ঘণ্টা চারেকের বোমাতঙ্ক শেষে আক্ষরিক অর্থেই মধুরেণ সমাপয়েৎ!

ঘটনাস্থল জলপাইগুড়ি শহরের কাছে পাহাড়পুর। উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার একটি বাসে পরিত্যক্ত এক টিফিনবাক্সকে ঘিরে মঙ্গলবার সাতসকালে ছড়ায় বোমাতঙ্ক। চার দিকে সাজ সাজ রব পড়ে যায়। পুলিশ, দমকলের পাশাপাশি শিলিগুড়ি থেকে ডেকে পাঠানো হয় বম্ব স্কোয়াডকে। আসে পুলিশ কুকুরও। শেষমেশ চূড়ান্ত সতর্কতার সঙ্গে সেই টিফিনবাক্সে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সকলের চক্ষু তো চড়কগাছ। কোথায় বোমা? কোথায়ই বা বিস্ফোরক? এ তো নলেন গুড়ের পাটালি! কিন্তু, চোখে দেখে তো আর সবটা প্রমাণ হয় না! তাই, সেই গুড়েরই কিছুটা বম্ব স্কোয়াডের কর্মীরা নিয়ে গিয়েছেন ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য।

ঘটনার সূত্রপাত এ দিন সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ। উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার জলপাইগুড়ি ডিপো থেকে বানারহাটগামী একটি বাস কিলোমিটার দশেক পেরিয়ে পাহাড়পুর মোড়ে পৌঁছেছে সবে। বাসটির পিছনের আসনে বসে থাকা এক যাত্রী কন্ডাক্টরের কাছে অভিযোগ জানান, তাঁর ঠিক সামনের আসনের তলায় প্লাস্টিকে মোড়া একটি টিফিনবাক্স পড়ে আছে। কন্ডাকটর ওই যাত্রীকে সামনের দিকের একটি আসনে বসিয়ে দেন। কিন্তু, টিফিনবাক্সটি কার তার কোনও সদুত্তর না পেয়ে কন্ডাকটর চালককে বাসটি রাস্তার ধারে দাঁড় করাতে বলেন। এর পরেই পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। আসে দমকলও। বাসটিকে ফাঁকা করে যাত্রীদের অন্য বাসে গন্তব্যে পৌঁছনোর ব্যবস্থা করা হয়। পুলিশকর্মীরা সন্দেহজনক ওই টিফিনবাক্সটি নিয়ে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে চাননি। তাঁরা শিলিগুড়ির বম্ব স্কোয়াডে খবর দেন।

বেলা সওয়া ১২টা নাগাদ বম্ব স্কোয়াডের কর্মীরা এসে পৌঁছন। সতর্কতামূলক পোশাক পরে তাঁরা যখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই দমকলের এক কর্মী বাসে উঠে ওই টিফিনবাক্সটি হাতে তুলে নেন। ‘রে রে’ করে ওঠেন বম্ব স্কোয়াডের কর্মীরা। তিনি তখন দৌড়ে ওই টিফিনবাক্সটি নিয়ে পাশের চাষ-জমিতে নেমে যান। মাটিতে রেখে দেন বাক্সটিকে। এর পরেই বম্ব স্কোয়াডের কর্মীদের সঙ্গে দমকলের বচসা বাধে। এক্তিয়ার বহির্ভূত কাজ তো বটেই, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বিপজ্জনক কাজ করার জন্য ওই দমকলকর্মীকে ভর্ৎসনাও করা হয়। পরে প্রভাত চক্রবর্তী নামে ওই দমকলকর্মী বলেন, “প্রথমে যখন ওই বাক্সটি তুলে দেখি, তখন মনে হয়েছিল ওর ভিতর বোমা বা ওই জাতীয় কিছু নেই। বাইরে থেকে দেখে মনে হচ্ছিল ওর ভিতর গোল গোল রসগোল্লার মতো কিছু রয়েছে।”


চলছে ‘বোমা’ নিষ্ক্রিয়করণের কাজ।

প্রায় চার ঘণ্টা পর বেলা সওয়া ১টা নাগাদ পাশের মাঠে রেখে দেওয়া ওই টিফিনবাক্সটিতে বম্ব স্কোয়াডের কর্মীরা দূর থেকে তারের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটান। চার দিকে তত ক্ষণে ভিড় জমে গিয়েছে। সকাল থেকে চলা উত্তেজনা সেই মুহূর্তে চরমে পৌঁছয়। কিন্তু কোথায় কী? বিস্ফোরণ শেষে কাছে গিয়ে দেখা যায়, টিফিনবাক্সতে রয়েছে নলেন গুড়ের পাটালি। যদিও কারও কারও মতে সেটি বেসনে তৈরি অন্য কোনও খাবারও হতে পারে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য ওই বস্তুর নমুনা নিয়ে যান বম্ব স্কোয়াডের কর্মীরা।

উৎকণ্ঠিত পাহাড়পুরবাসীর পাশাপাশি এই ঘটনায় স্বস্তি মেলে পুলিশ, দমকল-সহ ওই বাসটির চালক ও কন্ডাক্টরের।

ছবি: সন্দীপ পাল।