×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৬ জুলাই ২০২১ ই-পেপার

ট্যাক্সি ধর্মঘট ১৮ থেকে, পরিবহণেও ধর্মঘট ১৯শে

নিজস্ব সংবাদদাতা
১০ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ১৯:১৭
—নিজস্ব চিত্র।

—নিজস্ব চিত্র।

সারদা-কাণ্ডে শাসক দল যখন কোণঠাসা, সেই সময়েই রাজ্য সরকারের উপরে চাপ বাড়িয়ে আরও সংঘাতের পথে গেল পরিবহণ ইউনিয়নগুলি। পুলিশি জুলুম এবং ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারি ভূমিকার প্রতিবাদে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে লাগাতার ট্যাক্সি ধর্মঘটের ডাক দিল বাম ও অ-বাম সবক’টি পরিবহণ ইউনিয়ন। একই সঙ্গে ১৯ তারিখ ডাকা হল পরিবহণ ধর্মঘট। উৎসবের মরসুমে ধর্মঘট ডেকে বুধবার ইউনিয়ন নেতারা জানিয়ে দিয়েছেন, এর পরে সরকারকেই সমাধানসূত্র বার করতে হবে।

যদিও ধর্মঘট ব্যর্থ করতে শাসক দল রাস্তায় নামবে বলে এ দিন পাল্টা হুমকি দিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী মদন মিত্র। তাঁর বক্তব্য, “এ দিনের কর্মসূচিতে পরিবহণ শ্রমিকেরা সাড়া দেননি। ১৯ তারিখও যাতে তাঁরা সাড়া না দেন, সে জন্য আমরা দলগত ভাবে পথে নামব।” মন্ত্রীর হুমকির প্রেক্ষিতে সিটু নেতাদের বক্তব্য, “রাজনৈতিক ভাবে শাসক দল ধর্মঘটের মোকাবিলা করুক। আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু জোর খাটাতে গেলে পশ্চিমবঙ্গে আগুন জ্বলবে। তার জন্য দায়ী থাকবে রাজ্য প্রশাসন।”

ট্যাক্সি-সহ পরিবহণ ক্ষেত্রে কিছু দিন ধরে যে আন্দোলন চলছিল, তারই অঙ্গ হিসাবে বুধবার কলেজ স্কোয়ার থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করেন বেসরকারি, বাস, ট্যাক্সি ও অটোচালকেরা। সিপিএমের সিটু, সিপিআইয়ের এআইটিইউসি, কংগ্রেসের আইএনটিইউসি, নকশালপন্থী এআইটিটিইউসি বা সঙ্ঘ পরিবার প্রভাবিত বিএমএস সব ক’টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের পরিবহণ শাখাই এ দিনের মিছিলে সামিল হয়েছিল। তার জন্য এক দিকে যেমন শহরের পথে যানবাহন চলাচলে প্রভাব পড়েছে, তেমনই পুলিশি বন্দোবস্তও ছিল বিস্তর। মিছিল শেষে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে জমায়েতে পরিবহণ ইউনিয়নের নেতারা ঘোষণা করেন, তাঁরা ধর্মঘটের পথেই যাচ্ছেন। এআইটিইউসি-র ট্যাক্সিচালক সংগঠনের নেতা নওয়াল কিশোর শ্রীবাস্তব বলেন, “সারদায় সিবিআই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এখন জেরবার। পরিবহণমন্ত্রী হাসপাতালে ঢুকে যাচ্ছেন। ট্যাক্সিচালকেরা রাস্তায় গাড়ি বার করে সমস্যায় পড়ছেন। এই অবস্থায় ১৮ তারিখ থেকে আমরা লাগাতার ধর্মঘটে যাচ্ছি।” বিপুল হাততালিতে তাঁর ঘোষণাকে স্বাগত জানান জমায়েতে উপস্থিত পরিবহণ কর্মীরা। ধর্মঘটের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেই সিটু নেতা অনাদি সাহু বলেন, “আমাদের কর্মসূচি পরে আবার বিস্তারিত জানিয়ে দেওয়া হবে। তার মধ্যে সরকার যদি কোনও আলোচনা করে সমাধান বার করতে যায়, তা হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

Advertisement

অনাদিবাবুর বক্তব্যেই পরিষ্কার, বিশ্বকর্মা পুজোর পরে উৎসবের ভরা মরসুমে ধর্মঘটের ডাক দিয়ে চাপ বাড়িয়ে সরকারকে তাঁরা আলোচনায় নিয়ে আসতে চান। চাপ বাড়ানোর জন্যই এ দিনের মিছিল শেষে সিটুর রাজ্য সভাপতি শ্যামল চক্রবর্তী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “সরকারি পরিবহণ কর্মীদের বেতনে কোপ পড়ছে। বেসরকারি চালক-কর্মীরা রাস্তায় বেরিয়ে হয়রান হচ্ছেন। এই অবস্থা চলতে পারে না। ধর্মঘটের সময় কোনও চালকের গায়ে হাত পড়লে সারা বাংলায় কিন্তু আগুন জ্বলবে!”

Advertisement