অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর (সঙ্গের ছবি) ‘পদ্মাবত’ দেখে ছবিটির পরিচালক সঞ্জয় লীলা ভন্সালীকে চিঠি লিখে ‘জহরব্রত’কে মহান করে দেখানোর অভিযোগ এনেছেন। এর মাধ্যমে ‍নাকি মহিলাদের শুধুই ‘কথা বলা চলন্ত যোনি’ ভাবা হয়। তাঁর কথার সূত্র ধরেই বলি, ধর্ষিতা হয়েও, স্বামীর মৃত্যু হলেও যে কোনও মেয়েরই অবশ্যই সম্পূর্ণ অধিকার আছে সসম্মানে বেঁচে থাকার।

কিন্তু ধর্ষিতা হওয়া মানে কি শুধুই যোনি আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া? সেই মেয়েটি শারীরিক, মানসিক উভয় দিক থেকেই কতখানি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েন, সেই হিসেব ক’জন রাখি আমরা? সেই পরিপ্রেক্ষিতে কোনও মেয়ে যদি ধর্ষিতা হওয়ার বা দাসত্ব করার আসন্ন সম্ভাবনা থেকে নিজেকে বাঁচাতে আগুনে ঝাঁপ দেওয়াই মনস্থ করেন, কারও কি কিছু প্রতিবাদ করার থাকতে পারে?

স্বাধীনতা সংগ্রামের যুগেও বিপ্লবীরা অনেকেই সংঘর্ষের শেষে আত্মহত্যা বেছে নিয়েছেন আত্মসম্মান রক্ষার্থে, ব্রিটিশদের শাস্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে। ‘জহরব্রত’ও ছিল তৎকালীন রাজপুত মহিলাদের সম্মিলিত প্রতিবাদ, আলাউদ্দিন খিলজির অত্য‍াচারের বিরুদ্ধে, লালসার বিরুদ্ধে। এই ব্রত শুধুই মহিলাদের ‘যোনি রক্ষার উপায়’, সেটা বললে বিষয়টির অতি সরলীকরণ হয়ে যায়, যা আদৌ বাস্তব নয়।

যুদ্ধক্ষেত্রে না নেমেও যে যুদ্ধ করা যায় এবং সে যুদ্ধে দাপটের সঙ্গে জয়লাভও করা যায়, তার জ্বলন্ত প্রমাণ এই ঘটনাটি। তাঁরা তখন নিশ্চয়ই ‘নারীবাদী’ আন্দোলনের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন না। কিন্তু তাঁদের মতো সাহসী, দৃঢ়চেতা, বীরাঙ্গনা যোদ্ধা এ যুগে বিরল।

দেবাদৃতা মণ্ডল  নদিয়া

 

এবং সতী

‘পদ্মাবত’ নামক চলচ্চিত্রটি নিয়ে বর্তমান হইচইয়ের মধ্যে স্বরা ভাস্কর খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, এই চলচ্চিত্রটির মধ্য দিয়ে কি সতীপ্রথাকেই গৌরবান্বিত করা হচ্ছে না? এত আলোচনা কি সতীপ্রথাকেই গণমাধ্যম, জনমানস এবং আইনি ব্যবস্থায় বৈধতা দিচ্ছে না? এই প্রশ্ন উত্থাপনের জন্য স্বরাকে ধন্যবাদ। ১৯৮৮ সালে সতীপ্রথাকে গৌরবান্বিত করার বিরুদ্ধে সংসদে আইন পাশ হয়েছে। এই ছবি সেই আইনকেই ভয়ংকর ভাবে লঙ্ঘন করছে বা প্রতিস্পর্ধার সম্মুখীন করছে। যদিও ভন্সালী চলচ্চিত্রের শুরুতেই সতীপ্রথাকে গৌরবান্বিত করার বিরুদ্ধে সতর্কতামূলক বাণী শুনিয়েছেন, কিন্তু পরবর্তী তিন ঘণ্টায় পরদা জুড়ে সতীপ্রথার গৌরবময় উপস্থিতি যে সেই সতর্কবাণীকে সম্পূর্ণ ভাবে অগ্রাহ্য করেছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

এবং স্বরার বক্তব্য এখানেই সমর্থনযোগ্য, প্রতিটি নারীর তাঁর যোনির বাইরেও জীবন রয়েছে ও সেই জীবনটা নিজের মতো করে বাঁচার অধিকারের দাবি তিনি জানাতেই পারেন। কোনও ব্যক্তির দ্বারা তাঁর শারীরিক বলাৎকারের অর্থ কখনওই তাঁর জীবনের সমাপ্তি নয়। স্বরার মতে, এই চলচ্চিত্রে নারীকে তাঁদের যোনির দাস হিসাবে দেখানোর মাধ্যমে প্রতিটি নারী চরিত্রের অবনমন ঘটানো হয়েছে এবং পুরুষদের সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে— নারীদের উপর কর্তৃত্ব করার।

নির্মলা বন্দ্যোপাধ্যায়   কলকাতা-১৯

 

ফোন কানে নিয়ে

বাসে চাপার প্রচুর অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, চালক কানে মোবাইল ধরে এক হাতে ভিড়ের রাস্তায় গাড়ি চালান অথবা কাঁধের ওপর মোবাইল রেখে তার ওপর কান চেপে ধরে ঘাড় বাঁকিয়ে বিচিত্র ভঙ্গিমায় তীব্র গতিবেগে গাড়ি চালান, নিষেধ করেও কোনও লাভ হয়নি। আচ্ছা, যে মানুষটি তখন গাড়িচালককে ফোন করেন, তিনি কি জানেন না যে, যাঁকে ফোন করা হচ্ছে তিনি এখন গাড়ি চালাচ্ছেন? তিনি কি বোঝেন না, এই ফোন থেকে হতে পারে এক ভয়ংকর দুর্ঘটনা, প্রাণসংশয় হতে পারে চালকসহ আরও অসংখ্য যাত্রীর? যেমনটা ঘটেছে বালির ঘাটের মর্মান্তিক বাস অ্যাক্সিডেন্টে? 

এত গাড়ির চালক, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ব্যবহার করছেন কি না, তা দেখার মতো প্রয়োজনীয় লোকবল, প্রযুক্তি ইত্যাদি প্রশাসনের কাছে নেই। তাই সচেতনতাই একমাত্র উপায়, সচেতন হতে হবে চালককে, যাঁরা তাঁকে ফোন করছেন তাঁদেরও। আর অবশ্যই, যাত্রীদের।

শুভময় ভট্টাচার্য   বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ

 

অন্য দিকগুলোও

ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর, এখন কড়া ভাবে বলা হচ্ছে, মোবাইলে কথা বলতে বলতে গাড়ি চালানো যাবে না। উত্তম কথা। কিন্তু আরও কিছু দিকে নজর দিতে হবে। উপযুক্ত সময়ের ব্যবধানে নিয়মিত বাসের ফিটনেস পরীক্ষা, যাত্রী-সংখ্যা যাতে মাত্রাতিরিক্ত না হয় সে বিষয়ে কড়া হওয়া, রাস্তাঘাটের দুরবস্থা দূর করা, নিয়ন্ত্রিত গতিবেগ বজায় রাখতে নজরদারি করা, ইত্যাদি। এ ছাড়া দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হল ড্রাইভারদের মদ্যপান। মদের জোগান বাড়িয়ে দেওয়ায় এবং সহজপ্রাপ্যতার কারণে সব মহলেই মদ্যপান ব্যাপক ভাবে বাড়ছে। যে সরকার ‘সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’ নিয়ে দেদার সরকারি টাকা খরচ করে ব্যাপক প্রচারে নেমেছে, সেই সরকার মদেরও ব্যাপক প্রসার ঘটাচ্ছে— এটা তো মেনে নেওয়া যায় না।

গৌরীশঙ্কর দাস  সাঁজোয়াল, খড়্গপুর

 

‘ক্ষতিপূরণ’ নয়

সম্প্রতি আমরা অনেকগুলো বাস দুর্ঘটনার খবর পড়লাম। বাস দুর্ঘটনা হোক বা অন্য কোনও দুর্ঘটনা, যাঁরা নিহত বা আহত হন, তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকার অনেক সময় কিছু আর্থিক সাহায্য করে। কিন্তু সংবাদপত্রে ছাপা হয় বা টিভি চ্যানেলে বলা হয়, ‘মৃতের পরিবারকে অমুক টাকা ক্ষতিপূরণ।’ যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনকে হারালেন তাঁদের ক্ষতি কোনও দিনই পূরণ হবে না। তাই ‘ক্ষতিপূরণ’-এর বদলে ‘আর্থিক সাহায্য’ বলাই ভাল়।

ইকবাল কবির  বেলডাঙা, মুর্শিদাবাদ

 

হোক না রোমান

সম্প্রতি প্রকাশিত খবরে জানলাম, কিছু প্রকাশনা সংস্থা রোমান হরফে বাংলা সাহিত্যের বই প্রকাশ করেছে। ভাষার ধ্বনির সাদৃশ্য বজায় রেখে। পালটানো হচ্ছে শুধু ছাপার অক্ষর। উদ্দেশ্য, বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের কাছে বাংলা সাহিত্যকে তুলে ধরা। অবশ্যই এটা একটা ভাল উদ্যোগ। এ প্রসঙ্গে বাংলা ভাষার স্থায়িত্ব নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে ও উঠেছে বিতর্ক। কোনও ভাষার স্থায়িত্ব নির্ভর করে তার চর্চা ও ব্যবহারিক প্রয়োগের উপর। এ ছাড়া, কোনও ভাষার সাহিত্যের রস উপলব্ধি করতে হলে সেই ভাষাটাকে জানা অবশ্যই দরকার। ভাষার জ্ঞান আহরণ করার ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য দুটি উপায়: ধ্বনি শুনে, বা ছাপা হরফের ছবি দেখে। অতএব ভাষার কী আসে যায়! সেটা যে হরফেই ছাপা হোক না কেন!

আলোক রায়  কলকাতা-১১০

 

আর এসএমএস?

যাঁরা ইংরেজি হরফে বাংলা শব্দ লেখা নিয়ে প্রবল আপত্তি জানাচ্ছেন, তাঁদের অধিকাংশই কি ঠিক এ ভাবেই সারা দিন এসএমএস করছেন না? হোয়াটসঅ্যাপে বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলছেন না? মেল করছেন না? তাতে কি তাঁদের নিজেদের এতটুকু কম বাঙালি মনে হচ্ছে? তা হলে, যেই একটা প্রতিষ্ঠিত বাংলা বই এ-ভাবে বেরচ্ছে, যাতে ইংরেজি হরফে স্বচ্ছন্দ লোকের কাছে বাংলা ভাষাটাকে জনপ্রিয় করা যায়, তাঁরা গেল-গেল রব তুলছেন কেন?

নিখিল গুপ্ত  কলকাতা-৩৩

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়