যা মৌলিক ভাবেই নিকৃষ্ট, ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়েও তা নিকৃষ্টই থাকে। আরও এক বার এ কথা প্রমাণ করে দিল ইসলামিক স্টেট (আইএস)। সন্ত্রাসবাদের বীভত্স মুখচ্ছবিটা পৃথিবীকে বার বার দেখতে বাধ্য করেছে এই জঙ্গি সংগঠন। মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর নিরন্তর অভিযানে মানবতার এই জঘন্যতম শত্রুরা খাদের কিনারায় পৌঁছে গিয়েছে। কিন্তু গরলের অন্তিম কণাটাও বিষাক্তই হয়। তাই বীভত্স নৃশংতার সাধনা এখনও চালিয়ে যাচ্ছে মরণাপন্ন সংগঠনটা।

শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস। আত্মাঘাতী বোমারুদের পাঠিয়ে শ্রীলঙ্কাকে রক্তাক্ত উপহার দেওয়া হল— দায় স্বীকারের বয়ানেও যেন নৃশংস উল্লাস। সমগ্র সভ্যতার এই ঘৃণিত শত্রুদের পূর্ণত নিঃশেষ না করা পর্যন্ত যে শান্তি পাবে না মানব জাতি, আইএস নিজেই তা আবার প্রমাণ করে দিল।

কিন্তু প্রশ্ন হল, আর কত বার এই রকম হাড় হিম করে দেওয়া গণসংহার সহ্য করব আমরা? আর কত দিন সন্ত্রাসের সামনে অসহায়ের মতো আচরণ করব? চূড়ান্ত বোঝাপড়াটা কেন সেরে নেব না যত দ্রুত সম্ভব?

সম্পাদক অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা আপনার ইনবক্সে পেতে চান? সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

আমেরিকার নেতৃত্বে আইএস-এর বিরুদ্ধে এক দীর্ঘ তথা প্রলম্বিত যুদ্ধ মধ্য এশিয়ায় চলছে ঠিকই। কিন্তু আইএস বা তার কার্যকলাপ শুধু মধ্য বা পশ্চিম এশিয়ায় সীমাবদ্ধ নেই। মানবসভ্যতার নানা প্রান্ত বার বার আক্রান্ত হচ্ছে, রক্তাক্ত হচ্ছে এই জঙ্গিগোষ্ঠীর নৃশংতায়। অতএব লড়াইটা এ বার গোটা পৃথিবীতেই শুরু হওয়া উচিত। আইএস-এর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আক্রমণে বা অভিযানে যাওয়া উচিত সব শক্তির।

যদিও আইএস শেষ হলেই পৃথিবী থেকে সন্ত্রাসের শেষ চিহ্নটুকু মুছে যাবে, এমনটা ধরে নেওয়া দূর আশা। কিন্তু তাতে হতোদ্যম হওয়ার অবকাশ নেই। সভ্যতার প্রত্যেকটা প্রান্তকে সজাগ-সচেতন করে তুলতে হবে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক এবং চূড়ান্ত লড়াইটা শুরু করে দিতে হবে এখনই।

আরও পড়ুন: জঙ্গি পরিবারের খোঁজ, শ্রীলঙ্কায় দায় নিল আইএস

আরও পড়ুন: দেহগুলোকে চিনতে এখন জুতোই সম্বল

শ্রীলঙ্কায় যে ঘটনা ঘটে গেল, তার কোনও রকম পুনরাবৃত্তিই আর দেখতে চায় না মানবজাতি। যাবতীয় দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে, যাবতীয় সঙ্কীর্ণ স্বার্থ সরিয়ে রেখে, যাবতীয় মতপার্থক্য বিসর্জন দিয়ে বিশ্বের প্রতিটা প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রকে একত্র করে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা দরকার এ বার। শেষ গরল বিন্দুটা না মুছে ফেলা পর্যন্ত এ যুদ্ধ থামানো যাবে না।