক্ত পুলিশ’ (৮-১) শীর্ষক খবরের প্রেক্ষিতে আমার অভিজ্ঞতার কথা জানাব। গত ১ জানুয়ারি দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে কল্পতরু উৎসবে যোগদান এবং মা ভবতারিণীকে দর্শন করতে গিয়ে লক্ষ করলাম দর্শনার্থীদের সঙ্গে পুলিশের রূঢ় ব্যবহার। পুণ্যার্থীরা কোনও প্রশ্ন করলেই পুলিশ উদ্ধত ভাবে জবাব দিচ্ছে। অনবধানতায় কাউন্টারে মোবাইল না জমা দেওয়ায়, জনৈক পুলিশ অফিসার আমাকে মন্দির চত্বরে প্রবেশের অনুমতি তো দিলেনই না, উপরন্তু আমি সিনিয়র সিটিজেন বলে অনুরোধ করাতে, অত্যন্ত রূঢ় ব্যবহার করে, ধাক্কা মেরে লাইন থেকে ঠেলে সরিয়ে দেন। অন্য দর্শনার্থীরাও ওঁর ব্যবহারের প্রতিবাদ করেন। উনি নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে উত্তর দেন ‘এটা আমাদের ডিউটি।’ সত্যিই, নিরীহ মানুষকে প্রহারও এঁদের ডিউটির মধ্যেই পড়ে বইকি!

শোভনলাল বকশি

কলকাতা-৪৫

 

বেআইনি অস্ত্র

• অশোকনগরে বেআইনি অস্ত্র কারখানার হদিশ মিলল। আমাদের রাজ্যে এই জাতীয় অবৈধ কারখানা নতুন কিছু নয়। এর আগে হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সন্ধান পাওয়া গেছে। অশোকনগরের অদূরে ভুরকুন্ডা পঞ্চায়েত এলাকার পুমলিয়া গ্রামের আমবাগানেই রমরমিয়ে চলত এই কারখানা! তাও আবার দশ বছর ধরে! পুলিশের নাকের ডগায় কী ভাবে গড়ে উঠল এই কারখানা?

অশোকনগর কাণ্ডে ইতিমধ্যে গ্রেফতারের খবর মিলছে। যারা ধরা পড়েছে তারা কোন দলের জানতে চাই না। জানতে চাই না কোন ধর্মের। সাধারণত, যদি বোঝা যায়, ধৃত ব্যক্তি অমুক রাজনৈতিক দলের, অমনি বাকি দলগুলো আসর গরম করতে নেমে পড়ে। এবং এমন ভাবে দোষারোপ করে, যেন তাদের নিজেদের সমর্থকরা কোনও দিন কোনও অসামাজিক কাজকর্ম করেনি! এই ধরনের রাজনীতিও আর চাই না।

সাধারণ মানুষকেও মনে রাখতে হবে, ‘হিন্দু না ওরা মুসলিম ওই জিজ্ঞাসে কোন জন...’, কারণ বেআইনি অস্ত্রের গুঁতোয় সবারই ‌ ক্ষতি। অস্ত্র জাত চেনে না।

পবিত্রমোহন বিশ্বাস

চরমণ্ডল, উত্তর ২৪ পরগনা

 

সমাবর্তন

• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ বারের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে চূড়ান্ত অব্যবস্থা এবং হাস্যকর বিশৃঙ্খলার কথা ফেসবুকে অনেকেই লিখেছেন। স্বয়ং প্রত্যক্ষদর্শী ও এম ফিল ডিগ্রি প্রাপক হিসাবে, কিছু যোগ করি।

২০১৩-২০১৫ শিক্ষাবর্ষের গবেষিকা হিসাবে রাজনীতির রং না মেখে নিজেদের উদ্যোগে আমরা সহপাঠীরা মিলে আন্দোলন করে নিজেদের বৃত্তির অর্থ আদায় করতে পেরেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তাও মাত্র এক বছরেরটুকু। এই দয়া-দাক্ষিণ্য আমরা মেনে নিয়েছিলাম, কারণ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলে অল্পেই সুখী এবং অতি ধৈর্যশীল। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান বজায় রাখতে সদাব্যস্ত (মিডিয়া ডাকলে যদি তা কালিমালিপ্ত হয়!) ও অবশ্যই কেরিয়ার নিয়ে সদা ভীত-সন্ত্রস্ত।

এ বার সমাবর্তনের ‘ইনভিটেশন লেটার’ নিতেও আমাদের (বহু গবেষককে) ছুটতে হল ক্যুরিয়র অফিসে, অথচ এই আমন্ত্রণপত্র আমাদের কাছে ডাকযোগে না পৌঁছলে ইউনিভার্সিটি থেকেই সংগ্রহ করার কথা। বিশ্ববিদ্যালয় নির্বিকার। বহুসংখ্যক কার্ড এ-দিক ও-দিক দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী আদি বিশিষ্ট ব্যক্তি বাদে যাঁদের জন্য এই অনুষ্ঠান, তাঁরাই ব্রাত্য। তার উপর ফরমান জারি: ব্যাগ, ক্যামেরা আনা যাবে না। অথচ সবাই নিজেকে ফ্রেমবন্দি করতে চায় এই দিনে। আর শীতের সকালে ব্যাগ ছাড়া!

সকালে কার্ড দেখিয়ে সন্দেশ, বিস্কুট পাওয়া গেল। দুপুরে মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্থানের পর গিয়ে শুনতে হল, ‘ওই সকালের প্যাকেটই পাবেন, তাও সার্টিফিকেট দেখালে।’ দেখলাম অনেকেই লাঞ্চ পেয়েছেন ও খাচ্ছেন। তাঁরা কারা? আমাদের সার্টিফিকেট পেতে দেরি তখনও। এর পর সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। মঞ্চে চাঁদের হাট তখন অস্তমিত। কে কাকে শংসাপত্র দিচ্ছে বোঝা যাচ্ছে না। রেশনের লাইনেও এত ভিড় ও অব্যবস্থা থাকে না। নিলাম কোনও রকমে। উত্তরীয় ইত্যাদি সহযোগে শংসাপত্র পাওয়ার কথা ভাবা ধৃষ্টতা এখানে। কোনও সাংবাদিকও ছিলেন না, যিনি আমাদের ক্ষোভ, বক্তব্য শুনবেন। 

ভক্তিলতা দাস

সুভাষগ্রাম

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট,
কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়

ভ্রম সংশোধন

• ‘বইপার্বণে ভারত-ফ্রান্স সংস্কৃতির মিলনমেলা’ প্রতিবেদনটিতে (২০-১) লেখা হয়েছে আসন্ন বইমেলার মাঠে কুড়িটি লিটল ম্যাগাজিনের জায়গা থাকবে। এটি ভুল। ঠিক সংখ্যাটি হবে দুশো।

• ‘জমাটি ঠান্ডায় পাস্তায় স্বাদবদল’ (পত্রিকা, ২০-১) লেখায় প্রকাশিত হয়েছে, রেসিপি দিলেন অর্পিতা ভট্টাচার্য। নামটি ভুল ছাপা হয়েছে। রেসিপিগুলি দিয়েছেন অমৃতা ভট্টাচার্য।

অনিচ্ছাকৃত এই ভুলগুলির জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।