• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

রবিবাসরীয় প্রচার সাইকেলে লকেট, মাছবাজারে জয়

LOCKET and JOY
মাছবাজারে জয় ও প্রচারে লকেট। নিজস্ব চিত্র।

আপন ঢঙে রবিবাসরীয় প্রচার সারলেন বীরভূমে বিজেপি-র জোড়া তারকা প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং জয় বন্দ্যোপাধ্যায়।

এ দিন লকেটকে দেখে অনেকের মনে হয়েছিল ঠিক যেন কলেজছাত্রী। কমলা পাড়ের ঘিয়ে রঙা শাড়ি। চুলে গোঁজা বোগেনভেলিয়া। সাইকেলে সবে পা রেখেছেন গ্রামে। আর তা দেখেই স্কুলপড়ুয়া থেকে বধূ— সবার মুখে শোনা গেল, ‘‘দেখ দেখ লকেট এসেছে!’’ মুহূর্তেই কার্যত সাইকেলেই ঘেরাও হয়ে গেলেন লকেট। দ্বিতীয় দফার প্রচারে বেরিয়েও সাতঘরিয়া গ্রামেও প্রথম দফার মতোই সাড়া ফেললেন বিজেপি-র ময়ূরেশ্বর কেন্দ্রের তারকা প্রার্থী লকেট।

দিন কয়েক আগেই প্রথম প্রচারে ময়ূরেশ্বরে পা রাখেন লকেট। সে দিন তারাপীঠে পুজো দিয়ে মাঝারিপাড়া থেকে প্রচার শুরু করেন। কোনও গ্রামে তাঁকে মিষ্টিমুখ করিয়ে, কোনও গ্রামে ফুল ছড়িয়ে কোথাওবা একটু ছুয়ে দেখে আবার আসার আহ্বান জানান গ্রামের মানুষ। সেবার এক দিন পরেই অবশ্য ফের আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কলকাতা ফিরে যান বিজেপি-র প্রার্থী।

শুক্রবার দ্বিতীয় দফার প্রচারে ময়ূরেশ্বরে এসেছেন। উঠেছেন পাথাই গ্রামে অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে। এ দিন সেখান থেকেই সকাল ৯টা নাগাদ কোটাসুরে মদনেশ্বর মন্দিরে প্রণাম করে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচার শুরু করেন। কখনও পায়ে হেঁটে, কখনও টোটো, আবার কখনও সাইকেলেও ঘুরতে দেখা যায় তাঁকে। পথ চলতে চলতেই কর্মীদেরই এক জনের সাইকেল নিয়ে ঢুকে পড়েন সাতঘড়িয়া গ্রামে। তাঁকে দেখে প্রথমে অনেকেই মনে করেছিলেন হয়তো গ্রামেরই কোনও মেয়ে কলেজ থেকে ফিরছে। ভুলটা ভাঙে পরক্ষণেই। বিজেপি-র কর্মীরা ততক্ষণে গ্রামে ঢুকে প্রার্থীকে ধরে ফেলেছেন। গ্রামবাসীদের বলতে শোনা যায়, ‘‘আরে এ তো অভিনেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়!’’ মুহূর্তেই তাঁকে ঘিরে ভিড় জমে যায়। বধূ অর্পণা মণ্ডল, রুনু মাহারারা বলছেন, ‘‘প্রথমে আমরা বুঝতেই পারিনি। ভেবেছিলাম গ্রামের কোনও মেয়ে হয়তো কলেজ কিংবা টিউশনি পড়ে ফিরছে।’’

ওই গ্রাম ছাড়িয়ে টোটো চড়ে লকেট পৌঁছন আদিবাসী অধ্যুষিত মোহান্তপাড়া গ্রামে। সেখানে কোনও ছেলের গাল টিপে দিয়ে আবার কোনও মেয়েকে কোলে তুলে নিয়ে আদর করেন। তার পর আদিবাসী মহিলাদের সঙ্গে ধামসা মাদলের তালে নাচে যোগও দেন। তাঁর সঙ্গে নেচে রীতিমতো আপ্লুত ওই গ্রামের মহিলারা। ফুলমণি টুডু, মালতি সরেনরা বলছেন, ‘‘উয়াকে টিভিতে আমাদের নাচও নাচতে দেখেছি বটেক। উ যে আমাদের সঙ্গেও নাচবে, ভাবি নাই।’’ গ্রাম ছাড়ার আগে অভিনেত্রী তাঁদের হাত ধরে বলে যান, ‘‘আবার তোমাদের সঙ্গে নাচতে আসব।’’

জনসংযোগে জয়ই বা কম যান কীসে!

শনিবারই টি-২০ খেলায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয় পেয়েছে ভারত। রাতের বেলায় সিউড়ির এক হোটেলে বসে সে খেলা দেখেছিলেন এলাকার অভিনেতা প্রার্থী জয়। রবিবার সকাল হতেই সটান হাজির হয়েছিলেন কাছেরই টিনবাজারে। বাজারে কেন? জয়ের চটজলদি জবাব, ‘‘আরে, ভারত জিতল সেলিব্রেশন হবে না! সকাল হতেই পছন্দের মাছের খোঁজে বেরিয়ে পড়েছিলাম। মাছ বাজারটা ভাল। প্রায় হাজার টাকার কেনাকাটা করেছি।’’ মাছ ব্যবসায়ীরা জানালেন, প্রায় কিলোখানেক কাতলা মাছ, এক কেজি কই এবং চিতল মাছের পেটি কিনেছেন বিজেপি-র তারকা প্রার্থী।

তবে ভোটের বাজারে শুধুই কি মাছ কেনা! অনেকেই বলছেন, ‘রথ দেখা কলা বেচা-র’ ঢঙে দিব্য প্রচারটিও সেরেছেন জয়। তাঁকে মাছবাজারে দেখে মুহূর্তে ভিড় জমে যায়। পৌঁছে যায় সংবাদমাধ্যমের লোকজন। মাছ বাজারে উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন জয়। তবে সাতসকালে সরাসরি ভোটের কথায় আর যাননি।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন