রাজ্যে পালাবদলের পরেই শিক্ষাক্ষেত্রে, বিশেষত স্কুলশিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে। স্কুলের প্রার্থনায় ‘বন্দে মাতরম’ গানের সংযুক্তি থেকে শুরু করে কেন্দ্রের পিএমশ্রী মডেল স্কুল প্রকল্পের অন্তর্ভুক্তি। এ বারে নজিরবিহীন ভাবে রাজ্যের সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের জেলাস্কুল পরিদর্শক (ডিআই)-দের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছে স্কুলশিক্ষা দফতর।
আগামী ২৮ মে উত্তরবঙ্গের এবং ২৯ মে দক্ষিণবঙ্গের ডিআই-দের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক হবে। এক জেলাস্কুল পরিদর্শক জানান, বিভাগীয় নানা বৈঠক মাঝেমধ্যে হয়েই থাকে। কিন্তু, আগে থেকে ৯টি ‘এজেন্ডা’ ঠিক করে দু’দিন ধরে বৈঠক করার ঘটনা বিরল। এই বৈঠকের মাধ্যমে স্কুলশিক্ষা স্তরে নানা পরিবর্তন হতে পারে, সেই আভাসই মিলছে বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি স্বপন দাশগুপ্ত, শঙ্কর ঘোষ-সহ একদল নব নির্বাচিত বিজেপি বিধায়কের সঙ্গে বৈঠক করেছেন স্কুলশিক্ষা দফতরের কর্তারা। সেখানেই আলোচিত বিভিন্ন বিষয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন শঙ্কর ঘোষ। আলোচিত ওই সব বিষয় থেকেই স্পষ্ট হয়েছিল যে, শিক্ষা ব্যবস্থায়, বিশেষত স্কুলশিক্ষার ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে। এ বার ডিআই-দের সঙ্গে বৈঠকে সেই বিষয়গুলিকে বাস্তবায়িত করার কাজই শুরু হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি যে চিঠি ডিআই-দের দেওয়া হয়েছে, সেখানে স্কুলের প্রার্থনার শুরুতেই ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। গরমের ছুটির শেষে আগামী ১ জুন থেকে সব সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুল খুলবে। খবর, তার আগেই এই বিষয়ে পরিকল্পনা করে রাখতে চাইছে সরকার। পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতিতে যে ভাবে জ্বালানি বাঁচানোর উদ্যোগ শুরু হয়েছে, সেই প্রেক্ষিতে অহেতুক খরচে রাশ টানার বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানান এক ডিআই। এ ছাড়া পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা নিয়েও জেলাস্কুল পরিদর্শকদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন দফতরের কর্তারা। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু স্কুলের শিক্ষক জানিয়েছেন যে, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা এখনও সাহিত্যের বই পায়নি। সূত্রের খবর, বই ছাপানো হয়ে গিয়েছে। কিন্তু কী কারণে তা এখনও পড়ুয়াদের কাছে পৌছোয়নি, সেই নিয়ে ধন্দে তাঁরা। তাই ওই বৈঠকে এই নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে মনে করছে শিক্ষামহল। পাশাপাশি শিক্ষকদের বদলি ও পেনশন নিয়ে যে সব সমস্যা রয়েছে, সেগুলিও মেটাতে চাইছে সরকার। দক্ষিণবঙ্গের এক জেলাস্কুল পরিদর্শক বলেন, ‘‘বিগত ১০ বছরে এ ভাবে কোনও বৈঠক হয়নি। গরমের ছুটির পরে স্কুল খোলার বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে। বিস্তারিত কী আলোচনা হয়, সেটাই দেখার।’’ তবে স্কুলশিক্ষায় বড় ধরনের কোনও পরিবর্তন হবে বলেই মনে করছে শিক্ষামহল।