Advertisement
E-Paper

লোধা-শবর উন্নয়নে উদ্যোগ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের! হুল দিবসে বিশেষ অনুষ্ঠান, মিলবে হস্তশিল্প সামগ্রীও

আদিবাসী সম্প্রদায়ের পড়ুয়াদের পেশাগত দিগ্‌দর্শনের উদ্যোগী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। এই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে সরাসরি কাজ হচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুর ও পুরুলিয়ার লোধা-শবর গ্রামগুলিতে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে সামাজিক ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬ ১৫:২৭
পুরুলিয়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরের কর্মশালা।

পুরুলিয়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরের কর্মশালা। ছবি: সংগৃহীত।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপণন কেন্দ্রে পাওয়া যাবে লোধা-শবরদের হাতে তৈরি নানা জিনিসপত্র। সম্প্রতি এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিউআর কোড ব্যবহার করে অর্থ পৌঁছে যাবে সরাসরি উৎপাদকের কাছে।

আদিবাসী সম্প্রদায়ের পড়ুয়াদের পেশাগত দিগ্‌দর্শনের উদ্যোগী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। এই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে সরাসরি কাজ হচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুর ও পুরুলিয়ার লোধা-শবর গ্রামগুলিতে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে সামাজিক ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রে প্রয়াত মহাশ্বেতাদেবীর তৈরি করা সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ করছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। গত ৬ ও ৭ জুন পুরুলিয়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে লোধা-শবর গ্রামের বাসিন্দাদের নিয়ে এক কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তা জানান, পঠনপাঠন, কর্মসংস্থান এবং স্বাস্থ্য— এই তিনটি ক্ষেত্রে সচেতনতা প্রসারই তাঁদের লক্ষ্য। সেই অনুযায়ী রক্তদান শিবিরের আয়োজনও করা হয়। তিনি বলেন, “এক সময়ে ওই গ্রামে রক্তসঙ্কট তৈরি হয়েছিল। ওখনা রক্তদান সংক্রান্ত কর্মসূচির কোনও প্রচার ছিল না। গত রবিবার পিংলায় রাজনোয়াগড়ে রক্তদান কর্মসূচি পালিত হয়। প্রায় ৪৫ জন লোধা সম্প্রদায়ের মানুষ রক্ত দেন।” পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ব্লাড ব্যাঙ্কের তরফে ওই রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে বলে খবর। ওই কর্তার দাবি, প্রত্যন্ত এলাকার মানুষেরা যে সহযোগিতা করেছেন, তা তাঁদের কাছে বড় প্রাপ্তি।

যৌথ উদ্যোগে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়য় ওই গ্রামগুলিতে তৈরি করেছে পাঠাগার। কর্মক্ষেত্রে কী ভাবে ওই সম্প্রদায়ের তরুণদের যুক্ত করা যায়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই চাকরির পরীক্ষা বা অন্যত্র কাজ পেতে হলে কী ভাবে নিজেকে তৈরি করতে হয় সেই পাঠ দেওয়া হয়েছে। ওই পাঠাগারে আপাতত সে সংক্রান্ত বই-ই রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই কর্তা জানান, ভবিষ্যতে অন্য ধরনের বই রাখার কথাও ভাবা হচ্ছে।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং এক সংস্থার কর্মকর্তারা।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং এক সংস্থার কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, শবরদের মধ্যে স্নাতকোত্তীর্ণ হয়েছেন এক ছাত্রী। তাঁকে সামনে রেখে সকলের কাছে পঠনপাঠনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ওই ছাত্রীটি যেন কর্মক্ষেত্রে সুযোগ পায় সেই জন্যও উদ্যোগী হচ্ছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ওই সংস্থা। নতুন প্রজন্মের পড়ুয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে পাঠসামগ্রী।

গোটা পরিকল্পনাটি উপাচার্য আশুতোষ ঘোষের তদারকিতেই পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে। তাঁর অনুমতিতেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসের বিপণন কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে লোধা-শবর মানুষের হাতে তৈরি নানা জিনিসপত্র। তালপাতা দিয়ে তৈরি নানা কারুকার্য এ বার সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই বিক্রি করা হবে। কিউআর কোডের মাধ্যমে সরাসরি টাকা চলে যাবে তাঁদের অ্যাকাউন্টে। উপাচার্য বলেন, ‘‘ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কর্ম শুধু পঠন পাঠন আর গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সমাজকে সার্বিক ভাবে উন্নত করার দায় রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপরেই। সেই কাজ আমরা করে যাব। এটা আমাদের দায়িত্ব।’’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই কর্তা বলেন, “ওই সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তাঁদের সার্বিক উন্নতিতে সাহায্য করবে বিশ্ববিদ্যালয়। জুন মাসে হুল দিবসে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁদের নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানের কথাও ভাবা হচ্ছে।”

CU purulia Paschim Medinipur Lodha Sabar
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy