• ‘বাসেই বেদম মার পুলিশকে’ (২৬-২) শিরোনামের সংবাদ পড়ে এই পত্রের অবতারণা। সংবাদটিতে জানলাম, এক জন ট্র্যাফিক পুলিশকে পাবলিক বাসে চার যুবক ‘যে হাতে ঘুষ নেয় সেই হাত ভেঙে দেওয়ার’ সংকল্প নিয়ে অকারণে বেধড়ক মারধর করে। এ নিয়ে লুকোছাপার কিছুই নেই যে, আমাদের সমাজে ঘুষ একটি সাধারণ ঘটনা এবং ঘটনাচক্রে ট্র্যাফিক পুলিশদের সবার সামনে হাত পেতে নিত্যদিন বা মাসিক কিস্তি ব্যবস্থায় ঘুষ নিতে দেখতে দেখতে সাধারণ মানুষও এই ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন হতে পারেন না।

কিন্তু অবকাশ এসেছে এ-কথা ভাবার যে, এই আক্রোশ ঘুষ নেওয়ার বিরুদ্ধে, নাকি ‘ও ঘুষ নিতে পারছে, আমি পারছি না’— এই আপশোস থেকে উদ্ভূত? আমরা ছবির পরদায় ঘুষখোর সরকারি কর্মীকে সৎ নায়কের কাছে পর্যুদস্ত হতে দেখে আমোদ পাই। কিন্তু আজকের বাস্তবে দাঁড়িয়ে এক শ্রেণির মানুষের মধ্যে টাকার চক্রাবর্তন ও বাকিদের মধ্যে জমে থাকা না-পাওয়াগুলোর বিস্ফোরণই এই জাতীয় আক্রোশের জন্ম দেয় বলে মনে হয়। তাই ওই বাসের অন্য জনা তিরিশ যাত্রীর সকলেই নিরপেক্ষ থাকতে নীরব ছিলেন, তা হয়তো নয়। বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মীর প্রতি সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা তো দূর অস্ত, সামান্য বিশ্বাসটুকু জাগানোর জন্যও কী করা প্রয়োজন, তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে বোধহয়।

প্রিয়ম মজুমদার

শ্রীরামপুর, হুগলি

 

কলকাতা নিয়ে

• ‘দুই পৃথিবীর ফাঁক ভরাতে কলকাতা নিয়ে স্প্যানিশ বই’ (২৬-২) প্রতিবেদন সম্বন্ধে দু’একটি তথ্য জানাবার লোভ সামলাতে পারছি না। এস্তো এস কালকুতা অর্থাৎ ‘এই হল কলকাতা’ শিরোনামে ৩৬১ পৃষ্ঠার এক গ্রন্থ প্রকাশিত হয় ২০০৬ সালে। লেখকের নাম আনা মারিয়া ব্রিয়োঙ্গোস। এই গ্রন্থে কলকাতার দৈন্যদুর্দশার কথা থাকলেও, সাংস্কৃতিক জীবন প্রসঙ্গে বিদ্যাসাগর, ঠাকুরবাড়ি এবং বাঙালির লেখাপড়ার কথা রয়েছে।

আরও অনেক আগে, ১৯৬৯ সালে, প্রকাশিত হয় আর্জেন্টিনার প্রখ্যাত লেখক হুলিয়ো কোর্তাসার-এর উল্‌তিমো রাউন্ড অর্থাৎ ‘শেষ রাউন্ড’, যাতে একটি অধ্যায়ের শিরোনাম ‘তুরিস্‌মো আকন্সেহাব্‌লে’ অর্থাৎ ‘পরামর্শযোগ্য ভ্রমণ’।
এই অধ্যায়ে যাচ্ছেতাই ভাষায় কলকাতা এবং হাওড়া স্টেশনের কথা বলে ‘নরক’ আখ্যা দেওয়া হয় এবং ইন্দিরা গাঁধী সম্পর্কে শ্লেষাত্মক মন্তব্যও আছে। ট্যাক্সিচালক থেকে শিশু এবং বয়স্ক ভিখারিদের নিয়েও গালাগাল আছে।

মাদ্রিদের এবিসি সংবাদপত্রের লেখক লুইস মারিয়া আনসন কলকাতা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে ভিখারি, অন্ধ, কুষ্ঠরোগী, কঙ্কালসার নারী ও শিশু, পঙ্গু যুবকযুবতীর কথা লিখেছেন, জোড়াসাঁকো ঠাকুরাবাড়ি দেখতে গিয়ে তিনি এ-সব না লিখে থাকতে পারেননি।

মেক্সিকোর বিশ্ববিখ্যাত লেখক কার্লোস ফুয়েন্তেস-এর ক্রিস্তোবাল নোনাতো শীর্ষক উপন্যাসে দারিদ্রপীড়িত মেক্সিকো সিটির যমজ বলা হয় কলকাতাকে।

দেখা যাচ্ছে, আজ পর্যন্ত স্পেন এবং লাতিন আমেরিকার পাঠকদের কাছে কলকাতার যে চিত্র দেখানো  হয়েছে তা সুখকর নয়।

তরুণকুমার ঘটক

কলকাতা-৭৫

 

ইভিএম

• প্রতিটি নির্বাচনের পরেই ইভিএম নিয়ে একটি সন্দেহের বাতাবরণ ভারতের গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকারক। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার, এই সন্দেহের নিরসন ঘটানোর পুরো সুযোগ থাকা সত্ত্বেও, তা কার্যকর করতে কোথাও যেন একটা উদ্যোগের অভাব দেখা যাচ্ছে। আসলে ভিভিপ্যাট (ভোটার-ভেরিফায়েড পেপার অডিট ট্রেল)থাকাটাই যথেষ্ট নয়, কারণ যে চিহ্নটি প্রিন্টার থেকে ছেপে বেরোচ্ছে আর মেশিনে (ইলেকট্রনিক) ভোটটি যে দলের ঘরে গিয়ে পড়ছে, এ-দুটো যে একই; এই গ্যারান্টি কেউ দিতে পারবেন না। তেমনই, পোলিং হয়ে যাবার পরে গণনার আগেও মেশিনের (ইলেকট্রনিক) ভোটসংখ্যাগুলি কেউ সর্বাধুনিক প্রযুক্তির দ্বারা এ-দিক ও-দিক করতে সমর্থ হয়ে গেলে, VVPAT শুধুই সান্ত্বনা। তাই উপায় হল VVPAT স্লিপগুলি গণনার সময় ব্যবহার করা। গুজরাতের নির্বাচনে কংগ্রেস কয়েকটি দাবির মধ্যে
এই দাবিও আদালতে জানিয়েছিল কিন্তু মহামান্য আদালত তা খারিজ করে সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের ইচ্ছের ওপরে ছেড়েছেন, তবে ইলেকটোরাল রিফর্মের জন্যে আদালতে সম্পূর্ণ নতুন একটি আবেদন জানানোর সুযোগও আবেদনকারীকে দেওয়া হয়েছে।

প্রতি কেন্দ্রের যতগুলি বুথ আছে, তার থেকে গণনার মুহূর্তে ২৫% বুথকে লটারির মাধ্যমে বেছে নিয়ে, ইভিএমের ভোটসংখ্যাগুলির সঙ্গে VVPAT-এর ভোটসংখ্যা হুবহু মিলে যাচ্ছে কি না, তা দেখা বাধ্যতামূলক করা যায়। নির্বাচন কমিশন নিজেই এই ব্যবস্থাটি সর্বত্র চালু করলে সন্দেহ ও বিতর্কের অবসান সম্ভব। এখানে নিশ্চিত হওয়ার চাবিকাঠিটি কিন্তু গণনার মুহূর্তে লটারির মাধ্যমে বুথ বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি, কারণ আগে থেকে বুথগুলি নির্দিষ্ট করা থাকলে পুরো প্রক্রিয়াটি অর্থহীন হয়ে যাবে। ২০১৯-এর নির্বাচনের আগে এটি কার্যকর হওয়া বাঞ্ছনীয়।

শুভ্র ঘোষদস্তিদার

কলকাতা-১২৫

 

সান্টে

• ‘নীরবে মামলা মেটালেন...’ (২৩-২) শীর্ষক নিবন্ধে একটি শব্দ ‘সাল্টে’র ব্যবহার ও উৎপত্তি নিয়ে চিঠি লিখেছেন সুরথ রায়। দিনাজপুর জেলার আঞ্চলিক ভাষায় একটি শব্দ ‘সান্টানো’। যার অর্থ পরিষ্কার করা, গুটিয়ে নেয়া, ঝেড়ে ফেলে দেওয়া ইত্যাদি। সেই হিসাবে কথ্য ভাষার নিম্নোক্ত ব্যবহার প্রণিধানযোগ্য— ‘আগিনা সান্টে নিনু গে।’ ‘বিহানবেলা ঘরদুয়ার সান্টে মোক যাবা হোবে বাপের বাড়ি’ ইত্যাদি। (অঙ্গন= আঙিনা = আগিনা।)। এই জেলার গ্রামেগঞ্জে দেশি, পলিয়া, রাজবংশী সমাজে, এমনকী মুসলিম সমাজেও কথ্য ভাষায় এই শব্দ ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আঞ্চলিক উচ্চারণভেদে রাজ্যের অন্য জেলাগুলির গ্রামগুলিতেও সাল্টে বা সান্টে শব্দের ব্যবহার লক্ষণীয়। শব্দটি কখনওই অমার্জিত বলা শোভনীয় নয়। ভাষার বৈচিত্র অনেক ব্যঞ্জনা বহন করে বইকি!

গোবিন্দ তালুকদার

বুনিয়াদপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর

 

সলটানা

• সাল্টে ফেলা, সাল্টে দেওয়া, সাল্টে নেওয়া ইত্যাদি শব্দবন্ধ প্রায়ই সংবাদপত্রে, গল্পে ব্যবহৃত হতে দেখি। জওহরলাল নেহরুর একটি কল্পিত সাক্ষাৎকারে (৩০ নভেম্বর, ২০১৪ রবিবাসরীয় আনন্দবাজার পত্রিকা, শান্তনু চক্রবর্তী) প্রতিবেদক নেহরুকে বলেছিলেন— যদি ওঁর বদলে বল্লভভাই পটেল প্রধানমন্ত্রী হতেন, তিনি ‘কাশ্মীর ইস্যু তুড়ি মেরে সাল্টে দিতেন’। এর অর্থ ধরা যেতে পারে tactful maneuvering.

অনুমান করা যায়, ‘সাল্টে’ বাংলায় ব্যবহৃত হচ্ছে হিন্দি ‘সলটানা’ শব্দ থেকে। সলটানা ইংরেজি অর্থে— have out— to settle a matter or come to (a final decision) esp. by fighting or frank discussion (often in the phrase have it out) to have extracted or remove (example - I had a tooth out). — Collins English Dictionary.

ত্রিদিব মিশ্র

শান্তিনিকেতন

 

‘সন্মান’ হয়

• ‘সন্‌মান’ (১৬-১) চিঠির প্রেক্ষিতে বলি, সম্মান ও সন্মান, দুটোই সমার্থক এবং শুদ্ধ। হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বঙ্গীয়শব্দকোষে এ-দুটির অর্থ— সমাদর, পূজা। একই ভাবে সম্মুখ (সম্‌মুখ) ও সন্মুখ (সন্‌মুখ) শব্দও শুদ্ধ ও সমার্থক।

জ্যোতি চক্রবর্তী

কৃষ্ণনগর, হুগলি

 

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট,
কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়