তেলের ট্যাঙ্কারের সঙ্গে যাত্রিবাহী বাসের সংঘর্ষে মৃত্যু হল ৫৯ জনের। রবিবার সকালে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে পাকিস্তানের দক্ষিণ সিন্ধ প্রদেশে। করাচির পুলিশ কমিশনার শোয়েব সিদ্দিকি জানিয়েছেন, করাচি থেকে শিকারপুর যাওয়ার পথে সুপার হাইওয়েতে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। দু’টি গাড়িই প্রচন্ড গতিতে যাচ্ছিল। সে সময় উল্টো দিক থেকে আসা ট্যাঙ্কারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে  বাসের উপর উল্টে পড়ে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অধিকাংশ বাসযাত্রীর। সিদ্দিকি এই ঘটনার জন্য চালকদেরই দায়ী করেছেন। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল ও দমকল পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেও কয়েক জনের মৃত্যু হয় বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বাসটি ভিড়ে ঠাসা ছিল। প্রায় ৬০-৭০ জন যাত্রী ছিলেন ওই বাসে। বাসের ছাদের উপরও অনেক যাত্রী বসে ছিলেন। দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া এক বাসযাত্রী জানান, ট্যাঙ্কারের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসের সামনে চলে এলে বাসচালকও ভয় পেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। প্রচন্ড সংঘর্ষে বাসে আগুন ধরে যায়। বাসের ছাদে বসে থাকা যাত্রীরা নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে লাফ মারেন। কিন্তু বাসের ভিতরের যাত্রীরা আগুনে পুড়ে যান।

সিন্ধ প্রদেশের রাস্তাগুলির অবস্থা খুবই খারাপ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বেপরোয়া ভাবে যান চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা ওই এলাকার নিত্য দিনের ছবি। গত নভেম্বরেই সিন্ধ প্রদেশের খয়েরপুরের কাছে সুপার হাইওয়েতে কয়লাবোঝাই লরির সঙ্গে যাত্রিবোঝাই বাসের সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছিল ৫৭ জনের। মার্চে ওই হাইওয়েতেই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ৪৩ জনের।