E-Paper

দিল্লি ডায়েরি: মহিলা বলে নয়, যোগ্যতার জোরে

নাম সুসান ইলিয়াস। কেরলের ভূমিকন্যা। লেখাপড়া চেন্নাইয়ে। মাদ্রাজ ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স ও টেকনোলজিতে বি ই, তার পরে এম ই ও পিএইচ ডি করার পরে সুসান কৃত্রিম মেধা ও ডিপ টেক নিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন।

প্রেমাংশু চৌধুরী, অগ্নি রায়, অনমিত্র সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ ০৭:৪৭

দিল্লির সেন্ট স্টিফেন’স কলেজের প্রাক্তনীদের তালিকা বেশ চমকে দেওয়ার মতো। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর থেকে অর্থনীতিবিদ মন্টেক সিংহ অহলুওয়ালিয়া, সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় থেকে লেখক অমিতাভ ঘোষ। কলেজের ১৪৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও মহিলা এই খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ পদে বিবেচিত হলেন। তাঁর নাম সুসান ইলিয়াস। কেরলের ভূমিকন্যা। লেখাপড়া চেন্নাইয়ে। মাদ্রাজ ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স ও টেকনোলজিতে বি ই, তার পরে এম ই ও পিএইচ ডি করার পরে সুসান কৃত্রিম মেধা ও ডিপ টেক নিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। এত দিন ছিলেন চণ্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য। সেন্ট স্টিফেন’স তাঁর নাম নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে ঘোষণা করার পরে, নিয়োগ প্রক্রিয়া সব নিয়ম মেনে হয়নি বলে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় আপাতত নিয়োগ স্থগিত রাখতে বলেছে ঠিকই। তবে সুসান মনে করিয়ে দিয়েছেন, মহিলা হওয়ার সুবাদে তাঁকে ভাবা হয়নি। শিক্ষাগত যোগ্যতা, গবেষণা ও অভিজ্ঞতার জোরেই তাঁকে এগোতে হয়েছে।

উত্থান: সুসান ইলিয়াস।

উত্থান: সুসান ইলিয়াস।

সেন্ট স্টিফেন’স কলেজ, দিল্লি।

সেন্ট স্টিফেন’স কলেজ, দিল্লি।

বিয়ে বলে কথা!

প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার নামার কথা ছিল হায়দরাবাদের আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারের মাঠে। কিন্তু সেই ভবনেই বিআরএস নেতা, তেলঙ্গানার বিধান পরিষদের সদস্য এম সি কোটি রেড্ডির ছেলে অজিতের বিয়ের অনুষ্ঠান। পাত্রী রাজ্যের আইপিএস কারাইকালের কন্যা লক্ষ্মী সৌজন্য। নিমন্ত্রিত অতিথি প্রায় পাঁচ হাজার। এর মধ্যে যদি প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার নামে, তা হলে নিরাপত্তা প্রোটোকলের ঠেলায় দুই পরিবারের লোকজন ও অতিথিদের চূড়ান্ত হেনস্থা হবে। জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নির্দেশ দিলেন, হেলিকপ্টার অন্যত্র নামানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁর কপ্টার আঠারো কিলোমিটার দূরে গিয়ে নামল। বিয়েবাড়ির লোকেরা হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন। গত ১০ মে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তেলঙ্গানা সফরের ঘটনা।

বঙ্গ-মিষ্টির জয়জয়কার

রাজ্যে পালাবদলের পর শুধু ঝালমুড়ি নয়, নয়াদিল্লিতে এবং তার বিদেশনীতিতেও যত্রতত্র মুখ দেখাচ্ছে বঙ্গ। প্রধানমন্ত্রীর ইউরোপ সফরে যেমন উঠে এসেছে ঝালমুড়ি প্রসঙ্গ, তেমনই প্রবাসী ভারতীয় কন্যাদেরও লালপাড় শাড়ি পরে উলুধ্বনি করতে দেখা গিয়েছে, যেমনটা এর আগে কখনও দেখা যায়নি। আবার রাজধানীর বিদেশ মন্ত্রকের জওহর ভবনে প্রধানমন্ত্রীর সফর সংক্রান্ত সাংবাদিক সম্মেলন শেষে মুখ দেখাল সন্দেশ! ফলে বাকি পেস্ট্রি, বেসনের লাড্ডু, সামোসা সব পড়েই রইল, আর কিছু ক্ষণের মধ্যেই উধাও হয়ে গেল বাঙালি সন্দেশ। আর এর কয়েক ঘণ্টা আগেই কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও পর্যটনমন্ত্রী গজেন্দ্র সিংহ শেখাওয়াতের সাংবাদিক সম্মেলনে খাস কলকাতার রসগোল্লা দিয়ে আপ্যায়ন করা হল অভ্যাগতদের। কেন্দ্রীয় কর্তারা বলছেন, এমন স্বাদবদল নাকি সর্বদাই কাঙ্ক্ষিত!

গেরুয়ার ছটা

রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরে চলতি সপ্তাহে প্রথম বার দিল্লি আসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। লক্ষ্য ছিল কেন্দ্রের শীর্ষ মন্ত্রীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পাশাপাশি বাংলার আর্থিক উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করা। এ দিকে তাঁর আসা নিয়ে রীতিমতো সাজ-সাজ রব পড়ে যায় দিল্লির দুই বঙ্গভবনে। ঝাড়পোঁছ করে, রঙের কলি ফিরিয়ে তড়িঘড়ি নতুন করে সাজানো হয় দুই ভবনই। সরে গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি-পোস্টার। ঢেকে দেওয়া হয়েছে বিশ্ব বাংলা লোগো। পরিবর্তে ভবনের প্রবেশদ্বার থেকে ভবনের বিভিন্ন স্থানে বসেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি দেওয়া একাধিক পোস্টার। তাৎপর্যপূর্ণ হল, দু’টি ভবনই কলকাতার সরকারি বাড়িগুলির মতোই সেজে উঠেছে গেরুয়া আলোয়। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম রাজধানী-সফর বলে কথা! অভ্যর্থনায় ফাঁক নেই।

বদল: বঙ্গভবনের প্রবেশদ্বারে এই ছবি।

বদল: বঙ্গভবনের প্রবেশদ্বারে এই ছবি।

নিশাচর

একাধিক মহাকাশ মিশন নিয়ে খুবই ব্যস্ত ইসরো-প্রধান ভি নারায়ণন। বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও ভূবিজ্ঞানের কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহকে সর্বশেষ খবরাখবর মোবাইল বার্তায় পাঠান ভোর তিনটের সময়। তার পর শুতে যান। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে এই তথ্য ফাঁস করেছেন স্বয়ং মন্ত্রিমশাই! সেই সঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীর কাজের চাপ নিয়ে। প্রশ্নের মুখ মন্ত্রীর দিকে ঘুরিয়ে নারায়ণন পাল্টা বলেছেন যে, তিনিও তো ভোর তিনটের সময়ই বার্তা পড়ে প্রয়োজনীয় উত্তর দেন! ফলে রাত জাগায় দু’জনেই অভ্যস্ত।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Delhi Diary St Stephen’s College Delhi Women Empowerment Woman Power

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy