বলেছিলেন দু’-এক দিনের মধ্যেই কলকাতায় ফিরবেন। সেই মতোই বুধবার দুপুরে শহরে ফিরেই নবান্নে দৌড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায়। বিমানবন্দর থেকে তৃণমূল ভবন হয়ে এ দিন দুপুরেই তিনি সোজা নবান্নে যান। সেখানে প্রায় আধঘণ্টা বৈঠক শেষে বেরিয়েও আসেন। তবে বৈঠক শেষে মুখ খোলেননি তিনি।

সারদা কেলেঙ্কারিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত সোমবারই তাঁকে সিবিআই ডেকে পাঠিয়েছিল। কিন্তু, পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকায় তিনি ওই দিন যেতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন বলে সিবিআই-এর একটি সূত্র জানিয়েছিল। কবে কখন যাবেন, তা জানিয়ে দেবেন বলেও কেন্দ্রীয় ওই গোয়েন্দা সংস্থাকে জানিয়েছিলেন তিনি। এর পরে জানা যায়, তৃণমূল সাংসদ তথা প্রাক্তন  রেলমন্ত্রী মুকুলবাবু দিল্লিতে রয়েছেন। সেখানে ওই দিন তিনি বলেছিলেন, “সিবিআই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কথা বলতেও চেয়েছে। আমি আজ এবং কাল দিল্লিতে আছি। কলকাতা ফিরে গিয়েই দেখা করব।”

এ দিন দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ দিল্লি থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন তৃণমূল সাংসদ তথা প্রাক্তন রেলমন্ত্রী মুকুলবাবু। বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “আজকে ফিরে এসেছি। আমি তাদের (সিবিআই) সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করব। কবে যাব, কখন যাব নিশ্চিত ভাবে জানাব।” এর পরেই তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে তিনি বলেন, “আমি দলের নেতা-নেত্রী, দলের লোকেদের সঙ্গে কথা বলেই ঠিক করব, কবে যাব, কখন যাব।” বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে তাঁর গাড়ি সোজা তৃণমূল ভবনে পৌঁছয়। অল্প কিছু সময় পরে সেখান থেকে বেরিয়ে যান মুকুলবাবু। তাঁর গাড়ি রওনা দেয় নবান্নের উদ্দেশে।

নবান্নে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। ছবি: সুদীপ আচার্য

বেলা সওয়া দুটো নাগাদ নবান্নে পৌঁছন মুকুলবাবু। প্রায় আধঘণ্টার বৈঠক শেষে বেরিয়ে আসেন তিনি। তবে বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে সে বিষয়ে মুখ খোলেননি তৃণমূলে অঘোষিত দু’নম্বর ওই নেতা। তবে এ দিন বিমানবন্দরে ফের এক বার পুরনো কথা আউড়েছেন তিনি। তাঁর কথায়: “আগেও বলেছি, আবারও বলছি, আমি আজ অবধি জীবনে কখনও কোনও অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না।”