গর্বের কথা বইকি! দুনিয়ার সব চেয়ে উঁচু মূর্তিটি আমাদেরই দেশে। খরচ নিয়ে পরোয়া নেই। দু’বেলা পেটে ভালমতো খাবার দেওয়ার সংস্থান নেই, হাতে পঞ্চাশ হাজার টাকার স্মার্টফোন— এটাই আমাদের দেশ। অর্থহীন দেখনদারি এখন আমাদের গড় সংস্কৃতি। নেতা-কর্তাদের ধ্যানধারণাও তার সঙ্গে তাল মিলিয়েই চলবে। উচ্চতা বোঝাতে ‘আকাশছোঁয়া’ বিশেষণের ব্যবহার যথার্থ হয়েছে। আকাশের সীমা-পরিসীমা নেই। তাই ভবিষ্যতে আমাদের নজর আরও ঊর্ধ্বগামী হবে। এর মধ্যেই সংবাদ, মুম্বইয়ে আরও একশো ফুট বেশি উঁচু শিবাজির মূর্তি স্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। আরও চিন্তাভাবনা চলুক। পৃথিবীতে শীর্ষস্থান ধরে রাখা কি চাট্টিখানি কথা!

দুটো কথা। পটেলজির মূর্তি নির্মাণ প্রক্রিয়ায় চিনা কারিগরদের হাত পড়েছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ভাবমূর্তিতে একটু আঁচড় লেগেই গেল। তা হোক। এখন যা দাঁড়িয়েছে, নিত্যপ্রয়োজন থেকে উৎসব-বিলাসব্যসন, যে দিকেই তাকানো যাক, চিনের হস্তাবলেপন বাদ দিয়ে ভাবাই যায় না। সস্তা এবং বাহারি। খবরে যা জানা গেল, লিফটে চড়ে পটেলজির মূর্তির বুক সমান ওঠা গিয়েছে। বাকিটা? তা হলে কি বিশেষ বিশেষ দিনে মূর্তির কণ্ঠে মাল্যদান করা হবে না? অত উঁচুতে নিয়মিত সাফসুতরো করা এবং রক্ষণাবেক্ষণের প্রশ্নও আছে। তবে কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই সে সব দিক আগেভাগেই ভেবেছেন। তাতে খরচের পরিমাণ নিয়ে তুলনামূলক আলোচনাও হবে। হোক গে। আমরা জানি, সংহতি-দেশপ্রেমের আদর্শ প্রচার করতে এবং সারা বিশ্বের নজর আমাদের দিকে ধরে রাখতে সেই খরচ? ‘তুশ্চু’।

বিশ্বনাথ পাকড়াশি

শ্রীরামপুর-৩, হুগলি

 

 

ভোটার কার্ড

নির্বাচনী তালিকা ছাপা হয় বাংলায়। ভোটার কার্ডে বাংলা ও ইংরেজি দুটোই থাকে। নাম ও পদবির বানানের ভুল এপিক কার্ডে ইংরেজিতে বেশি দেখা যায়। কারণ বাংলার একটি বানান ইংরেজিতে দুই তিন রকম ভাবে লেখা যায়। যেমন, শান্তি ইংরেজিতে Santi বা Shanti, দত্ত বানান Datta বা Dutta. জন্মের শংসাপত্রে যে বানান থাকে ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের ভুলে এপিক কার্ডে ভুল হয়। যদি নির্বাচনী তালিকায় বাংলার পাশাপাশি ইংরাজিতে নাম লেখা থাকে তবে ভুলের সম্ভাবনা কমে যাবে। দ্বিতীয়ত, বহু ভোটারের কার্ডে বয়সের গন্ডগোল রয়েছে। বয়সের বদলে জন্ম-তারিখ লেখা থাকলে ভাল হয় যেমন থাকে আধার ও প্যান কার্ডে। আধার ও প্যান-এ ভুল থাকলে সারা বছরই সংশোধন করা যায় কিন্তু ভোটার কার্ড সংশোধনে এই সুযোগ পাওয়া যায় না। ভুল সংশোধনের জন্য যদি নির্বাচন অফিসে একটি সেল থাকে, তা হলে হয়রানি অনেক কমে।

অসিত রঞ্জন দত্ত

কল্যাণী, নদিয়া 

 

বাসের ভাড়া

সরকারি আদেশনামা অনুযায়ী প্রতি স্টেজে ১ টাকা বাস ভাড়া বেড়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, বেসরকারি বা সরকারি বাসে বাসভাড়া স্টেজ প্রতি ১ টাকা হারে বাড়লেও কিছু বাস, যেমন বারাসত-গড়িয়া/বারুইপুর, বারাসত/ বি-গার্ডেন ইত্যাদি বাসের রুটে কিলোমিটার প্রতি ভাড়া বেড়েছে এক একটি স্টেজে ১ টাকা থেকে ১০-১২ টাকা অবধি। যেমন, বারাসত-গড়িয়া রুটের অজয়নগর-এয়ারপোর্ট দূরত্বে সরকারি (এস-৩৭) বাসের ভাড়া ১৩ টাকা, কিন্তু ওই একই দূরত্বে বারাসত-গড়িয়া/বারুইপুর বাসের ভাড়া ১৮-২০ টাকা (যা আগের থেকে ৫-৭ টাকা বেশি)। একই দূরত্বে সরকারি ও এই সকল বাসের ভাড়ার বিশাল পার্থক্য লক্ষ করা যাচ্ছে, যা নিয়ে প্রতি দিনই যাত্রী ও কনডাক্টর-এর মধ্যে তপ্ত বাক্য বিনিময় হচ্ছে।

সঞ্জয় রায় চৌধুরী

কলকাতা-৫২

 

রক্ষণাবেক্ষণ

মাঝেরহাট সেতু ভঙ্গের পর প্রশাসন রাজ্যের উড়ালপুলগুলির সংস্কারে তৎপর হয়েছে। ফ্লাইওভার রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে আমি কিছু বলতে চাই। এক, কোনও অবস্থাতেই ফ্লাইওভারে গাড়ি বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকতে না দেওয়া। যেমন এখন বঙ্কিম সেতু রাতের গ্যারাজে পরিণত। এ রকম অনেক সেতুই অস্থায়ী গ্যারাজে পরিণত হয়েছে। এটা বন্ধ করতে হবে। জ্যাম হলেও তা তড়িঘড়ি কাটিয়ে ফেলতে হবে, প্রয়োজনে ট্রাফিক পুলিশের সহায়তায় আপ ডাউন ভেদাভেদ না রেখে জ্যাম কাটিয়ে ফেলে ফ্লাইওভার পরিষ্কার করে দিতে হবে। দুই, পিচের মেদ বারে বারে না বাড়িয়ে যথাযথ সংস্কার করতে হবে। তিন, আগাছা মুক্ত রেখে জল যাতে না জমে তা দেখতে হবে। চার, দুই গার্ডারের মধ্যে গ্যাপ ঠিক আছে কি না এবং কোনও ফাটা রয়েছে কি না নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। লুব্রিক্যান্ট দেওয়ার থাকলে তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। পাঁচ, সুন্দরায়নে ফুলগাছ বা ভারী কোনও কিছু না রাখলেই ভাল। ছয়, কোনও ধাতব অংশে মরচে ধরতে না দেওয়া ও বছরে এক বার রং করা চাই। সাত, মিছিল বা শোভাযাত্রা সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।

দিলীপ চট্টোপাধ্যায়

শিবপুর, হাওড়া

 

আশ্চর্য

ছবি দেখে বিস্মিত হলাম (পৃ ১, ২৬-১০)। যাঁদের কলার ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের অফিসার, আইবি দফতরে কর্মরত; পকেটমার নন। জানা গেল তাঁরা ডিউটিতে ছিলেন, সঙ্গে পরিচয়পত্র ছিল এবং কোনও আইনও তাঁরা ভাঙেননি। সাফারি স্যুট পরিহিত যে পুলিশ অফিসার ‘দেখ, কেমন চোর ধরেছি’ ভঙ্গিতে ক্যামেরার দিকে পোজ দিলেন তিনি কি মানহানির দায়ে পড়েন না?

দেবাশিস মিত্র

কলকাতা-৭০

 

ট্রেন সম্প্রসারণ

পূর্ব রেলের বনগাঁ শাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ। দিন দিন অফিস টাইমে যাত্রিসংখ্যা যে ভাবে বাড়ছে, সেখানে নতুন ট্রেনের সংখ্যা না বাড়ায়, যাত্রীদের অবস্থা খুব নাজেহাল হয়ে পড়ছে, বিশেষ করে হাবরার পরবর্তী স্টেশনগুলির ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি। কারণ অফিস টাইমে হাবরা বা দত্তপুকুর লোকাল থাকলেও গোবরডাঙা বা ঠাকুরনগর লোকাল নেই। অথচ দেখা যাচ্ছে, সকালের দিকে শিয়ালদহ থেকে একটি হাবরা লোকাল সকাল ৬:৪২-এ ছেড়ে ৮:০০-য় হাবরা পৌঁছয় এবং হাবরা থেকে ৮:৫৫-য় ছেড়ে ১০:১৫-য় শিয়ালদহ পৌঁছয়। ট্রেনটি ৫৫ মিনিট হাবরাতে দাঁড়িয়ে থাকে। অফিসটাইমে ট্রেনটিকে ৫৫ মিনিট হাবরাতে দাঁড় না করিয়ে রেখে, যদি গোবরডাঙা পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়, তা হলে মছলন্দপুর ও গোবরডাঙার কয়েক হাজার মানুষ উপকৃত হবেন।

জ্যোতি প্রকাশ ঘোষ

বেড়ি পাঁচপোতা, উ. ২৪ পরগনা

 

পাখি শিকার

সমগ্র দক্ষিণবঙ্গে কার্তিক, অগ্রহায়ণ মাসে ধান পাকতে শুরু করলেই জমির চার পাশে জাল টাঙিয়ে ভরুই পাখি (কোথাও এই পাখির নাম বাগড়ি) প্রচুর পরিমাণে শিকার করা হয়। অনেকটা চড়াই পাখির মতো দেখতে এই ভরুই পাখির মাংস খুবই সুস্বাদু, ফলে মাংসের বাজারে এই পাখির চাহিদা বা কদর ভীষণ রয়েছে। হেমন্তের মরসুমে এক একটি ভরুই পাখি প্রায় কুড়ি-পঁচিশ টাকা মূল্যে খদ্দেরদের কাছে বিক্রি করা হয়। আশঙ্কার বিষয় হল, যথেচ্ছ শিকারের ফলে বাংলার এই বিরল প্রজাতির পাখিরা হয়তো অচিরেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তাই ভরুই পাখির শিকার অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা জরুরি।

তুষার ভট্টাচার্য

বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু, 

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১। 

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।