পরাজয় মেনে নিলেন মহিন্দা রাজাপক্ষে। শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। নতুন প্রেসিডেন্টকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট ছিলেন রাজাপক্ষে। তাঁর আমলেই প্রায় তিন দশক ধরে চলা তামিল বিছিন্নতাবাদী সংগঠন এলটিটিই-র বিদ্রোহ দমন করা সম্ভব হয়। নিহত হন এলটিটিই সুপ্রিমো প্রভাকরণ। যদিও এই বিদ্রোহ দমনের সময়ে যুদ্ধাপরাধের নানা অভিযোগ রাজাপক্ষের সরকারের বিরুদ্ধে উঠেছে। উঠেছে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন এই বিষয়ে সরব হয়েছে। তবুও তাঁকে আসন থেকে সরানো যায়নি। এ বার তৃতীয় বারের জন্য প্রেসিডেন্ট থাকার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় দু’বছর আগেই নির্বাচনের ডাক দেন রাজাপক্ষে। বৃহস্পতিবার সেই নির্বাচন হয়।

শুক্রবার ছিল নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন। এখনও পর্যন্ত যা ফলাফল তাতে প্রায় চার লক্ষ ভোটে জিততে চলেছেন সিরিসেনা। ফলাফল প্রকাশ্যে আসা শুরুর হতেই প্রধান বিরোধী নেতা রনিল বিক্রমাসিংহকে ফোন করে এই ফল মেনে নেওয়ার কথা জানান রাজাপক্ষে। সূত্রের খবর, এর মধ্যেই প্রেসিডেন্টের বাসভবন ছেড়ে চলে গিয়েছেন রাজাপক্ষে।

এলটিটিই-কে দমন করা রাজাপক্ষের অন্যতম সাফল্য। সেই সাফল্যের উপরে দাঁড়িয়ে তিনি দ্বিতীয় বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু এর পরে তাঁর জনপ্রিয়তা ক্রমেই কমতে থাকে। ক্ষয়িষ্ণু জনপ্রিয়তায় পদ হারানোর ভয়ে, জনমানসে এলটিটিই দমনের স্মৃতি জেগে থাকতে থাকতেই নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় দু’বছর আগে নির্বাচনের ডাক দেন রাজাপক্ষে। কিন্তু এর পরে কিছুই তাঁর পরিকল্পনামাফিক হয়নি। নির্বাচন ঘোষণার পরের দিনই স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিরিসেনা মন্ত্রিত্ব ছেড়ে যান। পরে তিনি নির্বাচনেও দাঁড়ান এবং রাজাপক্ষের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন। এ বারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মোট ১৯ জন প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াই হয় এই দু’জনের মধ্যেই।

রাজাপক্ষের কাছে যে এ বার নির্বাচনী বৈতরণী পার করা যে কঠিন হবে, তা প্রচার চলাকালীনই মালুম পাওয়া যাচ্ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে এ ক’বছরে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের নানা অভিযোগ হাতিয়ার করে বিরোধীরা প্রচারে নামেন। রাজাপক্ষের দুই ভাইয়ের এক জন শ্রীলঙ্কার অর্থমন্ত্রী। অন্য জন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। এ নিয়েও নানা অভিযোগ ছিল। এ দিনের ফলাফল সেই আশঙ্কাকেই সত্য প্রমাণিত করল। বিদায় নিলেন রাজাপক্ষে।

তবে সিরিসেনা-র সামনে কঠিন রাস্তা। এলটিটিই-র বিদ্রোহ দমন করা সম্ভব হলেও সিংহলিদের সঙ্গে তামিলদের সর্ম্পকের বিশেষ উন্নতি হয়নি। তা ছাড়া, যুদ্ধের দগদগে ক্ষত দু’পক্ষের মন থেকে মোছেনি আজও। রয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিও। সব মিলিয়ে সংখ্যাগুরু সিংহলিদের সঙ্গে তামিলদের সম্পর্ক উন্নত করাই সিরিসেনার অন্যতম চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।