রাজ্য জোড়া তৃণমূলের ঝোড়ো হাওয়ায় উড়ে গেল দীর্ঘ দিনের বাম-গড় সন্দেশখালি।

১৯৭৭ সাল থেকে এই আসন ধরে রেখে বামেরা। এমনকী, ২০১১ সালের পরিবর্তনের ডাক-ও ফাটল ধরাতে পারেনি সন্দেশখালির বামদুর্গে। ২০১৬ সাল অবশ্য অন্য ইতিহাস তৈরি করল এখানে।

সিপিএমের নিরাপদ সর্দারকে তৃণমূল প্রার্থী সুকুমার মাহাতো ৩৮ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করেছেন। সুকুমারবাবু পেয়েছেন ৯৬,৫৫৬টি ভোট। নিরাপদবাবুর দৌড় থেমেছে ৫৮,৩৬৬ ভোট পেয়ে।

বসিরহাট মহকুমার মিনাখাঁ এবং হাড়োয়ায় সব থেকে বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে বামেরা। মিনাখাঁ কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী উষারানি মণ্ডল পেয়েছেন ১,৩,২১০টি ভোট। সিপিএম প্রার্থী দীনবন্ধু মণ্ডল পেয়েছেন  ৬০,৬১২টি ভোট। জয়ের ব্যবধান ৪২,৫৯৮।

হাড়োয়ায় তৃণমূল প্রার্থী নুরুল ইসলাম সিপিএমের ইমতিয়াজ হোসেনকে ৪২,৪০৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। নুরুল পেয়েছেন ১,০১,৩০১টি ভোট। ইমতিয়াজ পেয়েছেন ৭০,৫৯৪টি ভোট। স্বরূপনগরে এ বারও জয়ী হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী বীণা মণ্ডল। তিনি পেয়েছেন ৯৩,৮০৭টি ভোট। সেখানে সিপিএম প্রার্থী ধীমান সরকার পেয়েছেন ৮১,৮৬৬টি ভোট।

গতবার হিঙ্গলগঞ্জে প্রার্থী হয়ে সিপিআইয়ের আনন্দ মণ্ডলের কাছে সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন তৃণমূলের দেবেশ মণ্ডল। দেবেশবাবু এ বারে ওই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়ে ‘মধুর প্রতিশোধ’ নিলেন। দেবেশবাবু ভোট পেয়েছেন ৯৪,৭৫৩টি। আনন্দবাবুর প্রাপ্ত ভোট ৬৪,৪৪৯।

৩০,৩০৪ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে বসিরহাটের সাংসদ ইদ্রিশ আলিকে পাশে নিয়ে দেবেশবাবু বলেন, ‘‘এ হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের জয়। দলনেত্রী সুন্দরবন এলাকার মানুষের জন্য অনেক কাজ করেছেন। বিধায়ক হয়ে আমি চেষ্টা করব, সেই ধারা বজায় রাখতে।’’

ইদ্রিশ বলেন, ‘‘কথা নয়, মানুষ উন্নয়ন দেখতে চান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উন্নয়ন করেছেন বলেই আমাদের এই জয়। যা আখেরে মানুষেরই জয়।’’