×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৫ জুন ২০২১ ই-পেপার

মুকুটটা তো পড়ে আছে রানিই শুধু নেই

১৫ অগস্ট ২০১৪ ০০:০৬



‘অরুন্ধতী’ থেকে গুঞ্জনটা শুরু হয়েছিল। ‘হাইওয়ে’ মুক্তির পর থেকে সেই গুঞ্জন আরও বৃহৎ আকার নিয়েছে।

মিমি

Advertisement

কোয়েল

গুঞ্জনের কেন্দ্রবিন্দু হয়তো কোয়েল মল্লিক। যদিও আসল টার্গেট তিনি একা নন, ইন্ডাস্ট্রির নায়িকারা।

প্রসঙ্গত প্রায় দশ বছর এক নম্বর নায়িকা থাকার পর ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর জায়গাটা নিয়েছিলেন কোয়েল মল্লিক। একটার পর একটা ছবি হিট, বড় ব্যানার, বড় নায়ক এককথায় প্রায় সাত বছর ‘টলি কুইন’ ছিলেন রঞ্জিত মল্লিকের কন্যা। কিন্তু ‘অরুন্ধতী’ ফ্লপ এবং ‘হাইওয়ে’ মানুষের সে রকম পছন্দ না হওয়ায় এক নম্বর সিংহাসন এ বার প্রায় হারানোর মুখে কোয়েল।

এতে কোয়েলের থেকে অবশ্য বেশি দায়ী এই দুই ছবির পরিচালক। কারণ, দু’টো ছবিতেই কোয়েল নিজেকে চেনা ছকের বাইরে গিয়ে ভেঙেছেন এবং অক্লান্ত পরিশ্রমও করেছেন। কিন্তু যেহেতু তিনি কোয়েল, তাই ছবি ফ্লপ হওয়ার পর তার গায়েই আঁচটা বেশি পড়ছে। এবং প্রশ্ন উঠছে এখানেই। তা হলে কে আজ টলিউডের এক নম্বর নায়িকা? দেখা যাচ্ছে প্রায় ত্রিশ বছর পর এমন বিরল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে এক নম্বর নায়িকা হিসেবে কেউই নেই টলিউডে।

মুকুটটা তো পড়ে আছে রানিই শুধু নেই।

পিছিয়ে পড়েছেন শ্রাবন্তী-শুভশ্রী

প্রথাগত ভাবে কমার্শিয়াল সিনেমার এক নম্বর নায়িকাকেই ইন্ডাস্ট্রির এক নম্বর নায়িকা হিসেবে ধরা হয়।

সেখানে কোয়েলের জায়গাটা নেওয়ার মতো কোনও কমার্শিয়াল নায়িকাই এই মুহূর্তে নেই।

শ্রাবন্তী বেশ কিছু দিন এক নম্বরের দৌড়ে ছিলেন। গত বছর অপর্ণা সেনের ‘গয়নার বাক্স’তে তাঁর অভিনয় মানুষের পছন্দও হয়েছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত ঝামেলা, বাণিজ্যিক ছবিগুলো সে রকম না চলা (গতমাসে মুক্তি পাওয়া ‘বিন্দাস’য়ে দেবের হিরোইন হওয়া সত্ত্বেও ছবিটি সেই পর্যায়ে সাফল্য পায়নি), কোনও কোনও ক্ষেত্রে ফোকাসের অভাব তাঁকে পিছিয়ে দিয়েছে।

অন্য দিকে এটা সর্বজনবিদিত যে শুভশ্রীর সঙ্গে ভেঙ্কটেশ ফিল্মস এবং দেবের সম্পর্ক মধুর নয়। সেটা আটকাতে শুভশ্রী রিলায়্যান্স এবং জিতের সঙ্গে জুটিও বেঁধেছিলেন। তাঁদের দু’জনের ‘বস’ ছবিটি দারুণ বক্স অফিস সাফল্যও পেয়েছিল। কিন্তু ‘ঝিঙ্কু নাকুর’য়ের সাফল্য তিনি ধরে রাখতে পারলেন কই? এই বছরের মাঝামাঝি মুক্তি পাওয়া অঞ্জন দত্তের ‘শেষ বলে কিছু নেই’ মুখ থুবড়ে পড়ে। অন্য ধারার ছবিতে তাঁর প্রথম ইনিংস এই মুহূর্তে ইংল্যান্ডে ভারতীয় মিডল অর্ডারের মতোই নড়বড়ে। বাণিজ্যিক ছবিতেও এ বছর কোনও হিট নেই। এবং তার পর থেকে অনেকেই মনে করছেন এক নম্বর হিরোইন হতে হলে আরও অনেকটা পথ হাঁটতে হবে শুভশ্রীকে।

গত বছরের শেষের দিকে সায়ন্তিকাকে নিয়েও আশায় বুক বেঁধেছিল টলিউড। দেব, জিৎ-এর নায়িকা হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর অভিনয় ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গিয়েছে ইন্ডাস্ট্রির মনে। “শুধু নাচলেই তো এক নম্বর হওয়া যায় না,” তাঁর প্রসঙ্গে বলছিলেন এক বড় মাপের প্রযোজক।

একটা সময় নুসরতকে নিয়েও বেশ মাতামাতি হয়েছিল টালিগঞ্জে। কিন্তু ফিল্মের বাইরে তাঁকে ঘিরে নানা বিতর্কের পর আজকে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর মঞ্চে বেশি দেখা যায় রুপোলি পর্দার থেকে। আর তার বাইরে তাঁকে দেখা যায়, রাখির দিন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে রসগোল্লা খাওয়াতে।



একই ভাবে পায়েল সরকারের ব্যাপারেও আর অতটা আশাবাদী নয় টলিউড। ‘বোঝে না সে বোঝে না’ ছবিটা চললেও বেশি প্রশংসা পেয়েছিলেন মিমি চক্রবর্তী। তবে শোনা যাচ্ছে, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত ‘লড়াই’ ছবিতে তিনি নাকি ভাল অভিনয় করেছেন। তাই যদি হয়, তা হলে ‘লড়াই’ মুক্তি পাওয়ার পর বোঝা যাবে পায়েল মে কিতনা হ্যয় দম।

এই যদি হয় বাণিজ্যিক ছবির নায়িকাদের হাল, তা হলে অন্য ধরনের ছবিতে কাজ করা হিরোইনদের মধ্যেও কেউ এমন উঠে আসছেন না যাঁকে এক নম্বর হিরোইন বলা যায়।

কাছাকাছি এসেছিলেন স্বস্তিকা

কোয়েলের চ্যালেঞ্জার হিসেবে যাঁর কথা প্রথমেই আসবে, তিনি স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়।

বহু দিন আগে থেকেই তিনি মূলস্রোতের বাণিজ্যিক ছবি ছেড়ে (অনেকে বলেন বাধ্য করা হয়েছিল) অন্য ধারার ছবিতে কাজ করছিলেন। ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’য়ের পর তিনি এক নম্বর সিংহাসনের কাছাকাছিও এসে পড়েছিলেন। ‘টেক ওয়ান’য়ের পর তাঁকে নিয়ে হইচইও হয়েছিল বিস্তর। যদিও কাগজে যত ছবি ছাপা হয়েছিল, তার অর্ধেকও টিকিট বিক্রি হয়নি ছবিটির।

এর পরেই আসবে রাইমা সেনের কথা। নব্বই দশকের মাঝামাঝি যেমন ত্রিদেশীয় ক্রিকেট সিরিজ হলেই অনিবার্য তৃতীয় টিম হিসেবে শ্রীলঙ্কা খেলত, তেমনই পরম কী শাশ্বত নায়ক থাকলেই হিরোইন হিসেবে বাঁধা ছিলেন রাইমা। ইন্ডাস্ট্রিতে ইয়ার্কি মেরে লোকে বলত, অন্য ধারার ছবিতে স্ক্রিপ্ট লেখার আগে যাঁর নাম হিরোইন হিসেবে ফাইনালাইজ হয়ে যে তিনি মুনমুন সেনের বড় মেয়ে। কিন্তু ক্রমাগত এই ছবিগুলো করতে গিয়ে নিজেকে ওভারএক্সপোজড করে ফেলেছেন রাইমা। এ ছাড়াও বাণিজ্যিক বাংলা ছবির জন্য রাইমার চলনবলন প্রথম দিন থেকেই ‘ওভার সফিসটিকেটেড’ মনে করে এসেছে ইন্ডাস্ট্রি।



তাই সর্বদা সামনের সারিতে থাকলেও কোনও দিন তাঁকে এক নম্বর হিরোইন হিসেবে ভাবেনি টলিউড।

স্বস্তিকা, রাইমার পরেই থাকবেন পাওলি। ‘কালবেলা’র পর পাওলিকে নিয়ে হইচই হয়েছিল প্রচুর। বড় ব্যানার, বড় পরিচালক সবই ছিল তাঁর কাছে। কিন্তু ‘কনভেনশনাল হিরোইন’য়ের ব্র্যাকেটে তাঁকে কোনও দিনই বসায়নি টালিগঞ্জ। তার পর ‘ছত্রাক’ বিতর্ক এবং এক পা বলিউডে রাখার পর এক নম্বর বাংলা হিরোইন হওয়ার দৌড়ে অনেকটাই পিছিয়ে গিয়েছেন পাওলি।

তবে তাঁর অভিনয় ক্ষমতা যা, তাতে আজও তিনি ইন্ডাস্ট্রির এক নম্বর অভিনেত্রী হতে পারেন, কিন্তু এক নম্বর স্টার হওয়া মনে হয় দূরের গ্রহ। তবে শোনা যাচ্ছে আগামী জানুয়ারিতে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘নাটকের মতো’ ছবিতে দারুণ অভিনয় করেছেন পাওলি।

তা হলে কি মিমি?

অন্য দিকে পার্নো এবং তনুশ্রীও যথাক্রমে ‘রঞ্জনা...’ আর ‘বেডরুম’য়ের পর সাড়া ফেলেছিলেন। পার্নোর অভিনয় ক্ষমতা প্রশংসাও পেয়েছিল। কিন্তু একই ধরনের চরিত্রে তাঁকে টাইপকাস্ট করে দেয় পরিচালক-প্রযোজকেরা।

পার্নোর ‘অ্যাটিটিউড প্রবলেম’ নিয়ে গুজব রয়েছে ইন্ডাস্ট্রিতে । কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘অপুর পাঁচালি’তে তাঁর অভিনয় খুব প্রশংসিত হলেও সেই রকম কোনও বড় ছবি করে তিনি ‘ফলো আপ’ করতে পারলেন না সেই পারফর্ম্যান্সের।

ও দিকে তনুশ্রী বড় ব্যানারের ছবি করলেও তাঁর অভিনয় ক্ষমতার পাশে আজও একটা বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন থেকে গিয়েছে। আজকে মুক্তি পাওয়া ‘বুনো হাঁস’ তাই তাঁর কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছবি।

‘প্রসেস অব এলিমিনেশন’য়ে যদি কেউ বাকি থাকেন তা হলে তিনি মিমি চক্রবর্তী। এক সময় বলা হত (আজও হয়) ভেঙ্কটেশ ফিল্মস যাঁকে হিরোইন হিসেবে বড় কমার্শিয়াল ছবিতে নেয়, তিনিই ইন্ডাস্ট্রির এক নম্বর হিরোইন। সেই সমীকরণে ‘যোদ্ধা’তে দেবের বিপরীতে মিমি নায়িকা হিসেবে স্থান করে নেওয়ায় অনেকেই ভাবছিলেন মিমিই বোধহয় এক নম্বর সিংহাসনের সেরা বাজি।

কিন্তু ইন্ডাস্ট্রির বহু মানুষই (তাতে যেমন বড় নায়ক আছেন, বড় প্রযোজকও রয়েছেন) ‘অফ দ্য রেকর্ড’ কথোপকথনে বলেছেন এই কাস্টিংটা হয়েছে পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে মিমির ঘনিষ্ঠতার জন্য। অভিনয় ক্ষমতার জোরে নয়। সুতরাং তাঁকে নিয়েও প্রশ্নচিহ্ন থেকেই যাচ্ছে।

টানা ছবি কেউ করতে পারছে না বলেই কেউ এক নম্বর নয়

এই যখন ‘গ্রাউন্ড রিয়েলিটি’ তখন এ বিষয়ে ইন্ডাস্ট্রি কী বলছে?





“সত্যি তো আজ কেউ নেই, যাকে এক নম্বর হিরোইন বলা যায়। আমি ১৯৯৬-তে ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছি। দেখেছি এক সময় দেবশ্রী রায় ছিলেন এক নম্বর। তার পর বহু দিন ঋতু ছিল নাম্বার ওয়ান। ঋতুর জায়গাটা অনায়াসে নিয়েছিল কোয়েল। কিন্তু আজ কেউ নেই। এক সময় ভেবেছিলাম শ্রাবন্তী হবে। ও শুরু করেছিল দারুণ। কিন্তু তার পর হঠাৎ সরে গেল। কামব্যাকও করেছিল দুর্দান্ত। কিন্তু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি এমন একটা জায়গা, এক বার ছেড়ে চলে গেলে সেই জায়গাটা আর ফিরে পাওয়া যায় না,” বলছেন এসকে মুভিজের অশোক ধানুকা।

অশোকের সঙ্গে একমত পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ও। “হ্যাঁ, আমিও কাউকে দেখছি না যে আনডিসপিউটেড নাম্বার ওয়ান হিরোইন। এবং এক নম্বর হতে গেলে একজন হিরোইনকে অনেক বছর টানা ছবি করে যেতে হবে। আজ টলিউডে সেটা কোনও হিরোইন করছে না। তাই কাউকে এক নম্বর বলাও যাচ্ছে না,” বলছেন ‘চাঁদের পাহাড়’য়ের পরিচালক।

কমলেশ্বরের কথার রেশ ধরেই রিলায়্যান্স এন্টারটেনমেন্টের জে কে রায় বলছেন, “এক নম্বর হিরোইন সত্যি কেউ নেই। কিন্তু সেটা বলার আগে আমাদের দেখতে হবে, ঋতুর মতো লম্বা ইনিংস খেলার চান্স কি আমরা কোনও হিরোইনকে দিলাম? আমার মনে হয় না ইন্ডাস্ট্রি কাউকে আর সেই জায়গাটা দিয়েছে। যদি না দিয়েই থাকে, তা হলে এক নম্বর হিরোইনটা হবে কোথা থেকে,” বলছেন জে কে রায়।

হিরোইনদের দোষ দেবেন না, দোষ পরিচালকদের

অন্য দিকে পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় অন্য ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।

তিনি মনে করেন ইন্ডাস্ট্রিতে যে আজ এক নম্বর হিরোইন নেই, তার জন্য দায়ী পরিচালক এবং চিত্রনাট্যকাররা।

“আমার তো খারাপ লাগে হিরোইনদের জন্য। মুম্বইতে কেউ ‘কুইন’ লিখছে যেখানে কঙ্গনা ফাটিয়ে দিচ্ছে। কেউ ‘কহানি’ লিখছে, যেখানে বিদ্যা অসাধারণ। এখানেও ‘টেক ওয়ান’য়ে স্বস্তিকা ওয়াজ ভেরি গুড। আমার ছবিগুলোতে, ‘ইচ্ছে’ হোক, ‘অলীক সুখ’ হোক, ‘মুক্তধারা’ হোক ঋতুপর্ণা বা সোহিনী ওয়াজ এক্সট্রাঅর্ডিনারি। কিন্তু তার জন্য হিরোইন ওরিয়েন্টেড রোল লিখতে হবে তো। আমরা সেটা করব না, কিন্তু বলব হিরোইন নেই এটা হয় নাকি? আর আমাকে বলুন তো সাউথের রিমেক ছবিগুলোতে হিরোইনের কী করার থাকে? ওরা তো শুধু প্রপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়,” বলছেন পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।

ভাল অভিনেত্রী দরকার, নম্বর নয়

শিবপ্রসাদের যদি দুঃখ হয়, তা হলে অন্য দিকে সৃজিত মুখোপাধ্যায় মনে করেন যদি কোনও হিরোইন এক নম্বর জায়গাটা নিতে পারেন, তা হলে সেটা মিমি চক্রবর্তী।

“হ্যাঁ, আজ এক নম্বর হিরোইন বলে কেউ নেই। দেয়ার ইজ আ ভ্যাকুয়াম। কিন্তু কেউ যদি সেই জায়গাটা নিতে পারে, সেটা মিমি। ও কমার্শিয়াল আর প্যারালাল ছবি ব্যালান্স করতে পারবে বলেই আমার ধারণা। ও শুরু করেছিল ঋতুদার সঙ্গে ‘গানের ওপারে’ দিয়ে। তার পর ‘বোঝে না সে বোঝে না’, ‘গল্প হলেও সত্যি’তে ও বোঝাতে পেরেছে ও কমার্শিয়াল ফিল্মেও সাবলীল। মিমি অসম্ভব প্রমিসিং এবং এক নম্বর হিরোইনের দৌড়ে ফ্রন্ট রানার,” বলছেন সৃজিত।

পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় আবার অন্য কথা বলছেন। তার কাছে ভাল অভিনেত্রী হওয়াটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ এক নম্বর নায়িকা হওয়ার চেয়ে।

“এক নম্বর নেই বা তৈরি হচ্ছে না বলে আমার কোনও অসুবিধা নেই। কারণ আমাদের ভাল অভিনেত্রী প্রয়োজন, নম্বর নয়। ক্রমশ সিনেমা পথ বদলে আজ ক্ষমতাবান অভিনেত্রীদের সময় এসেছে। নম্বর বদলায় মাসে মাসে। অভিনেত্রীর সুনাম কিন্তু বাড়তেই থাকে,” বলছেন কৌশিক।

কৌশিকের সঙ্গে একমত আজকের টলিউডের এক নম্বর নায়ক দেব।

“নম্বর তো প্রত্যেক শুক্রবার বদলায়। আমাদের এখানে হিরোইনরা কিন্তু ভাল কাজ করছে। কোয়েল, শ্রাবন্তী, শুভশ্রী সবাই চেষ্টা করছে দারুণ কাজ করতে। হ্যাঁ, এক নম্বর হতে গেলে হয়তো একটা দশক ভাল কাজ করে যেতে হবে যেটা কোয়েল দুর্দান্ত ভাবে করেছে। এখন দেখতে হবে কে আবার ও রকম একটা লম্বা ইনিংস খেলতে পারে,” বলছেন দেব।

অন্য দিকে বাণিজ্যিক বাংলা ছবির এক নম্বর পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর মতে সময় পাল্টাবেই।

“আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে হিরোদের নিয়ে বেশি মাতামাতি হয়। হিরোইনদের জন্য নাচ, গান আর কয়েকটা সিন থাকে মাত্র। কমার্শিয়াল ছবিতে হিরোইন ওরিয়েন্টেড ছবি ছিল একমাত্র ‘অরুন্ধতী’। এ ছাড়া আর কিছু হয়নি। আর কোয়েল এক সময় পর পর হিট ছবি দিয়েছিল বলে ওকে এক নম্বর বলা হত। আজ ওর ছবির সংখ্যা কমে যাওয়ায় এই আলোচনাটা উঠছে আবার,” অকপটে বলছেন রাজ।

তা হলে কি তাঁর ‘ঘনিষ্ঠ’ মিমি চক্রবর্তীকেই তিনি এক নম্বর হওয়ার সেরা বাজি বলবেন?

“দেখুন মিমি মোটেই আমার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার জন্য ‘যোদ্ধা’র হিরোইন হয়নি। অত টাকার প্রজেক্টে ভেঙ্কটেশ শুধু আমার রেকমেন্ড করা হিরোইনকে নেবে না। আর এটা জানিয়ে রাখি, মিমির নামটা প্রস্তাব করেছিল কিন্তু শ্রীকান্ত মোহতা,” সাফ বলছেন রাজ।

কমার্শিয়াল ছবির হিরোইন-ই এক নম্বর হবে

অন্য দিকে দাগ ক্রিয়েটিভ মিডিয়ার কর্ণধার রানা সরকার মনে করেন ইন্ডাস্ট্রিতে হিরোইনের গুরুত্ব কমে যাওয়ার পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ রিমেক ছবি।

“আমাদের এখানে ঋতুদি লাস্ট এক নম্বর হিরোইন। ঋতুদির পর আর কেউ হয়নি তার কারণ তারপর থেকেই রিমেক ছবির রমরমা শুরু হয়ে হয়ে যায়। সেখানে কোয়েলের বদলে পায়েল হিরোইন হলেও কারও কিছু আসে যায় না,” সাফ বলছেন রানা।

অন্য দিকে ইন্ডাস্ট্রির একটা অংশ এই হাহাকারের পিছনে মিডিয়াকেও দায়ী করছেন পুরোদমে।

“খবরের কাগজের বিনোদনের পাতাগুলোতে রোজ নায়িকাদের ছবি বেরোয়। হয় দোকান উদ্বোধন করছেন। নইলে রান্না করছেন। নয়তো জুতো কিনছেন। রোজ যাদের ছবি কাগজে বেরোচ্ছে তাদের সম্বন্ধে ‘মিস্ট্রি’টা কী করে তৈরি হবে বলুন? এক নম্বর নায়িকা হতে গেলে আপনাকে মিস্ট্রি বজায় রাখতে হবে। না হলে এক বছর পরেও দেখবেন আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে কোনও এক নম্বর নায়িকা নেই,” বলছেন এক বড় প্রযোজক।

তাঁরা হয়তো ভুল বলছেন না। আজও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ফিল্মের সব অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পেলেও হাতে গোনা কয়েকটিতেই যান। শোনা যায়, প্রসেনজিৎ বা ঋতুপর্ণা শ্যুটিংয়ের বাইরে আজও কোনও নাইটক্লাবে যাননি, পাছে তাঁদের এক্সক্লুসিভনেসটা চলে যায়। এমনকী জিৎও কাগজে তাঁর কোন ছবি বেরোচ্ছে সেটা ‘অ্যাপ্রুভ’ না করে ছাপাতে দেন না। ছবির সংখ্যা বছরে দু’-তিনটের বেশি বাড়তে দেন না।

জোগান ও চাহিদার এই খেলায় হয়তো নতুন স্টারদের বড্ড সহজে মানুষ দেখে ফেলছেন যার কারণে ‘স্টার ভ্যালু’টা কমে যাচ্ছে, এমনটাই মনে করছেন অনেকে। এই হাহাকারের প্রসঙ্গে কী বলছেন ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের কর্ণধার শ্রীকান্ত মোহতা? তাঁর কথায়, “হ্যাঁ, এক নম্বর হিরোইন এই মুহূর্তে কেউ নেই। কিন্তু আগামী দিনে যে এক নম্বর হিরোইন হবে তাকে শুধু ভাল দেখতে হলেই চলবে না। তাকে দারুণ অভিনেত্রীও হতে হবে। যেমন মুম্বইতে দীপিকা বা প্রিয়ঙ্কা,” বলছেন শ্রীকান্ত।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যে সঙ্গিন, সেটা মেনে নিচ্ছেন প্রায় সবাই।

এখন দেখার কত তাড়াতাড়ি ইন্ডাস্ট্রি এই ‘ক্রাইসিস’ থেকে বেরোতে পারে। পারবেন কি মিমি? নাকি কোয়েল ফের কামব্যাক করবেন পয়লা নম্বরের সিংহাসনে?

১৫ অগস্টের সকালে টালিগঞ্জের সেরা থিম, ‘নায়িকা শোকদিবস’।

Advertisement