Advertisement
E-Paper

গৃহশিক্ষকতায় না! এ বার মুচলেকা দিতে হবে স্কুলশিক্ষকদের, নির্দেশ ঘিরে তৈরি হচ্ছে দ্বন্দ্ব

স্কুলের শিক্ষকদের একাংশের প্রশ্ন, যাঁরা কোনও দিন গৃহশিক্ষকতা করেননি তাঁরা কেন এ ভাবে মুচলেকা দেবেন? স্কুলশিক্ষা দফতর থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে, এ ধরনের কোনও মুচলেকার নির্দেশ বিকাশ ভবন থেকে দেওয়া হয়নি। তবে দফতরের এক কর্তা জানান, শিক্ষার অধিকার আইনে এই মুচলেকা দেওয়ার উল্লেখ রয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬ ১৭:১৫

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

সরকার ও সরকার পোষিত স্কুলের কর্মরত শিক্ষকেরা করতে পারবেন না গৃহশিক্ষকতা। এই নির্দেশিকা আগেই জারি করেছে স্কুলশিক্ষা দফতর। এ বার আরও এক ধাপ এগিয়ে তাঁদের থেকে মুচলেকা দিতে বলল নদিয়া জেলা স্কুল শিক্ষা পরিদর্শকের অফিস।

সোমবার এই নির্দেশ ওই জেলার বিভিন্ন স্কুলে‌ পাঠানো হয়েছে বলে খবর। শিক্ষকদের লিখিত স্বীকারোক্তি ভবিষ্যতের জন্য যথাযথ ভাবে সংরক্ষণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কোনও অভিযোগ পেলে আইন ও সরকারি নির্দেশিকা মেনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্কুলের শিক্ষকদের একাংশের প্রশ্ন, যাঁরা কোনও দিন গৃহশিক্ষকতা করেননি তাঁরা কেন এ ভাবে মুচলেকা দেবেন? স্কুলশিক্ষা দফতর থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে, এ ধরনের কোনও মুচলেকার নির্দেশ বিকাশ ভবন থেকে দেওয়া হয়নি। তবে দফতরের এক কর্তা জানান, শিক্ষার অধিকার আইনে এই মুচলেকা দেওয়ার উল্লেখ রয়েছে। ফলে এই নির্দেশ দিয়ে কোনও বেআইনি কাজ করেনি নদিয়া।

শিক্ষকদের একাংশ অবশ্য নদিয়া স্কুল প্রশাসনের প্রশংসা করেছেন। তাঁদের দাবি, যাঁরা গৃহশিক্ষকতা করেন না, তাঁদের তো স্বীকারোক্তি দিতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

সম্প্রতি স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে সব জেলায় একটি নির্দেশ পাঠানো হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইনেই উল্লেখ রয়েছে কোনও কর্মরত স্কুলশিক্ষক গৃহশিক্ষকতা করতে পারবেন না। এর পর একাধিক বার সরকারের তরফ থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু সেই প্রবণতায় পুরোপুরি রাশ টানা যায়নি বলেই অভিযোগ। এ বারে এক ধাপ এগিয়ে ‘প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল স্কুলশিক্ষা দফতর। তবে স্কুলের তরফ থেকে যদি পিছিয়ে পড়া পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়, সেখানে পড়াতে পারবেন কর্মরত শিক্ষকেরা। এরই প্রেক্ষিতে নদিয়া জেলা থেকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘সরকার যদি আন্তরিক ভাবে গৃহশিক্ষকতা বন্ধের বিষয়ে উদ্যোগী হয় তা হলে তা অবশ্যই সমর্থনযোগ্য। কিন্তু আগের সরকারের আমলে দেখা গিয়েছে, অনেকেই তলে তলে গৃহশিক্ষকতা করে গিয়েছেন। তেমন ঘটলে সবটাই অর্থহীন হয়ে যাবে।’’

তবে জেলাস্কুল পরিদর্শকের এই উদ্যোগকে অতিসক্রিয়তাও হিসাবেও দেখছেন শিক্ষকদের একাংশ। মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলা সম্পাদক অনিমেষ হালদার বলেন, ‘‘এ বিষয়ে রাজ্য শিক্ষা দফতর তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করে নির্দেশিকা পাঠিয়েছে। সেখানে কোথাও বলা নেই এ ব্যাপারে মুচলেকা দিতে হবে। তা ছাড়া সব শিক্ষক মুচলেখা দিতে যাবেন কেন? নদিয়া জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের এই অতি সক্রিয়তার কোনও প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি না।’’

school Private tution
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy