পশ্চিমবঙ্গে সরকারি-বেসরকারি বাস, ট্রাম, ট্রেনে একাধিক বসার সিট সংরক্ষিত ‘প্রতিবন্ধী’দের জন্য। কেউ কেউ লেখেন ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’দের জন্য। ইংরেজিতে লেখেন 'Handicapped', কিন্তু এই নেতিবাচক শব্দগুলি, বা যে শব্দ কিছু মানুষকে আঘাত করে— সেই শব্দগুলি, কোন অধিকারে, কোন যুক্তিতে আজও ব্যবহৃত হচ্ছে? 

১৯৯৪ সালের সালমানকা কনফারেন্সে (স্পেনের সালমানকা নগরীতে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পৃথিবীর ৯৫টি রাষ্ট্র এবং ২৫টি আন্তর্জাতিক মানের সংস্থা একত্রে বসে আলোচনা করে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে) ‘ডিসএবল্‌ড’ এবং ‘চিলড্রেন উইথ স্পেশাল নিড’ শব্দগুলি ব্যবহৃত হয়েছে এবং ‘হ্যান্ডিক্যাপড’ বা ‘প্রতিবন্ধী’ শব্দের ব্যবহারকে একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক করে দেওয়া হয়েছে। ১৯৯৫ সালের ভারত সরকারের ‘দ্য পার্সনস উইথ ডিসএবিলিটিজ় অ্যাক্ট’-এও সালমানকা কনফারেন্সকে স্বীকার করে ‘হ্যান্ডিক্যাপড’ বা ‘প্রতিবন্ধী’ শব্দের ব্যবহারকে পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়েছে। ১৯৯৫ সাল থেকে আজ অবধি সমস্ত সরকারি নোটিসে, আইনে, অক্ষম (ডিসএবল্‌ড) এবং বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু (চিলড্রেন উইথ স্পেশাল নিড) ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে, এই ‘ডিসএবল্‌ড’ বা ‘অক্ষম’ ব্যবহার করলেও ওঁদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশিত হয়।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ‘চ্যালেঞ্জড’ শব্দটিকে বহুল ভাবে ব্যবহারের প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে ‘ডিসএবল্‌ড’-এর বিকল্প হিসাবে। নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক জন অধ্যাপক দীর্ঘ আলোচনায় বসেন ‘চ্যালেঞ্জড’ শব্দের বাংলা খুঁজতে। তাঁরা ‘প্রতিস্পর্ধী’ শব্দটিকে ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেন। শব্দটির বহুল প্রচলনের জন্য কলকাতায় অবস্থিত ‘আরোগ্য সন্ধান চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’ ‘প্রতিস্পর্ধী’ নামে একটি দ্বিমাসিক পত্রিকা গত পাঁচ বছর ধরে প্রকাশ করছেন।

একই ভাবে ‘অন্ধ’ শব্দটির বদলে দৃষ্টিহীন বা দৃষ্টিগত প্রতিস্পর্ধী, ‘মানসিক প্রতিবন্ধী’র বদলে বিকাশগত প্রতিস্পর্ধী বা বৌদ্ধিক প্রতিস্পর্ধী, বধির এবং মূক শব্দের বিকল্প হিসাবে বাক্‌-শ্রুতিগত প্রতিস্পর্ধী ইত্যাদি ব্যবহার করার কথা আমাদের সক্রিয় ভাবেই ভাবতে হবে। হেলেন কেলারের কথাকে কী করে বিস্মৃত হই, ''Not my blindness, but the attutude of the seeing to the blind is the hardest burden to bear.''

বিষ্ণুপদ নন্দ

কলকাতা-৩২

বাচ্চার ব্যাগ

বিভিন্ন সময়ে খবরের কাগজে লেখালিখি হয়ে থাকে শিশুদের স্কুলের বইয়ের ব্যাগের ওজন বিষয়ে। এই ওজন বেশি হলে শিশুদের নানা রোগের সূত্রপাত হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, আইন বা বিশেষজ্ঞের মতামতকে উপেক্ষা করে, শিশুদের বইয়ের ব্যাগের ভার ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। এমতাবস্থায় শিক্ষা দফতরের উচিত, দুই সেট বইয়ের বন্দোবস্ত করা। একটি সেট থাকবে স্কুলের মধ্যেই, স্কুলে পড়ার জন্য। আর অন্য সেটটি থাকবে বাড়িতে। তা হলে আর মোটা মোটা একগুচ্ছ বই নিয়ে আর স্কুলে যেতে হবে না। মেরুদণ্ডের সম্ভাব্য অসুখ থেকে শিশুরা রক্ষা পাবে।

সাথী পাল

লক্ষ্মীসাগর, বাঁকুড়া

 

আরও আলু

রাজ্যবাসীকে আরও বেশি আলু খেতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী (‘বেশি আলু খান, চাষিদের বাঁচাতে পরামর্শ’ ২৩-২)। কিন্তু রাতারাতি জনসংখ্যাও বাড়বে না, মানুষও আলু খাওয়া বাড়াবে না। আলুচাষিকে বাঁচাতে হলে রফতানি বাড়াতে হবে। তার ছবিটা কেমন? ২০১১-১২ সালে এ রাজ্য থেকে রফতানির পরিমাণ ছিল ৭,৮০০ টন, মূল্য সাড়ে চার কোটি টাকার কিছু বেশি। এর পরে রফতানি দ্রুত কমেছে, ২০১৭-১৮ সালে মাত্র ২৩ টন আলু বিদেশে গিয়েছে। 

গোটা দেশের ছবিটাও তাই। ২০১৩-১৪ সালে ৩৩,০০০ টন আলু রফতানি হয়েছিল, ২০১৭-১৮ সালে মাত্র ১১০০ টন।

তার কারণ, ২০১৪ সালের পর রাশিয়া শর্ত করে, ‘নিমাটোড’ কৃমির উপস্থিতি নির্মূল না করতে পারলে আলু তারা কিনবে না। এর পরে রাশিয়া থেকে বহু বার অনেক আমদানিকারী কলকাতায় এসেছেন আলুর খোঁজে। কিন্তু নিমাটোড-শূন্য আলুর চাষে উৎসাহ, কিংবা ফসলের গুণমানের সার্টিফিকেট দেওয়ার কাজে সরকার পর্যাপ্ত উদ্যোগ করেনি। তাই কলকাতার ব্যবসায়ীরা রফতানি করতে পারেননি। যদিও ইউরোপের নানা দেশে আমাদের আলুর, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের ‘জলপাই আলু’-র প্রচুর চাহিদা আছে। 

রফতানির চিত্রে দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের স্থান কী? ২০১১-১২ সালের তথ্য অনুযায়ী, আলু উৎপাদনে মহারাষ্ট্রের স্থান ১৪, কিন্তু রফতানিতে প্রথম। উৎপাদনে তামিলনাড়ুর স্থান ২০, রফতানিতে দ্বিতীয়। এ রাজ্য আলু উৎপাদনে দ্বিতীয়, রফতানিতে ছিল তৃতীয়। গত আর্থিক বছরে রফতানিতে প্রথম ছিল মহারাষ্ট্র, দ্বিতীয় বিহার, তৃতীয় তামিলনাড়ু, চতুর্থ কেরল, পঞ্চম রাজস্থান এবং ষষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গ। যদিও আমরা উৎপাদনে এখনও দ্বিতীয়। শুধু আলু নয়। বিভিন্ন সব্জি, পান উৎপাদনে এ রাজ্য প্রথম, কিন্তু রফতানিতে স্থান শেষের দিকে। 

রফতানি করতে গেলে ভারতের কৃষিমন্ত্রকের অন্তর্গত ‘ডিরেক্টরেট অব প্লান্ট প্রোটেকশন, কোয়ারেন্টাইন অ্যান্ড স্টোরেজ’-এর দফতর থেকে ‘ফাইটো স্যানিটারি সার্টিফিকেট’ নিতে হয়। সেই সার্টিফিকেট পেতে নানা সমস্যা হয় এ রাজ্যের ব্যবসায়ীদের। রাজ্য সরকারেরও কিন্তু এই সার্টিফিকেটে প্রদানের অধিকার আছে। কিন্তু সে ব্যবস্থা নেই। রাজ্য যদি এই সার্টিফিকেট দেয় এবং রফতানির পরিকাঠামোর ব্যবস্থা করে, তা হলে কৃষক, কৃষিভিত্তিক শিল্পে নিযুক্ত কর্মী, রফতানিকারী, সকলেই উপকৃত হবেন। নতুন কর্মসংস্থান হবে। উৎপাদন নিয়ে আমরা গর্ব করি, অথচ বিপণন নিয়ে লজ্জায় লুকোতে হয়। এমন কত দিন চলবে?

অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

সদস্য, ওয়েস্ট বেঙ্গল ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবল এক্সপোর্টার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন 

 

গবেষণা দরকার

রাজনৈতিক সভায় আলু কেনার কথা ঘোষণা করেছে সরকার। এতে চাষির উন্নতি কতটা হবে? এ বছর ১৩০ লক্ষ টন আলু উৎপাদন হবে বলে প্রত্যাশা। রাজ্যের প্রয়োজন ৬৫-৭০ লক্ষ টন। বাকি ৬০ লক্ষ  টনের ভবিষ্যৎ কী? ২০১৮ সালের আলু ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিমঘরে ছিল। এ রাজ্যের আলু অন্য রাজ্যে যাওয়া প্রায় বন্ধের মুখে। আগে পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়ার আলু যেত ওড়িশা, অন্ধপ্রদেশের উপকূল এবং ঝাড়খণ্ডে। পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদের আলু ঝাড়খণ্ড এবং বিহারে পাঠানো হত। উত্তরবঙ্গের আলু অসম এবং উত্তরপূর্ব ভারতে যেত। ২০১৪ সালে আলু যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘ দিন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক পরিকাঠামো নষ্ট হয়ে যায়। ফলে রাজ্যে আলুর বাজার ও দাম দুটোই কমেছে। 

মাঝে মাঝেই বলা হয়, আলু বিদেশে রফতানির কথা। কিন্তু তার আগে, যে সব দেশে আমরা আলু পাঠাতে চাই, সেই সব দেশ এখন খাওয়ার জন্য বা শিল্পের প্রয়োজনে কী আলু ব্যবহার করে, তার গবেষণা দরকার। কী দামে, কোন গুণমানের আলু বিভিন্ন দেশ কেনে, সে তথ্য যাচাই করা প্রথম পদক্ষেপ। দ্বিতীয়ত, আলু অথবা অপর কোনও কৃষিপণ্যের রফতানি এক বার শুরু হলে, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে কখনওই সরবরাহ বন্ধ করা যাবে না। 

এ রাজ্যে কৃষির শিক্ষা, গবেষণা এবং উন্নত চাষের পদ্ধতির সম্প্রসারণের মধ্যে ফাঁক প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে। ৫০ বছর আগে (১৯৬৮) জ্যোতি আলু বাণিজ্যিক ভাবে বাজারে এসেছিল প্রথম। তার বিকল্প আজও আমরা বাংলার চাষিকে দিতে পারিনি। যদিও আরও উন্নত প্রজাতির আলু এখন অন্যত্র চাষ করা হয়। 

সত্যব্রত মুখোপাধ্যায়

বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু, 

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, 

কলকাতা-৭০০০০১। 

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।