Advertisement
E-Paper

শহর থেকে গ্রামের স্কুলে যেতে চাইলে নিঃশর্তে আবেদন মঞ্জুরের দাবি শিক্ষকদের, বদলি নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু সরকারেরও

কলকাতাতেই এমন স্কুল রয়েছে যেখানে পড়ুয়ার থেকে শিক্ষকের সংখ্যা বেশি। কোনও স্কুলে আবার ৩৫০ পড়ুয়ার জন্য ৩০ জনের বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। গ্রামের দিকে আবার দেখা যায় আড়াই হাজার পড়ুয়ার জন্যও পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ ১৪:১৬

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

২০২২ সাল থেকেই নাকি শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত পোর্টাল ‘উৎসশ্রী’ বন্ধ, এমনই অভিযোগ। ফলে থমকে রয়েছে সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলে শিক্ষকদের বদলি। অনলাইনে আবার বদলি প্রক্রিয়া শুরু করার আবেদন জানালেন শিক্ষকেরা। কিন্তু, এ বারের শিক্ষকদের আবেদন একটু অন্যরকম বলে মনে করছেন দফতরের কর্তারা।

শহরের বেসরকারি স্কুলের সঙ্গে নানা প্রতিযোগিতায় সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের একটা বড় অংশ পিছিয়ে পড়ছে বলে মানছেন শিক্ষকেরাই। স্কুলশিক্ষা দফতরের সূত্রে খবর, এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে নানা পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। তবে শহরতলি বা গ্রামের দিকের একটা বড় অংশের অভিভাবকদের কাছে এখনও ভরসার স্থল এই সব স্কুলগুলিই। সম্প্রতি বিকাশ ভবনে বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে স্কুলশিক্ষা দফতরের কর্তাদের এক বৈঠকে উঠে এসেছে এই প্রসঙ্গও। গ্রাম থেকে যে সব শিক্ষকেরা শহরে এসে গিয়েছেন, তাঁদের ফেরানো যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও খবর।

এরই মধ্যে ‘বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি’ নামক শিক্ষকদের এক সংগঠনের তরফ থেকে আবেদন করা হয়েছে যে, কোনও শিক্ষক বা শিক্ষিকা শহর থেকে গ্রামে বদলি হওয়ার আবেদন করলে, সেটা যেন নিঃশর্ত ভাবে পূরণ করা হয়। শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত নানা আবেদনের মাঝে গ্রামে ফিরতে চাওয়ার বিষয়ে শিক্ষকদের এ রকম আবেদন বিরল বলেই মানছেন দফতরের কর্তাদের একাংশ। ‘বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘দ্রুত যেন শিক্ষকদের বদলি অনলাইনে শুরু করা হয়, সেই আবেদন করেছি। পাশাপাশি গ্রামের দিকে এই ধরনের স্কুলের বেশি চাহিদা রয়েছে। সেখানে কেউ যেতে চাইলে যেন নিঃশর্ত ভাবে তাঁকে পাঠানো হয়।’’ ওই স্মারকলিপিতে তাঁরা আরও দাবি করেছেন যে, বাড়ির কাছে বদলির আবেদনও যেন গ্রহণ করা হয়।

স্কুলশিক্ষা দফতরের সূত্রে খবর, পোর্টালের মাধ্যমে বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা গ্রাম থেকে শহরে চলে এসেছেন। তার পরে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির দায়ে ২০১৬ সালের শিক্ষকদের প্যানেল বাতিল হওয়ার ফলেও শিক্ষকের ঘাটতি চোখে পড়ার মতো। সর্বত্র শিক্ষক-শিক্ষিকার সমবণ্টন নেই বলেও দাবি দফতরের। খাস কলকাতাতেও এমন স্কুল রয়েছে যেখানে পড়ুয়ার থেকে শিক্ষকের সংখ্যা বেশি। কোনও স্কুলে আবার ৩৫০ পড়ুয়ার জন্য ৩০ জনের বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। অথচ গ্রামের দিকে দেখা যায় যে, আড়াই হাজার পড়ুয়ার জন্যও পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। ফলে শহর থেকে গ্রামে শিক্ষকদের পাঠানো যায় কি না, সেই প্রক্রিয়া নিয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে বলে খবর। শিক্ষাকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। যার মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষিকার বদলি এবং সমবণ্টন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করছেন শিক্ষা দফতরের কর্তারা। চলতি মাসের শেষে জেলা স্কুল পরিদর্শকদের সঙ্গে বৈঠকেও এই বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে স্কুলশিক্ষা দফতর।

School Education Department West Bengal
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy