চারদিকে নিকষ অন্ধকার। গলগল করে বেরোচ্ছে কালো ধোঁয়া, আগুন! পোড়া ও ঝাঁঝালো গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছে ঘিঞ্জি এলাকার বাতাস। আগুন আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন বাসিন্দারা। দমকলকর্মীরা এক দিকের আগুন নেভাচ্ছেন। পরক্ষণেই আগুনের শিখা বেরিয়ে আসছে অন্য দিক থেকে!

রবিবার সন্ধ্যার এই ঘটনাস্থল কসবার রাজডাঙা স্কুল রোড। দমকল জানিয়েছে, সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ ওই এলাকার একটি পিভিসি জলের ট্যাঙ্ক, পাইপ তৈরির কারখানার আগুন লেগেছিল। ধোঁয়া এবং আগুন আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এক মহিলা-সহ দুই বাসিন্দা। আগুন নেভাতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন দুই দমকলকর্মীও। ঘণ্টা তিনেকের চেষ্টায় ১০টি ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও  রাত ১০টা পর্যন্ত আগুনের উৎসে পৌঁছতে পারেননি দমকলকর্মীরা। জানা যায়নি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও। দমকল সূত্রের দাবি, ওই গুদামটি দাহ্য পদার্থে ঠাসা ছিল। তাই কয়েক বার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও তা বারবার জ্বলে উঠছে। তার ফলেই আগুনের উৎসে পৌঁছতে দেরি হচ্ছে দমকলকর্মীদের।

ঘিঞ্জি বসতি এলাকায় এমন দাহ্য বস্তুর গুদাম থাকা নিয়েও প্রশ্ন করেছেন অনেকে। কী ভাবে এই গুদাম অনুমতি পেল, প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েও। এ দিন অগ্নিকাণ্ডের পর কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ সুশান্ত ঘোষ বলেন, “ওই গুদামটি বেআইনি ভাবে চলছিল। পুরসভা আগেই লাইসেন্স বাতিল করেছিল।” কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের প্রশ্ন, লাইসেন্স বাতিল হওয়া একটি গুদাম চললেও তা প্রশাসনের নজরে আসেনি কেন? সুশান্তবাবুর আশ্বাস, “পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলব।” দমকলের এক কর্তাও জানিয়েছেন, বেআইনি ওই গুদামের বিরুদ্ধে তাঁরাও মামলা দায়ের করবেন।