Advertisement
E-Paper

নির্বিঘ্নে মিটল রাজ্যের জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা, কিন্তু অঙ্কের প্রশ্নের ধরন নিয়ে আপত্তি তুললেন পরীক্ষার্থীদের একাংশ

চলতি বছরে মোট ১,২০,৮৫৬ জন পরীক্ষার্থী নাম নথিভুক্ত করেছেন। ২৬৭টি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রাজ্যের ২৬৪টি কেন্দ্রে, ত্রিপুরার দু’টি কেন্দ্রে এবং অসমের একটি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের আগে হ্যান্ড হেল্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের নিবিড় ভাবে তল্লাশি করা হয়। নিরাপত্তাব্যবস্থা সফল হয়েছে বলেই দাবি বোর্ডের।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ ১৮:২০
পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষার্থীরা।

পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষার্থীরা। নিজস্ব চিত্র।

নতুন সরকার গঠনের পরে এই প্রথম রাজ্যব্যাপী কোনও পরীক্ষা হল। রবিবার রাজ্যে জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা নির্বিঘ্নে মিটল বলেই দাবি করেছে পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগজামিনেশন বোর্ড। কোথাও যেমন কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, তেমনই নকল করার কোনও খবর নেই বলে দাবি বোর্ডের এক কর্তার। যদিও কাঁটা একটু রয়েই গেল। অধিকাংশ পরীক্ষার্থী আপত্তি তুলেছেন গণিতের প্রশ্ন নিয়ে। তাঁদের অভিযোগ, গণিতের প্রশ্ন অযথা এত জটিল এবং বড় হয়েছে যে অনেকেই সব প্রশ্ন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারেনি। বহু পরীক্ষার্থী জানান যে, গণিতের প্রশ্নগুলি সমাধান করতে এত বেশি সময় লেগে গিয়েছে যে দু’ঘণ্টাও কার্যত কম পড়েছে। তবে পদার্থবিদ্যা ও রসায়নের প্রশ্ন যথাযথ হয়েছে বলেই মনে হয়েছে পরীক্ষার্থীদের। বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে।

এ দিন পরীক্ষাশেষে পরীক্ষাকেন্দ্র বেথুন কলেজের বাইরে বেরিয়ে দমদমের বাসিন্দা রাজন্য দে জানান, গণিতের প্রশ্ন যথেষ্ট বড়। দু’ঘণ্টায় ৭৫টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। কিন্তু এক একটি অঙ্কের সমাধান করতেই এত সময় লেগে গিয়েছে যে, অনেকেই সব অঙ্ক শেষ করতে পারেনি।

খড়দহের বাসিন্দা এক পরীক্ষার্থী বলেন, ‘‘কঠিন হওয়া অন্য জিনিস। কিন্তু যাঁরা প্রশ্ন করছেন তাঁরা তো জানেন ১২০ মিনিটের মধ্যে ৭৫টি প্রশ্নের উত্তর দিতে কতটা সময় প্রয়োজন। সে ভাবেই প্রশ্ন করা উচিত ছিল। অঙ্ক করতে না পারলে বুঝতাম যে পারিনি। কিন্তু ক্যালকুলেশনগুলোই এত বড় যে সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারলাম না।’’ অপর পরীক্ষার্থী নন্দিনী মিস্ত্রী বলেন, ‘‘আমি সর্বভারতীয় জয়েন্ট পরীক্ষা দিয়েছি। যদি রাজ্যের জয়েন্ট পরীক্ষার সঙ্গে তুলনা করা যায় তা হলে বলতেই হবে জেইই মেন পরীক্ষায় অঙ্কের প্রশ্ন অনেক সহজ হয়েছিল।’’ বোর্ডের এক কর্তা অবশ্য জানান, এই পরীক্ষা প্রবেশিকার পরীক্ষা। ফলে প্রতিযোগিতা তো একটু থাকবেই। তবে পড়ুয়ারা ভাল ভাবে পরীক্ষা দিয়েছে বলেই আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগজামিনেশন বোর্ড জানিয়েছে, চলতি বছরে মোট ১,২০,৮৫৬ জন পরীক্ষার্থী নাম নথিভুক্ত করেছেন। ২৬৭টি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রাজ্যের ২৬৪টি কেন্দ্রে, ত্রিপুরার দু’টি কেন্দ্রে এবং অসমের একটি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের আগে পরীক্ষার্থীদের হ্যান্ড হেল্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে নিবিড় ভাবে তল্লাশি করা হয়। জালিয়াতি রোধ করতে রেডিয়ো ফ্রিকোয়েন্সি ডিটেক্টর সংবলিত রোভিং অবজ়ারভারদের মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রতি দুই থেকে চারটি পরীক্ষাকেন্দ্রের ক্লাস্টার বা গুচ্ছের জন্য একজন করে রোভিং অবজ়ারভারও ছিলেন। প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রের জন্য পর্যাপ্ত বোর্ড অবজ়ারভার নিয়োগ করার পাশাপাশি যে কোনও ধরনের জালিয়াতি শনাক্ত করার জন্য অন্য গোপন নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে বোর্ড। বোর্ডের এক কর্তা বলেন, ‘‘নিরাপত্তার জন্য আমরা যে ব্যবস্থা রেখেছিলাম তা সফল হয়েছে।’’

WBJEE Mathematics Mathematics Exam
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy