সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

এ বার নূতন পর্ব 

Shinzō Abe
—ফাইল চিত্র।

পদত্যাগের কথা ঘোষণা করিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। দ্বিতীয় বার। ইতিপূর্বে ২০০৭ সালেও তিনি সমরূপ অসুস্থতার কারণ দর্শাইয়া সন্ন্যাস লইয়াছিলেন, শেষাবধি প্রত্যাবর্তনও করিয়াছিলেন। সফল রাজনীতিক আবে এই বারও তাহা করিবেন কি না সময়ই বলিবে, কিন্তু ইত্যবসরে তাঁহার কর্মসময়ের মূল্যায়ন চলিতে পারে। আবের নিকট ভারত এতই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, তাঁহাকে ‘ভারতবন্ধু’ বলিলেও ভ্রম হয় না। একবিংশ শতাব্দীতে তাঁহার হাত ধরিয়াই জাপান-ভারত সম্পর্ক মজবুত হয়। রাজনৈতিক জমানা ব্যতিরেকেই। ২০০৭ সালে ভারতীয় সংসদের যৌথ অধিবেশনে বক্তৃতা করিয়াছিলেন আবে। ‘দুই সাগরের সঙ্গমস্থল’, যাহা অধুনা ইন্দো-প্যাসিফিক নামে পরিচিত, তাহার ধারণা দিয়াছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াকে সঙ্গে লইয়া চার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কূটনৈতিক জোটের কথাও বলিয়াছিলেন। ইহার ফলে ভারতের সম্মুখে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল অবধি কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তার করিবার ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়। স্মরণ করা যাইতে পারে, জওহরলাল নেহরুর সহিত আবের প্রমাতামহ তথা জাপানের ভূতপূর্ব প্রধানমন্ত্রী নোবুসুকে কিশি-র ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক ছিল।

জাপানের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বের ক্ষেত্রে তাঁহার কৃতিত্ব অনেক। টোকিয়োর প্রভাব-দিগন্তটি ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, এশিয়ায় চিনের একতরফা বাহুবলের বিপরীতে অপর একটি সম্ভাবনার জন্ম হয়। এ যাবৎ জাপান অর্থনৈতিক শক্তি হিসাবে পরিগণিত হইলেও তাহার ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব তুলনীয় ছিল না। সেই ঘাটতি-পূরণে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুসারে আগাইয়াছেন আবে, এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আপন দেশের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করিতে সফল হইয়াছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর পর্বে আমেরিকার ছায়াতেই লালিত হইয়াছিল জাপান, আবে তাহাকে আপন শক্তিতে দাঁড় করাইয়াছেন। কেবল পূর্ব এশিয়ায় নহে, সমগ্র মহাদেশ এবং আফ্রিকাতেও তাঁহার আর্থিক নীতি— যাহা ‘আবেনমিক্স’ নামে খ্যাত— কার্যকর প্রমাণিত হইয়াছে।

আবের উত্তরসূরি বাছিয়া লওয়া সহজ কাজ নহে। শাসক দলের তিনটি বৃহৎ গোষ্ঠীর একাধিক বৈঠকেই তাহা স্পষ্ট। বর্তমানে জাপানের রাজনীতিতে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি আবে, নিজস্ব নির্বাচনী ক্ষেত্রেও তিনি অতি জনপ্রিয়। ৬৫ বৎসর বয়সি এই রাজনীতিক জাপানের সর্বাধিক কাল ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী। তাঁহার উত্তরসূরিকে আবে-পূর্ব জমানার রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কৌশলগত পশ্চাৎপদতার দিনগুলি স্মরণে রাখিতে হইবে। অর্থাৎ যিনিই প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হউন না কেন, তাঁহাকে আপাতত আবের দেখানো পথেই চলিতে হইবে। আর এক বৎসর পরেই জাপানে সাধারণ নির্বাচন— তাহার পূর্বে সরকারের নূতন নেতার প্রতি জনতার আশা সু-উচ্চ তারে বাঁধা থাকিবে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাইতে না পারিবার কারণে অভিযোগে বিদ্ধ হইতেছে সেই দেশের প্রশাসন। আবের পদত্যাগের পশ্চাতে তাহাও হয়তো একটি কারণ। এই মুহূর্তে আবের দেখাইয়া যাওয়া পথ হইতে জাপান হয়তো সরিবে না। কিন্তু ভবিষ্যতের কথা কে বলিবে। ভারতকে প্রস্তুত থাকিতে হইবে, জাপানের সহিত তাহার সম্পর্ক অচিরে আরও সতর্কতা দাবি করিতে পারে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন