• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

আক্রান্তের সাহায্যে গিয়ে আক্রান্ত রূপা

Rupa Ganguli
শুশ্রূষা চলছে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের।-দিলীপ নস্কর

ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকে রাজ্য জুড়ে বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকদের উপরে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠছে শাসক দলের বিরুদ্ধে। এ বার কাকদ্বীপের সূর্যনগরে এক দলীয় মহিলা কর্মীকে দেখতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন বিজেপির মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। ভাঙচুর হয়েছে তাঁর গাড়িটিও। অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে। তবে রূপা এক স্কুলছাত্রীকে মারধর করেন বলে পাল্টা অভিযোগ তুলেছে তৃণমূলও।

রবিবারের এই হামলায় রূপা মাথায়, কোমরে, কনুইয়ে চোট পান। রূপার সঙ্গে আক্রান্ত হন বিজেপি-র দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি (পশ্চিম) অভিজিৎ দাস-সহ ১০ জন। সকলেরই ডায়মন্ড হারবার হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা হয়। রূপার দাবি, ‘‘গ্রামে যাওয়ার কথা আগেই পুলিশকে জানিয়েছিলাম। তবু মাত্র দু-তিন জন পুলিশ এলাকায় মোতায়েন ছিল। মাটিতে ফেলে মারা হয়েছে আমাকে। আমার শাড়ি ছিঁড়ে দিয়েছে। চুলের মুঠি ধরে টেনে একমুঠো চুল ছিঁড়ে নেওয়া হয়েছে। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে হামলা চলে। তার পরে কোনও রকমে পালিয়ে বাঁচি।’’

অভিযোগ উড়িয়ে তৃণমূলের জেলা সভাপতি শোভন চট্টোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, ‘‘এটা তো যাত্রা বা নাটকের রঙ্গমঞ্চ নয়, যে সব জায়গায় যাব আর অভিনয় করব!’’ কাকদ্বীপের পুনর্নির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরার দাবি, ‘‘পাড়ার ঝামেলায় কেন তৃণমূলকে জড়ানো হচ্ছে, আমি তা জানি না! পুলিশের কাছে শুনলাম, রূপা গিয়ে মেয়েটিকে মারধর করেছেন। তাতেই গ্রামের মহিলারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঁকে মেরেছেন। এতে আমি বা দলের কেউ জড়িত নন।’’ রূপা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।

শোভন বা স্থানীয় বিধায়ক ঘটনাকে আমল না দিতে চাইলেও লাগাতার হামলার জেরে তৃণমূলের শীর্ষ স্তরে বিড়ম্বনা বাড়ছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ শনিবার রাজভবনে গিয়ে অভিযোগ জানানোর পরে রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ফোন করে হামলা বন্ধ করতে উদ্যোগী হওয়ার কথা বলেছিলেন। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রূপার উপরে হামলার অভিযোগ শুনে শাসক দলের এক নেতার উদ্বেগ, ‘‘এখনই কড়া হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে।’’

এ বারের ভোটে তিনটি আসন ও ১০% ভোটের পুঁজি হাতে পেয়ে উজ্জীবিত বিজেপি স্বভাবতই এ দিনের ঘটনাকে প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসাবে কাজে লাগাতে চাইছে। দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপবাবু বলেছেন, ‘‘কাকদ্বীপে  এক নেত্রী এবং মহিলা রাজনৈতিক কর্মীদের নিগ্রহ করা হল। তৃণমূল বিরোধী-শূন্য করার রাজনীতি করছে।’’ প্রতিবাদে আজ, সোমবার দুপুরে সহযোগী গণ-সংগঠনগুলিকে নিয়ে হাজরা মোড় থেকে মিছিল করে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির দিকে যাওয়ার কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি।

গত বছর কলকাতার গোপালনগরে এবং হাবড়ায় রূপাকে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এ বার সমস্যা হয়েছে আক্রান্তকে দেখতে গিয়ে। স্থানীয় সূত্রের খবর, শনিবার সকালে বিজেপির নির্বাচনী এজেন্ট, সূর্যনগর পঞ্চায়েতের মাঝিপাড়ার বাসিন্দা বাসনা মাঝি প্রহৃত হন। তাঁর অন্তঃসত্ত্বা বোন ও মা-বাবাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। গ্রামবাসীরা তাঁদের কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। ১৭ জন তৃণমূল সমর্থকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। বাসনাকে দেখতে এ দিন নিজেই গাড়ি চালিয়ে কাকদ্বীপ হাসপাতালে যান রূপা। সেখান থেকে বাসনার বোন দুর্গাকে নিয়ে থানায় গিয়ে ওই পরিবারের জন্য নিরাপত্তার আবেদন জানান তিনি।

এর পরে দুর্গা ও তাঁর মাকে মাঝিপাড়ায় বাড়ি পৌঁছে দিতে গেলে ওই দু’জন পূজা ঘোষ নাম এক স্কুলছাত্রীকে দেখিয়ে রূপাকে বলেন, হামলায় তার পরিবারের লোকজন জড়িত। পূজাকে তখন রূপা মারধর করেন বলে অভিযোগ। পূজা বাড়ি গিয়ে ঘটনার কথা বললে শুভ্রাংশু কামার ওরফে বাবুসোনার নেতৃত্বে হামলা হয় বলে বিজেপির অভিযোগ।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন