Advertisement
E-Paper

প্রকাশিত হচ্ছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের ‘অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার’

এ বছর যাঁরা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে ভর্তি হবেন, তাঁদের ‘অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার’ তৈরি হয়ে গিয়েছে। বর্তমান ছাত্রছাত্রীদের জন্য ক্যালেন্ডার তৈরির কাজ চলছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ ১৪:৫৩

— প্রতীকী চিত্র।

বহু প্রতীক্ষিত ‘অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার’ প্রকাশ করতে চলেছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। যে সকল পড়ুয়া এই বছর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে ভর্তি হবেন, তাঁদের জন্য ইতিমধ্যেই ক্যালেন্ডার তৈরি হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে যাঁরা এই দু’টি স্তরে পড়াশোনা করছেন, তাঁদের জন্যও ক্যালেন্ডার তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে বলে জানান কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একাংশ জানিয়েছেন যে, ২০২৩ সাল থেকেই জাতীয় শিক্ষানীতি মেনে পঠনপাঠন শুরু হয়ে গিয়েছে। সেমেস্টার পদ্ধতিতে তাঁরা পরীক্ষাও দিচ্ছেন। কিন্তু বহু বার আবেদন করার পরেও নাকি ‘অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার’ তৈরি করা যায়নি। সেই কারণে নির্দিষ্ট সময়ে সেমেস্টার শেষ করা নিয়েও নানা জটিলতা তৈরি হয়। নানা ছুটির কারণে ক্লাসের সংখ্যাও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মেনে করা হয় না বলে অভিযোগ। সঠিক সময় মেনে সেমেস্টারের পরীক্ষা হওয়া এবং ফলপ্রকাশের পরে ফের পঠনপাঠন শুরু করার ক্ষেত্রেও একটা ধোঁয়াশা থাকত। সম্প্রতি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজস্ট্রিট ক্যাম্পাসের বাইরে এই বিষয়কে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন একদল পড়ুয়া। যথেষ্ট ক্লাস না হওয়ার পরেও সেমেস্টার পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছিল। এ বারে সেই সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে বলে জানান উপাচার্য।

তিনি জানিয়েছেন যে, স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর শিক্ষাবর্ষ শুরু হচ্ছে ১ অগস্ট থেকে। সম্প্রতি উচ্চশিক্ষা দফতর থেকে যে নির্দেশিকা এসেছে, সেখানেও ১ অগস্ট থেকেই শিক্ষাবর্ষ শুরুর কথা বলা হয়েছে। সেই নির্দেশিকা অনুসরণ করেই ‘অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার’ তৈরি করা হয়েছে। ফলে যে সকল পড়ুয়া ভর্তি হবেন, তাঁরা তাঁদের সেমেস্টারের সময় ও পরীক্ষা সম্পর্কে আগে থেকেই সম্পূর্ণ রূপে ওয়াকিবহাল থাকবেন। জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই ‘অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার’ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।

অন্য দিকে যাঁরা বর্তমানে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তরে পড়ছেন তাঁদের সমস্যা আরও জটিল। তাঁদের কাছে গোটা শিক্ষাবর্ষটাই ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে। উপাচার্য এ দিন বলেন, ‘‘যাঁরা বর্তমানের পড়ুয়া, তাঁদের জন্য পৃথক ‘অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার’ তৈরির কাজ চলছে। খুব দ্রুত সেই কাজ শেষ হবে। পড়ুয়াদের বহুদিনের দাবি ছিল। এর আগে এ রকম কোনও ‘অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার’ ছিল না। এ বারে শিক্ষকদের, পড়ুয়াদের পাশাপাশি আধিকারিকদেরও সম্পূর্ণ ব্যবস্থা পরিচালনা করতে সুবিধা হবে বলেই আশা করছি।’’

অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের কলকাতা মহানগরের সম্পাদক স্বাধীন হালদার বলেন, ‘‘আমরা এর আগেও স্মারকলিপি দিয়েছি। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথাও হয়েছে। ‘অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার’ না থাকার জন্য পড়ুয়াদের অসুবিধা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন, বর্তমানে যে ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা করছেন, তাঁদের জন্য দ্রুত এই ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা হোক।’’

ছাত্র সংগঠন ডিএসও-র কলকাতা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অনীক দে বলেন, ‘‘আমরা ‘অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার’ চালু করার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছি। কারণ, কবে থেকে ক্লাস শুরু হবে, কোন সময় পরীক্ষা হবে— এই সমস্ত বিষয়-সহ অন্য একাধিক বিষয়ে ছাত্রছাত্রীরা কিছুই বুঝতে পারতেন না। এর ফলে ছাত্রছাত্রীদের খুবই সমস্যার মধ্যে পড়তে হত। আন্দোলনের চাপে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু, আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য ‘অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার’ এমন ভাবেই তৈরি হোক, যাতে ছাত্রছাত্রীরা পর্যাপ্ত ক্লাস পায় এবং সিলেবাস শেষ হওয়ার পরেই যেন পরীক্ষার ব্যবস্থা হয়।’’

CU Calcutta University Alternative Academic Calendar
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy