Advertisement
E-Paper

অনলাইনে বিপদ বাড়ছে ছোটদের! পরিস্থিতি সামলে নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে বড়দের প্রশিক্ষণ ইউনেস্কো-র

ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং-এর অধীনে থাকা সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশনাল টেকনোলজি-এর উদ্যোগে ইউনেস্কো ‘শিশুদের বিরুদ্ধে অনলাইন হিংসা’ বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬ ০৯:০০

— প্রতীকী চিত্র।

সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে হিংসা। ভার্চুয়াল আক্রমণের শিকার হচ্ছে ছোটরাও। সম্প্রতি সিবিএসই দ্বাদশের এক পরীক্ষার্থী খাতার প্রতিলিপি ভুল আসায় সমাজমাধ্যমেই অভিযোগ জানিয়েছিলেন। আর তার পরই ধেয়ে এসেছিল কটাক্ষ। ১৮ পেরোনোর আগেই ওই তরুণকে প্রকারান্তরে ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যাও দেওয়া হয়। এর বাইরেও রয়েছে নানা ধরেন সমস্যা যা, অনলাইনে গ্রাস করছে শিশু-কিশোর মনকে।

ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং-এর অধীনে থাকা সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশনাল টেকনোলজি-এর উদ্যোগে ইউনেস্কো ‘শিশুদের বিরুদ্ধে অনলাইন হিংসা’ বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে। ইউনেস্কো জানিয়েছে, ভারতের শিক্ষক, শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষা ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত পেশাদারদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও ব্যবহারিক কৌশলে দক্ষ করে তোলাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। যাতে তাঁরা শিশুদের সাহায্য করতে পারেন নিরাপদ ও সচেতন ভাবে ডিজিটাল দুনিয়াকে ব্যবহার করতে।

পাঁচ দিনের এই কর্মসূচি ১ জুন থেকে ৫ জুন পর্যন্ত ইংরেজি মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে। এর পর আগামী ৮ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত এর হিন্দি মাধ্যমের সংস্করণটি অনুষ্ঠিত হবে। এনসিইআরটি-এর অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেল এবং ‘পিএম ই-বিদ্যা’ প্ল্যাটফর্ম-সহ দূরদর্শনের ডিটিএইচ ৬ থেকে ১২ নম্বর চ্যানেলগুলির মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। দেশজুড়ে সমস্ত শিক্ষাবিদ বা শিক্ষকদের জন্য এই প্রশিক্ষণ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে এবং কোর্স শেষে ‘দীক্ষা’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শংসাপত্র বা সার্টিফিকেটও প্রদান করা হবে বলেই জানিয়েছে ইউনেস্কো।

এমন একটি সময়ে এই উদ্যোগ যখন শিশুদের জীবন ডিজিটাল প্রযুক্তির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েছে। তথ্য বলছে, বর্তমানে ভারতে ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ১০০ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে এবং দেশের তরুণ প্রজন্মই সমাজমাধ্যম, গেমিং প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইন লার্নিং টুলসগুলির সবচেয়ে সক্রিয় ব্যবহারকারী। এতে যেমন যোগাযোগ বাড়ছে, তেমনই শিশুদের ঠেলে দিচ্ছে এক অনিশ্চয় বিপদের দিক।

ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো-এর তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের বিরুদ্ধে নথিভুক্ত সাইবার অপরাধের সংখ্যা ২০১৮ সালে ছিল ২৩২টি। ২০২২-এ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৮২৩। মাত্র চার বছরে প্রায় আট গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে অপরাধের অভিযোগ। ২০২১ থেকে ২০২২-এর মধ্যেই এ ধরনের অভিযোগের সংখ্যা ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ সব অভিযোগে রয়েছে সাইবার হেনস্থা (ইন্টারনেটে হেনস্থা), অনলাইন গ্রুমিং, ছবি-ভিত্তিক অপব্যবহার, শোষণ, ক্ষতিকর বিষয়বস্তু, ঘৃণামূলক বক্তব্য এবং ভুল তথ্যের শিকার হওয়ার মতো বিষয়গুলি। বিশেষজ্ঞেরা মনে করছেন, এর প্রভাব পড়ছে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, সার্বিক কল্যাণ এবং পঠনপাঠনেও।

ইউনেস্কো-র দাবি, ন্যাশনাল কমিশন ফর প্রটেকশন অফ চাইল্ড রাইটস-এর গবেষণা থেকে বোঝা যাচ্ছে পর্যাপ্ত সচেতনতা, ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং বড়দের নির্দেশনা ছাড়া এই ডিজিটাল দুনিয়ায় ব্যবহার করার কারণে শিশুরা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

এই বিপদ থেকে শিশুদের রক্ষা করতেই বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে বলে জানাচ্ছে ইউনেস্কো। কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষা, শিশু সুরক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং ডিজিটাল গভর্ন্যান্স-সহ নানা ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের এক ছাদের নীচে আনা হয়েছে। পরিচালনা করছেন ইউনেস্কো, এইমস, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, নীতি আয়োগ , দিল্লি পুলিশ এবং ডাবলিন সিটি ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞরা।

UNESCO
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy