শাক্যজিৎ ভট্টাচার্যের ‘ছাত্র আন্দোলনই দেশছাড়া করল রাষ্ট্রপ্রধানকে’ (রবিবাসরীয়, ১-৭) নিবন্ধের প্রেক্ষিতে জানাই, ফরাসি কমিউনিস্ট পার্টি (পিসিএফ) এবং তার শ্রমিক সংগঠনের (সিজিটি) বিশ্বাসঘাতকতা ছিল ’৬৮-র ছাত্র আন্দোলনের অর্থাৎ প্যারিস বসন্তের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছনর ক্ষেত্রে সব চেয়ে বড় অন্তরায়। তৎকালীন কমিউনিস্ট নেতৃত্ব যদি দায়িত্ব নিতে ইতস্তত না করতেন, ফ্রান্সে বিপ্লব সফল হতই। এরিক হাজ়ানের মতে সরকারি কমিউনিস্টদের কার্যপদ্ধতি ছিল ‘‘আ নর্মাল ট্রিজ়ন।’’

এপ্রিল মাসের শেষের দিকে পিসিএফ নেতৃত্ব নতেঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আন্দোলনকে নৈরাজ্যবাদী আখ্যা দিয়ে পার্টি সদস্যদের নির্দেশ দেন, ছাত্রদের যেন কারখানায় ঢুকতে বা শ্রমিকদের সঙ্গে হাত মেলাতে না দেওয়া হয়। পার্টির মুখপত্র L Humanite-এ ৩ মে এক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়, যার শিরোনাম ছিল ‘‘দ্য ফেক রেভলিউশনারিজ় আনমাস্কড’’। এর লক্ষ্য ছিল আন্দোলনরত ছাত্ররা। কিন্তু ৭ মে অভ্যুত্থান শুরু হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই, পার্টি নেতৃত্ব ছাত্র আন্দোলনের বৈধতা এবং যৌক্তিকতা মেনে নেন। সিজিটি ছাত্রদের পাশে এসে দাঁড়ানোয় আন্দোলন গতি পেল। শ্রমিক ধর্মঘটে ফ্রান্স স্তব্ধ হয়ে গেল, ১০ মে ছাত্র ও শ্রমিকদের মিলিত মিছিল রাজপথ প্রকম্পিত করে এগিয়ে চলল।

কিন্তু এই শ্রমিক-ছাত্র ঐক্য ছিল একান্তই ভঙ্গুর। ট্রটস্কিবাদী নেতা এলাইন ক্রেডিনের মতে, শ্রমিক ও ছাত্ররা এক সঙ্গে আন্দোলন করলেও, দৃষ্টিভঙ্গি এক ছিল না। সোভিয়েতপন্থী (যে সোভিয়েতে স্তালিন মারা যাওয়ার পর পালাবদল ঘটে ক্ষমতায় এসেছেন বুর্জোয়া সমাজব্যবস্থার দৌবারিক ক্রুশ্চেভ) পিসিএফ নেতৃত্ব আমূল, বৈপ্লবিক পরিবর্তনে উৎসাহী ছিল না কিন্তু মার্ক্সীয়-লেনিনীয় আদর্শে উদ্বুদ্ধ ছাত্ররা চাইছিল শোষণমুক্ত নতুন দুনিয়া।

জাতীয় সভায় ১৯৬৮ সালের মে মাসে পিসিএফ নেতা রোল্যান্ড লেভয়ের বক্তৃতায় কমিউনিস্ট পার্টির এই আপসকামী দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায়: ‘‘কমিউনিস্টরা নৈরাজ্যবাদী নয়, যাদের একমাত্র লক্ষ্য কোনও কিছু সৃষ্টি না করে সব কিছু ধ্বংস করা।’’ না ধ্বংস করলে যে কিছুই সৃষ্টি করা যায় না, জীবনহারা অসুন্দরে ছেদন করেই যে জীবনের জয়গান রচিত হয়, তা বুঝতে অপারগ ছিলেন ফরাসি কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃবৃন্দ। জাতিবিদ্বেষ উস্কে দিয়ে পিসিএফ-এর জেনারেল সেক্রেটারি জর্জ মার্শে ছাত্রনেতা দানিয়েল কোহন বেন্ডিটকে ‘জার্মান নৈরাজ্যবাদী’ আখ্যা দেন।

যদিও সেই ষাটের দশকের ফ্রান্সে মাওবাদী, ট্রটস্কিবাদী, নৈরাজ্যবাদী-সহ হরেক কিসিমের বামপন্থী ছিলেন, শ্রমিকদের মধ্যে সব চেয়ে বেশি প্রভাব নিঃসন্দেহে ছিল পিসিএফের। তখন কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য সংখ্যা ছিল ২০ লক্ষ, শতকরা ৪০ ভাগ সদস্য ছিলেন শ্রমিক শ্রেণিভুক্ত। পিসিএফ নেতৃত্ব শ্রমিকদের অর্থনৈতিক দাবি-দাওয়া পূরণের লক্ষ্যে সংগ্রামকে বেঁধে রাখার পক্ষপাতী ছিলেন। ছাত্রদের লক্ষ্য যেখানে সমাজব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, শোধনবাদী কমিউনিস্ট নেতৃত্ব প্রতি পায়ে আন্দোলনের রাশ টেনে ধরেছেন।

কর্মীদের শতকরা দশ ভাগ ও শ্রমিকদের শতকরা পঁয়ত্রিশ ভাগ বেতন বৃদ্ধির আশ্বাস পেয়ে গ্রেনেল চুক্তি অনুযায়ী পিসিএফের ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ছাত্রদের এবং অতিবাম বিপ্লবীদের কাছে ছিল বিশ্বাসঘাতকতার নামান্তর। আর দ্য গলের পদত্যাগ শ্রমিক শ্রেণির কোনও জয় নয়, কারণ ক্ষমতায় আসেন পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী পম্পিদু। ব্যক্তি দ্য গলের পরাজয় তাঁর নীতির পরাজয় সূচিত করে না। পশ্চিম ইউরোপে মার্ক্সবাদের পশ্চাদপসরণের সেই শুরু। জনগণের চোখে তাদের বিশ্বাসঘাতকতার স্বরূপ উন্মোচিত হয়। ১৯৬৯ সালে পিসিএফের প্রাপ্ত ভোটের শতাংশ হয় ২১.২৭। সত্তর এবং আশির দশক জুড়ে পিসিএফ ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ভাবে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে এবং ২০০২ সালে তার প্রাপ্ত ভোটের শতাংশ দাঁড়ায় ৩.৩৯।

শিবাজী ভাদুড়ী

সাঁতরাগাছি, হাওড়া

 

গ্রামে ডাক্তার

 ‘সম্মানের শর্ত’ শীর্ষক সম্পাদকীয়টি (১৭-৭) সম্বন্ধে কয়েকটি কথা। খবরে প্রকাশ, চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতকোত্তর স্তরে সরকারি খরচে পড়তে হলে, এক জন চিকিৎসককে পড়া শেষ হলে গ্রামীণ হাসপাতালে তিন বছর চিকিৎসা করতে হবে। যদিও এ বিষয়ে অনেক বিতর্ক আছে, তবুও বলতে হয়, গণ্ডগ্রামে গিয়ে চিকিৎসা করার মধ্যে যে অসুবিধা এত কাল ছিল, কালের গতিতে ও প্রশাসনিক পরিবর্তনে তার হয়তো কিছুটা রদবদল ঘটেছে। কেননা, পঞ্চায়েত শাসনব্যবস্থার মধ্য দিয়ে গ্রামোন্নয়নের যে সব কাজের কথা খবরে প্রকাশ পায়, তা পড়ে তো মনে হয়, এখন রাজ্যে গণ্ডগ্রাম বলে আর কিছু নেই। তবে কেন পড়া শেষে গ্রামে গিয়ে চিকিৎসকদের চিকিৎসা করায় এত অনীহা, তা বোঝা ভার।

বলতে দ্বিধা নেই, স্নাতকোত্তর স্তরে সরকারি খরচে পড়তে গিয়ে যে খরচের পরিমাণের (মাথা পিছু তিন বছরে তিন লাখ টাকা) কথা বলা হয়েছে, তাও তো জনগণের অর্থ বলে খবরে প্রকাশ। স্বভাবত, গ্রামের মানুষজনেরও উক্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার একটা নীতিগত অধিকার জন্মায়। আবার ‘মেডিক্যাল এথিকস’ অনুযায়ী চিকিৎসকদেরও সেবার ব্রতে সেই পরিষেবা দেওয়ার কথা। সুতরাং, এই দেওয়া-নেওয়ার মধ্য দিয়েই তো রোগী-ডাক্তার সম্পর্ক সুমধুর হয়ে উঠবে। সে ক্ষেত্রে অন্য কোনও তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতিই কাম্য নয়।

প্রসঙ্গত, উক্ত স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাওয়ার ব্যাপারে পড়ার শেষে যে তিন বছর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসা করার শর্ত সরকার আরোপ করেছে, তা যদি কমিয়ে এনে এক বছর করা হয়, তা হলে মনে হয় চিকিৎসকরাও হয়তো খুশিমনেই গ্রামে যাবেন। এ ক্ষেত্রে অন্য আর একটি উপায়ের কথাও বলা যায়। যে সব ছাত্রছাত্রী গ্রাম থেকে এসে ডাক্তারি পরীক্ষায় পাশ করেছেন, বা পাশ করার আগে কোনও সাক্ষাৎকারে ডাক্তারি পরীক্ষা পাশ করে গ্রামে গিয়ে ডাক্তারি করার কথা ব্যক্ত করেছেন, তাঁদের ইচ্ছুক প্রার্থী হিসাবে ধরে নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগালে, তাঁরা পাশ করে শহর থেকে গ্রামে যেতে পারেন। এ ব্যাপারে তৃতীয় কোনও কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার নাক না গলানোই ভাল। সরকার ও চিকিৎসকদের মধ্যে খোলাখুলি আলোচনাই হবে একমাত্র সমাধানের পথ।

কল্যাণ কুমার চৌধুরি

কলকাতা-১০৭

 

হস্টেলের হাল

 ‘পরিচ্ছন্ন হস্টেল চায় কলকাতাও’ (২৫-৭) শীর্ষক খবরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলগুলি সম্পর্কে যে অভিযোগগুলি তোলা হয়েছে তা সর্বৈব মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর, এবং আমাদের অত্যন্ত আহত করেছে। উপরন্তু পিজি লেডি স্টুডেন্টস হল-এর প্রবেশপথ ও দেওয়ালের ছবি বলে যে দু’টি ছবি প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলিও ভুল ও অসত্য। ছাত্রীদের থাকার পুরো ব্যবস্থাই সম্পূর্ণ মেরামত ও সংস্কার করা হয়েছে এবং আমাদের কাছে তার প্রমাণও রয়েছে।

শান্তনু পাল

ডেপুটি রেজিস্ট্রার, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

 

প্রতিবেদকের উত্তর: প্রকাশিত প্রতিবেদনে পড়ুয়াদের অভিযোগ ছাড়াও সুস্পষ্ট ভাবে কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের উল্লেখ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা)-এর ‘কোথাও কোনও সমস্যা নেই’ কথাটিও রয়েছে। তাই সংবাদটি ভুল ও ‘বিভ্রান্তিকর’, অভিযোগ ভিত্তিহীন। সবিস্তার জানার জন্য উপাচার্যকে ফোন এবং মেসেজ করা হয়। কিন্তু তিনি উত্তর দেননি। তবে প্রকাশিত ছবিগুলি নিউ ল হস্টেলের। পিজি লেডি স্টুডেন্টস হলের নয়। কিন্তু ওই দু’টি হস্টেলের আরও অনেক ছবি রয়েছে, যেগুলি হস্টেলের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে। পড়ুয়াদের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে নিউ ল হস্টেল মেরামতি হচ্ছে না। প্রয়োজনে তার ছবিগুলিও প্রকাশ করা হবে।

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট,
কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ই-মেলে পাঠানো হলেও।