×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement
Powered By
Co-Powered by
Co-Sponsors

Bengal Polls: তৃণমূল, বিজেপি এবং জোটের উদ্দেশ্য ভিন্ন, জিততে চাওয়ার ‘তীব্রতা সূচক’ কিন্তু উস্কে দিচ্ছে নানা সম্ভাবনা

শুভময় মৈত্র
২৩ মার্চ ২০২১ ১২:৪২
গত লোকসভার বিধানসভা ভিত্তিক ফলাফলে তৃণমূল ১৬৪ টি আসনে এগিয়ে।

গত লোকসভার বিধানসভা ভিত্তিক ফলাফলে তৃণমূল ১৬৪ টি আসনে এগিয়ে।
—ফাইল চিত্র।

ভূমিকা পেশ করা যাক সারমর্ম দিয়ে। এই নির্বাচনে তৃণমূলের লড়াই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার। আর বাম-কংগ্রেস-ধর্মনিরপেক্ষ জোটের চেষ্টা যত বেশি সম্ভব ভোট শতাংশ এবং আসন যোগাড় করা। যদিও তা যতটা না ক্ষমতায় আসার জন্যে, তার থেকে অনেক বেশি অস্তিত্ব রক্ষার খাতিরে। বিজেপি কোনও ভাবে এই বিধানসভা নির্বাচনে জিতে গেলে তাদের পক্ষে তো ভালই। কিন্তু সামনের ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে তৃণমূল ক্ষমতায়, তারা শক্তিশালী দ্বিতীয় পক্ষ এবং তৃতীয় জোট বহুদূরে, এই পরিস্থিতিও বিজেপির জন্যে যথেষ্ট লাভজনক। ফলে এই প্রশ্ন আসবেই যে বিজেপির আসন বণ্টন নিয়ে সাম্প্রতিক গোলমাল কি সাংগাঠনিক দুর্বলতা না দূরদর্শী রাজনৈতিক কৌশল?

শেষ নয়, এ বার বরং শুরু করা যাক গৌরচন্দ্রিকা। পশ্চিমবঙ্গের যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন তাতে মূলত তিনটি রাজনৈতিক দল বা জোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

প্রথম পক্ষ তৃণমূল। তাদের সমর্থন করছে কয়েকটি রাজনৈতিক দল যাদের পশ্চিমবঙ্গের খুব বেশি প্রভাব নেই। এর মধ্যে সিপিআইএমএল আছে, যারা বামপন্থী। সঙ্গে দক্ষিণপন্থী শিবসেনা এবং মধ্যপন্থী এনসিপি আর আরজেডি। যদিও তৃণমূল তাদের কোনও আসন ছাড়েনি। শুধুমাত্র দার্জিলিংয়ের দিকে তিনটি আসনের ভাগ পেয়েছে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। তবে তাদের আবার নিজেদের মধ্যে প্রচুর গন্ডগোল। ফলে সেই তিনটি নিয়ে জট চলছে, বাকি ২৯১ আসনে কোমর বেঁধে লড়ছে তৃণমূল। প্রার্থী তালিকা ঘোষণা সম্পূর্ণ। ক্ষোভ-বিক্ষোভ যেটুকু ছিল তা প্রশমিত। প্রচুর জনমুখী ভাবনা লিখে নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশিত হয়েছে ১৭ মার্চ।

Advertisement
 ২৯১ আসনে কোমর বেঁধে লড়ছে তৃণমূল।

২৯১ আসনে কোমর বেঁধে লড়ছে তৃণমূল।
—ফাইল চিত্র।


দ্বিতীয় মুখ্য দল বিজেপি এবং মূলত একক শক্তিতে লড়াই করছে। এখনও পর্যন্ত যা খবর, ২৯৪ আসনেই তারা নিজেদের প্রার্থী দেবে, যদিও ‘স্বচ্ছ ভারত’-এর মতো আসন বণ্টন নিয়ে গোলমালও স্বচ্ছ। বিজেপি-র ‘জনমুখী’ ইস্তাহারও ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে।

তৃতীয় পক্ষ হচ্ছে বাম কংগ্রেসের জোট, সঙ্গী ধর্মনিরপেক্ষ আইএসএফ। এই ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে প্রচুর আলাপ আলোচনা চলছে, এবং রাজনীতির ধারাবৃত্তান্তে তার সমাধানের কোনও আশা আপাতত নেই। মজার কথা হল, এই আইএসএফ আসন চাওয়ার সময় যতটা উজ্জীবিত ছিল, প্রতীক পাওয়া বা প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে ততটা নয়। ফলে বামপন্থীদের সতর্ক থাকতে হচ্ছে যাতে তৃতীয় পক্ষের মনোনয়নের অকৃতকার্যতায় লড়াইটা কয়েকটি কেন্দ্রে সরাসরি তৃণমূল বনাম বিজেপি না হয়ে যায়। সঙ্গে মনে রাখার মত বিষয় এ বারে বামেদের রকমারি প্রচার।

অতঃপর সারমর্মের ভাবসম্প্রসারণ। এই নির্বাচনে কারা জিতবে সেটা নিয়ে এই আলোচনা নয়, বরং কারা কতটা জোর দিয়ে জিততে চান সেটাই মূল প্রশ্ন। এখানে ‘জোর দিয়ে’ শব্দবন্ধটি ‘সততার সঙ্গে’-র পরিবর্তে ব্যবহার করলাম, কারণ রাজনীতির পুরোটাই কৌশল, এবং সেখানে চরম সত্যি বলে কিছু নেই। যারা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জিততে উন্মুখ, তাদের প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থানে অবশ্যই তৃণমূল। তাদের ভোট শতাংশ গত কয়েকটি নির্বাচন এবং বিভিন্ন সমীক্ষায় ৪৩ শতাংশের আশেপাশে। ফলে ত্রিমুখী লড়াইয়ে তাদের জয়ের সম্ভাবনা বিদ্যমান। আপাতত অধিকাংশ সমীক্ষাই সে কথা বলছে।

বিজেপি মূলত একক শক্তিতে লড়াই করছে।

বিজেপি মূলত একক শক্তিতে লড়াই করছে।
—ফাইল চিত্র।


গত লোকসভার বিধানসভা ভিত্তিক ফলাফলে তৃণমূল ১৬৪ টি আসনে এগিয়ে। রাজ্যের শাসক দলের তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার উৎসাহ অত্যন্ত বেশি, কারণ বিশ্লেষকেরা অনেকেই মনে করছেন যে একবার নির্বাচনে হেরে গেলে তৃণমূলের পক্ষে রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে অস্তিত্ব রক্ষা কঠিনতর হবে। তৃণমূলকে হারিয়ে বিজেপি যদি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসে তা হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রধান জোট হিসেবে আগামী দিনে হয়তো বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস সামনের সারিতে এগিয়ে আসবে। ফলে তৃণমূল যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চাইছে তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। তাদের নেতানেত্রীদের একটা বড় অংশই রাজনীতি নির্ভর, মাঝের সারির কর্মীদেরও দৈনন্দিন পেশায় ক্ষমতায় থাকার প্রয়োজন যথেষ্ট। ফলে জয়ের জন্যে তারা যে ঝাঁপিয়ে পড়বে সেটাই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক চালচিত্রে বাস্তব।

আসা যাক বিজেপি-র কথায়। গত ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে তিনটি আসনের তুলনায় এ বার তাদের ফল যে অনেক ভাল হবে তা বলাই যায়। দেখার বিষয় ২০১৯ লোকসভার বিধানসভা ভিত্তিক ফলাফলের থেকেও তারা উন্নতি করতে পারে কি না। সেই হিসেবে তাদের আসন ১২১, ভোট চল্লিশ শতাংশের ওপরে। এর থেকে কিছু কমবেশি আসন পেলেই বিজেপির সাফল্য অটুট। তাদের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ১৪৮ প্রয়োজন নেই। কারণ অন্যান্য দল থেকে বিধায়কদের সরিয়ে আনায় বিজেপি সিদ্ধহস্ত। সরকারি ভাবে ঘোষিত না হলেও, এটি তাদের পরিচিত রাজনৈতিক কৌশল। কিন্তু এখানেই মূল প্রশ্ন, বিজেপি কৌশলগত ভাবে কতটা জোর দিয়ে ক্ষমতায় আসতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গে? বিকল্প একটি প্রশ্নও আছে এখানে। ক্ষমতায় না এসে তারা প্রধান বিরোধী পক্ষ হিসেবে বিধানসভায় থাকলে অতিরিক্ত কী কী সুবিধে পেতে পারে? উত্তর হল, তৃণমূল যদি ক্ষমতায় থাকে তা হলে আগামী ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি-র ফল পশ্চিমবঙ্গ থেকে অনেক বেশি ভাল হওয়ার সম্ভাবনা।

প্রথম কারণ প্রধান ও শক্তিশালী বিরোধী পক্ষ হিসেবে তারা আন্দোলনের মধ্যে থাকবে। দুই, মধ্য-বাম কর্মসূচিতে দক্ষ তৃণমূল ক্ষমতায় থাকায় তৃতীয় শক্তি হিসেবে বাম-কংগ্রেস জোটের পক্ষে মাথা তুলে দাঁড়ানো ভীষণ শক্ত হবে। এই জায়গাটা অবশ্যই বিজেপি-আরএসএস শীর্ষ নেতৃত্বের মাথায় থাকার কথা। রাষ্ট্রবাদী দল হিসেবে দেশের ক্ষমতা ধরে রাখা তাদের কাছে সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা দখল বিজেপির মুকুটে অত্যন্ত মূল্যবান একটি পালক হিসেবে স্থান পাবে। কিন্তু এখানে প্রধান এবং শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে থাকলেও তাদের বিশেষ ক্ষতি নেই। তৃণমূলকে ক্ষমতায় রেখে বামেদের নিশ্চিহ্ন করা এবং কংগ্রেসকে দু-একটি জেলায় ঘুম পাড়িয়ে রাখা এ রাজ্যে বিজেপির পক্ষে যথেষ্ট কার্যকরী রাজনৈতিক পথ। মূল প্রশ্ন এই জায়গাতেই— পশ্চিমবঙ্গে এই বারেই ক্ষমতায় আসা বিজেপির পক্ষে বেশি লাভজনক নাকি পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সক্রিয় থাকাটা তাদেরকে ভবিষ্যতে অধিকতর ডিভিডেন্ড দেবে? বিজেপি-র জন্য একটি ঝুঁকি অবশ্য থেকেই যাচ্ছে, যেটা হল লক্ষ্যের থেকে অনেক কম আসন পেয়ে হেরে যাওয়া। কোনও ভাবে যদি বিজেপি ৭০-৮০টির কম আসন পায়, তখন কিন্তু এই আলোচনা আসবে যে এতো ঢাক ঢোল বাজিয়ে লাভ কী হল? সে ক্ষেত্রে ২০২৪ লোকসভায় সর্বভারতীয় নেত্রী হিসেবে আবার সামনে থেকে লড়ার সুযোগ পাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃতীয় শক্তি হিসেবে বাম-কংগ্রেস জোটের পক্ষে মাথা তুলে দাঁড়ানো ভীষণ শক্ত হবে।

তৃতীয় শক্তি হিসেবে বাম-কংগ্রেস জোটের পক্ষে মাথা তুলে দাঁড়ানো ভীষণ শক্ত হবে।
—ফাইল চিত্র।


ঘুরিয়ে যে প্রশ্নটি আবার তুলতে হচ্ছে, তা হল বামপন্থী দলগুলিকে একেবারে নিশ্চিহ্ন করা এবং কংগ্রেসকে সম্পূর্ণ ভোঁতা করে দেওয়া বিজেপির মূল উদ্দেশ্য কি না। তৃণমূলেরও এতে অখুশি হওয়ার কথা নয়। তা যদি হয়, সে ক্ষেত্রে বিজেপি এই নির্বাচনের আগে কিছুটা ধীরগতিতে এগোবে, এবং এমন কিছু পদক্ষেপ করবে,যা নিজেদের পক্ষে খুব সুবিধাজনক নয়।

প্রথম কথা হল গত ২০১৯ লোকসভায় যখন তারা খুব ভাল ফল করেছিল তখন বিভিন্ন দলের নেতানেত্রী বিজেপিতে এলেও এই ধরনের ঢল নামেনি। বুঝতে অসুবিধে হয় না যে অতি সম্প্রতি প্রচুর নেতা তৃণমূল থেকে বিজেপি-তে এসেছেন যাদের নেতৃত্ব এবং ভোট জোগাড়ের দক্ষতা মোটেই মুকুল রায় বা শুভেন্দু অধিকারীর মত তীক্ষ্ণ এবং জোরালো নয়। তাদের দলে নেওয়া, ভাড়া করা বিমানে চড়ানো এবং তারপরে আসন বণ্টনের সময় অকারণ ক্ষোভ-বিক্ষোভ মোটেও বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যধারার সঙ্গে মেলে না। কিছু ক্ষেত্রে অত্যন্ত নামী প্রার্থীকে ডেকে এনে তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া সংক্রান্ত প্রস্তুতির অভাবও পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাদের মত একটি শক্তিশালী সংগঠনভিত্তিক দল অনেক সাবলীলতার সঙ্গে এইসব ঝামেলা সামলাতে পারত বলেই মনে হয়। এতে জনমানসে নেতিবাচক ভাবনা সৃষ্টি হত কম। কিন্তু তেমন পদক্ষেপ সময়মত করা হচ্ছে না।

সংবাদমাধ্যমে মাঝে মাঝেই খবর আসছে যে বিজেপির সভায় নাকি লোক হচ্ছে কম। এর মধ্যে এমন টেলিভিশন সম্প্রচারকও রয়েছেন যাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের গুণগানে সিদ্ধহস্ত এবং নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে অধিক গুরুত্ব দিয়ে বাংলা ভাষায় অনুষ্ঠান শুরু করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বিজেপির কয়েকটি সভায় জনসমাবেশের স্বল্পতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, এ কিন্তু খুব অবাক করার বিষয়। আর লেখচিত্রে আনুভূমিক অক্ষে সময়ের সঙ্গে উল্লম্ব অক্ষে বিজেপিতে সদ্য যোগ দেওয়া মানুষের প্রার্থী হওয়ার সংখ্যা ছবিতে আঁকলে বোঝাই যাবে যে দশ বছর আগে যারা এরাজ্যে বিজেপির মূল সংগঠক ছিলেন তাদের মধ্যে বেশি মানুষ দলের প্রতিনিধি হিসেবে বিধানসভায় যাচ্ছেন না। সেখানে অনেকটাই সদ্য-প্রাক্তন তৃণমূল, অল্প কিছু কংগ্রেস এবং বামও আছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে যারা বহুদিন ধরে সংগঠন ধরে রেখেছেন, তাঁদের অংশগ্রহণ এবারের প্রার্থীতালিকায় সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়। বিজেপির সাংগাঠনিক মসৃণতা গোটা দেশে তাদের প্রধান দল হিসেবে সামনে এনেছে। আর সেই প্রেক্ষিতেই তাদের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলিতে প্রশ্ন উঠবে যে পশ্চিমবঙ্গে গত কয়েকদিনে তার অভাব কৌশলগত কি না। অর্থাৎ না জিততে চাওয়াও কি অন্যমাত্রার সাফল্য-সন্ধান? ১০০-র আশপাশে আসন পেয়ে বিজেপি যদি প্রধান বিরোধী দল হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় দাপিয়ে বেড়াতে পারে, সে ক্ষেত্রে আসন্ন নির্বাচনে জয়ী না হলেও তাদের আগামীর রাজনৈতিক পথ চলায় বিশেষ কোনও ক্ষতি নেই।

আইএসএফ আসনের হিসেবে কতটা এগোবে সে ভবিষ্যদ্বাণী করার মতো তথ্য এখনও সংবাদমাধ্যমে অনুপস্থিত।

আইএসএফ আসনের হিসেবে কতটা এগোবে সে ভবিষ্যদ্বাণী করার মতো তথ্য এখনও সংবাদমাধ্যমে অনুপস্থিত।
—ফাইল চিত্র।


বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ আসবে উপসংহারে। কংগ্রেস দু-তিনটি জেলায় কিছু আসন পাবে, যা দু’অঙ্কে পৌঁছবে এ আশা করাই যায়। আইএসএফ আসনের হিসেবে কতটা এগোবে সে ভবিষ্যদ্বাণী করার মতো তথ্য এখনও সংবাদমাধ্যমে অনুপস্থিত। বামফ্রন্ট বা মূলত সিপিএম প্রচুর যুবক-যুবতীকে সামনে এনে প্রার্থিতালিকায় যথেষ্ট চমক দিয়েছে। অর্থাৎ এ বারের নির্বাচনে জোরদার লড়াই করার ইচ্ছা যে তাদের আছে তা স্পষ্ট। সে ক্ষেত্রে ভোট বাড়ার একটা সম্ভাবনা থাকলেও তা আসনে প্রতিফলিত হওয়ার অঙ্কটা এখনও পরিষ্কার নয়। সব মিলিয়ে জোটের ২০ থেকে ৩০ আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে, মনে করছেন রাজনৈতিক সমীক্ষকেরা।

কোনও কারণে যদি তৃণমূল বা বিজেপির মধ্যে কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তখন অবশ্যই অল্প আসন নিয়েও তৃতীয় পক্ষের অসাধারণ মূল্যবৃদ্ধি ঘটবে এই বাংলায়। এমত অবস্থায় তাদের ভাগে চল্লিশের বেশি আসন গেলে গুরুত্বের দিক থেকে তারা একেবারে সামনের সারিতে চলে আসবে। তবে অন্য কোনও দলকে সমর্থনের প্রশ্নে সেই জোটের মধ্যে দ্বন্দ্বও তখন বাড়বে প্রচুর। মোটের উপর তৃতীয় পক্ষের মূল লক্ষ্য হবে ২০১৯ এর তুলনায় নিজেদের অবস্থানকে কিছুটা হলেও পোক্ত করা। সে জায়গায় সাধ এবং সাধ্যের তফাৎ থাকলেও তারা জোরদার চেষ্টা করছে। তাদের পক্ষে সবচেয়ে খারাপ ভবিষ্যদ্বাণী অর্জিত আসনের সংখ্যায় নয়, বরং যদি তৃণমূল একক ভাবে ক্ষমতায় আসে এবং বিজেপি কমবেশি ১০০ আসন পেয়ে দ্বিতীয় হয়। সে ক্ষেত্রে তারা অনেক দূরের তৃতীয় শক্তি হিসেবে আরও গুরুত্ব হারাবে।

(লেখক ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক, মতামত ব্যক্তিগত।)

Advertisement