কালিয়াচকে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ, ধৃত যুবক - Anandabazar
  • নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

কালিয়াচকে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ, ধৃত যুবক

1
আদালত চত্বরে ধৃত করিমু্ল্লা শেখ (মাঝে)। রবিবার মনোজ মুখোপাধ্যায়ের তোলা ছবি।

ভাইকে সঙ্গে নিয়ে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়েছিল দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীটি। ঘণ্টাখানেক পরে ছয় বছরের ভাই বাড়িতে ফিরে এলেও নয় বছরের ছাত্রীটির খোঁজ মেলেনি। গভীর রাতে নিখোঁজ ছাত্রীটির বাড়ির প্রায় এক কিলোমিটার দূরে একটি নির্জন এলাকা থেকে তার ক্ষতবিক্ষত, অর্ধনগ্ন দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, জ্বালানি কাঠ জোগাড় করে দেওয়ার টোপ দিয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। পাশের গ্রামের এক যুবকের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছে ছাত্রীর পরিবার। শনিবার মালদহের কালিয়াচক এলাকার ঘটনা। রাতেই অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ।  পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম করিমু্ল্লা শেখ (২০)।  পেশায় দিনমজুর করিমু্ল্লা মোজমপুর এলাকার বাসিন্দা। শনিবার রাতে ধৃতকে থানায় নিয়ে এলে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ধৃতকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে পুলিশ বাধা দেয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ। পরে অতিরিক্ত বাহিনী এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত করিমু্ল্লা ওই ছাত্রী ও তার পরিবারের পূর্বপরিচিত। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুর ১২টা নাগাদ ভাইকে সঙ্গে নিয়ে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে বাড়ি থেকে বের হয় ছাত্রীটি। তার বাবা পেশায় দিনমজুর। তবে তিনি বর্তমানে অসুস্থ থাকায় বাড়িতেই থাকেন বলে জানা গিয়েছে। ছাত্রীর মা বিড়ি বাঁধার কাজ করেন। মায়ের আয়েই তাদের সংসার চলে। অর্থাভাবের কারণে জ্বালানি কেনার পরিবর্তে আশপাশের এলাকা থেকে তা জোগাড় করে আনা হতো বলে পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে। শনিবার সেই কাঠ সংগ্রহ করতেই গিয়েছিল দুই ভাই-বোন। অভিযোগ, সে সময় পাশের গ্রামের বাসিন্দা করিমুল্লা শেখ ওই ছাত্রীটিকে প্রথমে গাছ থেকে কয়েকটি ডাল ভেঙে দেয়। সেই ডালগুলি ছাত্রীর ভাইকে দিয়ে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয় করিমুল। আরও জ্বালানি জোগাড় করে দেওয়ার টোপ দিয়ে এর পর ওই ছাত্রীকে সে অন্যত্র নিয়ে যায় বলে অভিযোগ।

অনেক রাত হয়ে গেলেও ছাত্রীটি বাড়িতে না ফেরায় গ্রামের অন্যান্যদের সঙ্গে পরিবারের লোকেরা তার  খোঁজ শুরু করেন। রাতে পাশের গ্রামে একটি জলাশয়ের ধার থেকে ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাত্রীর গলার নলি কাটা ছিল। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জেরায় ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ স্বীকার করেছে ধৃত করিমুল্লা। মালদহের পুলিশ সুপার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে গ্রামে উত্তেজনা ছিল। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।”

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন