স্নাতকের প্রথম তিন বছরে কোনও বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও সপ্তম সেমেস্টারে ভর্তি হতে পারবেন পড়ুয়ারা। পড়ুয়াদের স্বার্থে কিছুটা নিয়ম শিথিল করল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। যদিও বেশ কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, স্নাতকে ‘মাইনর’ বিষয়ে অকৃতকার্যের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। এমনও দেখা গিয়েছে কোনও পড়ুয়া চতুর্থ সেমেস্টারে মেজর বিষয়ে ৭০ শতাংশের উপরে নম্বর পেলেও মাইনের উত্তীর্ণ হতে পারেননি। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী ষষ্ঠ সেমেস্টারে কোনও পড়ুয়ার মেজর বিষয়ে ৭৫ শতাংশ নম্বর থাকলে তিনি চতুর্থ বর্ষে ‘অনার্স উইথ রিসার্চ’ করার যোগ্যতা অর্জন করবেন। কিন্তু ওই পড়ুয়া যদি কোনও মাইনর বিষয়ে পাশ না করে থাকেন, তা হলে তিনি ওই কোর্সে যোগ দিতে পারবেন না। তাঁর বছর নষ্ট হবে। সাপ্লিমেন্টারি পদ্ধতি যে হেতু বন্ধ তাই উপায়ান্তর থাকছে না।
এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারের উপায় খুঁজতেই এপ্রিল ও মে মাসে দফায় দফায় বৈঠকে বসেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সূত্রের খবর, একের পর এক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কলেজগুলির সঙ্গে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রফাসূত্র পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, মাইনর বিষয়ে অকৃতকার্য পড়ুয়াদের জন্য ফের পরীক্ষা দিতেই হবে। তবে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রেগুলেশন’-এর কিছু পরিবর্তন ঘটিয়ে এবং বেশ কয়েকটি শর্ত আরোপ করে অবশেষে মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে হল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে।
আরও পড়ুন:
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ জানান, নিয়মের কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রধান সমস্যা হচ্ছিল সপ্তম সেমেস্টারের পড়ুয়াদের নিয়ে। কারণ এই সেমেস্টার থেকেই স্নাতকের পুরনো পদ্ধতির বদলে পড়ুয়ারা নতুন নিয়মে ‘অনার্স উইথ রিসার্চ’ নিয়ে পড়তে পারবেন।” কিন্তু এ ক্ষেত্রে নিয়ম হল সিজিপিএ থাকতে হবে ৭.৫। কিন্তু কোনও বিষয়ে ফেল করলে এই সিজিপিএ পাওয়া যায় না। ফলে এ ক্ষেত্রে কোনও ভাবেই কোনও বিষয়ে ফেল করা পড়ুয়াকে অনার্স উইথ রিসার্চে ভর্তি করানো যাবে না। যদি তাঁকে অনার্স উইথ রিসার্চে ভর্তি হতে হয় তা হলে এক বছর পরে ফের সেমেস্টারের পরীক্ষা দিয়েই অনার্স উইথ রিসার্চে ৭.৫ সিজিপিএ সংগ্রহ করে ভর্তি হতে হবে কারণ সাপ্লিমেন্টারি পদ্ধতি বন্ধ করা হয়েছে। তবে নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে অনার্সের ক্ষেত্রে।
কী রকম ?
উপাচার্য জানান, যদি কোনও পড়ুয়া প্রথম থেকে ষষ্ঠ সেমেস্টারের কোনও বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হন, তা হলে তিনি সপ্তম সেমেস্টারে ভর্তি হতে পারবেন। কিন্তু প্রধান শর্ত ওই পড়ুয়া বিগত বছর যে কলেজে পড়াশোনা করেছেন সেখানেই ভর্তি হতে হবে। কারণ অন্য কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে গেলে যে শংসাপত্রের প্রয়োজন হয়, তা পাওয়া যাবে না সব বিষয়ে উত্তীর্ণ না হলে। তাই সংশ্লিষ্ট কলেজ থেকেই তাঁকে সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে।
নিয়ম পরিবর্তনের যুক্তি হিসেবে উপাচার্যের বক্তব্য, ‘‘প্রথম থেকে ষষ্ঠ সেমেস্টার পর্যন্ত কোনও বিষয়ে অকৃতকার্য হলে তাঁদের আবার পরের বছর পরীক্ষা দিতে হয়। সপ্তমের ক্ষেত্রেও সেই নিয়ম বহাল থাকল। এর ফলে বছর নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।’’
আরও পড়ুন:
তবে অনার্স পড়ার ক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়া হলেও অনার্স উইথ রিসার্চের ক্ষেত্রে আগের নিয়মই বহাল থাকল। এর পাশাপাশি অকৃতকার্যের সংখ্যা কমাতে সব সেমিস্টারের মধ্যে সমতা বজায় রেখে পাঠ্যক্রম তৈরি করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সে ক্ষেত্রেও কর্তৃপক্ষ আগের সিদ্ধান্তই বজায় রেখেছেন বলে খবর।