গাড়ি দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে থানার ওসিকে মারধরের অভিযোগ উঠল। ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের হরিশচন্দ্রপুর থানা এলাকার ৮১ নম্বর জাতীয় সড়কের ভিঙ্গোল বটতলা এলাকায়।

পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল আটটা নাগাদ ৮১ নম্বর জাতীয় সড়কের উপরে একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় এক বাইকের। দুর্ঘটনায় বাইক আরোহী মীর খলিল (৪০) নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, উল্টো দিক থেকে আসা ট্রাকটির চাকা ফেটে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি বাইকটিকে ধাক্কা মারে। চালক-সহ বাইকটি ট্রাকের সঙ্গে জাতীয় সড়কের পাশে একটি খালে পড়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় হরিশচন্দ্রপুর থানার ওসি এবং কয়েক জন পুলিশ কর্মী। অভিযোগ, এর পরেই ক্ষতিপূরণের দাবিতে মীরের দেহ আটকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয়েরা। মারধর করা হয় ওসি বাবিন মুখোপাধ্যায়কে। স্থানীয়েদের অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালীন ওসি তাঁদের উদ্দেশে কটুক্তি করেন। তাই উত্তেজিত জনতা তাঁর উপরে চড়াও হন। ঘটনার পর থেকে ট্রাকের চালক পলাতক।

পুলিশ সূত্রে খবর, হরিশচন্দ্রপুর থানার ওই ওসি-র উপর স্থানীয়দের একাংশের দীর্ঘ দিন ধরেই ক্ষোভ ছিল। মাস কয়েক আগে এলাকায় মদের ঠেক ভাঙেন তিনি। তার পর থেকেই এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ অনেকেই তাঁর উপরে ক্ষুব্ধ ছিলেন। সে কারণেই এই ঘটনা।

পুলিশ জানিয়েছে, এ দিন দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর থেকেই স্থানীয়েরা প্রথমে ক্ষতিপূরণের দাবি তোলেন। খাল থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করলেও, পুলিশকে সে কাজে বাধা দেওয়া হয়। ওসিকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। এর পর আচমকাই ওসি-র উপর তাঁরা চড়াও হন। বেধড়ক মারধর করা হয়, এমনকী, তাঁর রিভলভারও কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। ওসি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ঘটনাস্থলের কাছের একটি ইটভাটার অফিসে আটকে রাখা হয়। ট্রাকের মালিক ঘটনাস্থলে আসেন। এ দিন বিকেল পর্যন্ত ট্রাকের মালিককে নিয়ে ওসি স্থানীয়েদের সঙ্গে আলোচনা করেন।