Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৭ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

আড্ডা শুরু...

১৬ জুন ২০১৪ ০০:০০
ছবি: কৌশিক সরকার।

ছবি: কৌশিক সরকার।

সামনে অঞ্জন দত্তর ছবি রিলিজ। আর তার আগে তাঁর অতি প্রিয় ফ্লুরিজে আড্ডা হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে গত কয়েক বারের মতো এ বারের আড্ডায় শুধু অঞ্জনই নেই। রয়েছে তাঁর পরবর্তী ছবি ‘শেষ বলে কিছু নেই’য়ের মুখ্য স্টার কাস্টও। যিশু সেনগুপ্ত ও শুভশ্রী।

রবিবার সকালে বেকড্ বিনস, ফ্লাফি অমলেট, ফ্রায়েড মাশরুম আর ব্রেডে মাখন লাগাতে লাগাতে শুরু হল আড্ডা।

Advertisement

আপনার স্টার কাস্টের কাছে তো দেখছি রবিবার বলেও কিছু নেই। যিশুর চোখে ঘুম। শুভশ্রী তাড়াহুড়ো করে মেক আপ করে এসেছেন।

অঞ্জন: হা হা হা হা। আরে রোববার সকালে আড্ডা না মারলে হয় নাকি? যিশু, শুভশ্রী দু’জনেই অসম্ভব আড্ডাবাজ। আপনি দেখুন না এদের সঙ্গে আড্ডাটা কোন লেভেলে হয়।

শুভশ্রী ততক্ষণে একটা ওয়াটার মেলন জুস অর্ডার করেছেন আর যিশু আইফোনে সেলফি তুলতে ব্যস্ত।

আড্ডাটা না হয় ভালই হবে। কিন্তু এটা বলুন হঠাৎ এই দু’জনকে চুজ করলেন কেন? আগে তো এঁদের সঙ্গে কোনও দিন কাজ করেননি।

অঞ্জন: এগজ্যাক্টলি। সেটাই কারণ ওদের সঙ্গে কাজ করার। দেখুন রিলিজের আগে সবাই সবার ছবিকে ভাল বলে। তাই সেই কথাগুলো বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়। কিন্তু ২৭ তারিখ ছবিটা রিলিজ করলে বুঝতে পারবেন কী অসামান্য অভিনয় করেছে এরা দু’জনে।

আর আমি তো একটা ‘কোটারি’তে আটকে পড়েছিলাম। সেই পরম, সেই শাশ্বত। ওদের সঙ্গে কাজ করতে করতে মনে হচ্ছিল সেটটা আমার ড্রইং রুমের এক্সটেনশন। ওই কমফর্ট জোনটা থেকে বেরোতে চাইছিলাম।

এর মধ্যেই দুই প্রবাসী বাঙালি মহিলা এসে ছবি রিলিজের ডেট জেনে গেলেন। শুভশ্রীকে বেস্ট অব লাক বললেন। কিন্তু সঙ্গে এটাও জানালেন তাঁর আগের কমার্শিয়াল বাংলা ছবি তাঁরা দেখেননি।

শুভশ্রীর কি এটাই চ্যালেঞ্জ? যে দর্শক ‘বস’ বা ‘গেম’ বা ‘খোকাবাবু’ দেখেননি, সেই দর্শকদের কাছে পৌঁছনো?

শুভশ্রী: অ্যাবসোলিউটলি এটাই চ্যালেঞ্জ। আর আজকে তো দেওয়ালগুলো ভেঙে যাচ্ছে। বলিউডেও ভেঙে গিয়েছে পুরোপুরি। প্রিয়ঙ্কা চোপড়া তো ‘ফ্যাশন’ও করল, ‘বরফি’র ঝিলমিলও করল। ও পারলে আমরা পারব না কেন? এই ছবির গল্পটা যখন অঞ্জনদা আমাকে বলল, আমি গল্পটারই প্রেমে পড়ে গেলাম। ইট’স আ ব্রিলিয়ান্ট স্টোরি। আর অনেক কিছু নতুন হচ্ছে আমার জীবনে এই ছবিটার ট্রেলার বেরনোর পর থেকে।



যিশু-শুভশ্রী। ‘শেষ বলে কিছু নেই।’

যেমন?

শুভশ্রী: এই প্রথম যাদবপুর ইউনিভার্সিটির ছেলেমেয়েরা আমাকে ফোন করে বলছেন তাঁরা এই ছবিটা দেখতে চান। এসআরএফটিআই-এর কয়েক জন সে দিন বললেন আমার লুকটা ওঁদের ভাল লেগেছে। এই দর্শকদের কাছে তো আমি আগে পৌঁছতে পারিনি। এঁদের কাছে পৌঁছতে পারব ভেবেই দারুণ লাগছে।

কিন্তু ‘খোকাবাবু’র পৃথিবী থেকে এই ছবির পৃথিবী তো একেবারে আলাদা। ওখানে চড়া সংলাপ, নাচ-গান। এখানে সব কিছুই রেসট্রেন্ড, অনেকটা সায়লেন্স, ন্যাচারাল ডায়লগ। অ্যাডজাস্টমেন্টটা করলেন কী ভাবে?

শুভশ্রী: হ্যাঁ, একেবারে আলাদা এক এনভায়রনমেন্ট। এবং আমার অ্যাডজাস্ট করতে একটুও অসুবিধে হয়নি। আই ওয়াজ ভেরি কনফিডেন্ট। আর এই ভেদাভেদটা ভালই লাগছিল না। কমার্শিয়াল ছবি মানেই দেব-শুভশ্রী, আলাদা রকমের ছবি মানেই পরম-রাইমা। এই একটা জায়গাই তো আমাদের সবার গ্রোথ আটকে দিচ্ছে। থ্যাঙ্ক গড, এটা থেকে আমি বেরিয়েছি। এবং আমি আরও বেশি করে এই ধরনের ছবি করতে চাই। কমলদা, কৌশিকদার সঙ্গে কাজ করতে চাই। অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে আরও চ্যালেঞ্জ করতে চাই।

খাওয়া শেষ করে যিশু তখন কফিতে চিনি ঢালছেন। শুভশ্রীর কথা শুনে তাকালেন তাঁর দিকে।

“পরম, শাশ্বত-দের সঙ্গে কাজের কমফর্ট জোনটা ছাড়তে চাইছিলাম”

অঞ্জন দত্ত

“আনলাকি অ্যাক্টর শুনতে শুনতে জেদ তৈরি করে নিয়েছি নিজের ভিতর”

যিশু সেনগুপ্ত

“যাদবপুর-এসআরএফটিআই-এর দর্শকদের কাছে পৌঁছব। দারুণ লাগছে”

শুভশ্রী

যিশুর মনে হচ্ছে কিছু বলার আছে...

যিশু: ইয়েস। ভাই আমি সোজাসাপ্টা বলছি। অঞ্জনদা যখন বলেছিল, শুভশ্রী হিরোইন। আমি অঞ্জনদাকে বলেছিলাম, তুমি শিওর তো? এটা শুভশ্রী পারবে? আমি কিন্তু শু্যটিংয়ের আগে অবধি অ্যাপ্রিহেনসিভ ছিলাম।

কিন্তু লেকের ব্রিজে একটা সিন করতে গিয়ে আমি বুঝলাম, শি ইজ আ ফ্যানটাস্টিক অ্যাক্টর বস! এবং যে সিনটা দেখে বুঝলাম, সেটায় কিন্তু শুধু আমার ডায়ালগ ছিল। ওর শুধু রিঅ্যাকশন শট ছিল। অ্যান্ড শি ওয়াজ ফ্যাবুলাস। সে দিন বুঝেছিলাম, মেয়েটার দম আছে বস (হাসি)। আমি এত বড় কথাও বলেছি, শুভশ্রী যে কোনও দিন মুম্বইয়ের টপ প্রজেক্টের হিরোইন হতে পারে। শি হ্যাজ ইট ইন হার।

যিশুর কথা শুনে শুভশ্রীও তখন মিটিমিটি হাসছেন। অঞ্জন তখন ফ্লুরিজের বাইরে সিগারেট খেতে গিয়েছেন।

যিশু, আপনার তো এখন যাকে বলে পার্পল প্যাচ। রানি মুখোপাধ্যায়ের হিরো আপনি। তার আগে ‘জাতিস্মর’, এর পরেই ইরফান, অমিতাভ, দীপিকার সঙ্গে ‘পিকু’।

যিশু: হাহাহা। চলুক ভাই এই প্যাচটা। ১৭ বছর ধরে শুনেছি আমি আনলাকি। এত দিন পরে ভগবান মুখ তুলে চেয়েছেন। অ্যান্ড আই অ্যাম অলসো ওয়ার্কিং হার্ড। আজকে কাজ ছাড়া আর কিছু নেই জীবনে। আমার স্ত্রী নীলাঞ্জনা বুঝতে পারে আমার ভিতরের এই পরিবর্তনটা। এটাও বলছি যে, এই ছবিকে আমি কিন্তু লাকি মনে করি। ‘শেষ বলে কিছু নেই’ সাইন করার পরেই এক এক করে মুম্বইয়ের বড় বড় অফার আসতে শুরু করল...

যিশু কথা শেষ করার আগেই অঞ্জনদা ফিরে এলেন...

এই ছবিতে আপনার দু’জন অ্যাক্টর ভেঙ্কটেশ ফিল্মস-য়ে ব্রাত্য। তাঁদের সঙ্গে এঁদের দুজনের সে রকম মাখোমাখো সম্পর্ক নেই, পার্টি কি প্রিমিয়ার কি ক্রিকেট ম্যাচে দেখা হলে হাই-হ্যালো হয়। এই কাস্টিংটা কি নীরবে ভেঙ্কটেশকে একটা মেসেজ দেওয়া?

অঞ্জন: কী মেসেজ?

এই মেসেজ যে, দেখো তোমরা এদের নাও না। কিন্তু আমি প্রমাণ করে দিলাম এদের নিয়েও দারুণ ছবি করা যায়। টিপিক্যাল আন্ডারডগকে ব্যাক করে বড় টিমকে হারিয়ে দেওয়ার পুরনো স্ট্র্যাটেজি?

অঞ্জন: (হেসে) না, সে রকম কিছু না কিন্তু। ও রকম স্ট্র্যাটেজি হিসেবে ভাবিওনি। তবে আমি বহু দিন ধরে যিশুর সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছি। ‘বং কানেকশন’-এর সময় ওকে কাস্ট করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কোনও একটা কারণে হয়নি।

কোন রোলটা...পরমের?

অঞ্জন: ইয়েস, পরমের রোলটা। তার পর ওর কেরিয়ার আমি নিয়মিত ভাবে ফলো করে এসেছি। ‘আবহমান’, ‘আর একটি প্রেমের গল্প’তে হি ওয়াজ ফ্যাবিউলাস। ‘চিত্রাঙ্গদা’তে হি ওয়াজ ব্রিলিয়ান্ট। আর আজ যিশু হ্যাজ ম্যাচিওর্ড ইন্টু আ লাভলি অ্যাক্টর। এই ছবিতে যিশুর চরিত্রের সঙ্গে ওর বাস্তব জীবনের প্রচুর মিল আছে। দু’জনই দক্ষিণ কলকাতার ছেলে, গান-বাজনা করে, জীবনের স্ট্রাগল দেখেছে, প্রচুর ধাক্কা খেয়েছে। হি স্যুটেড দ্য ক্যারেক্টার ব্রিলিয়ান্টলি। এবং আমি বলছি, এই ছবিতে অভিনয়ে যিশু আমাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে।

আপনি কিন্তু আপনার সব ছবির আগেই এ রকম বলেন। বীরসা দাশগুপ্তর ‘জানি দেখা হবে’ রিলিজের আগে এমন প্রশংসা করেছিলেন যেন ‘পথের পাঁচালি’?

অঞ্জন: (হাসতে হাসতে) কিন্তু আমাকে তো আমার ছবিগুলোকে ব্যাক করতে হবে। এ বারে মিলিয়ে দেখবেন, যিশু-শুভশ্রীর অভিনয় লোকের কী পরিমাণ ভাল লাগে! ২৮ তারিখ সকালে আপনার সঙ্গে কথা হবে।

আচ্ছা, ওঁদের দুজনের মধ্যেই কি একটা সাইলেন্ট রিজলভ্ আছে? নিজেদের প্রমাণ করার এক নীরব জেদ...

অঞ্জন: হ্যাঁ আছে। একশো শতাংশ আছে। শুভশ্রী আর যিশু, দু’জনের মধ্যেই একটা সাঙ্ঘাতিক জেদ আছে। সেটা কিন্তু ওদের দেখলে বুঝবেন না। ওরা সেটা দেখায় না। কিন্তু কাজ করলে বুঝতে পারবেন।

শুভশ্রী, যিশু কি এগ্রি করে অঞ্জনদার কথার সঙ্গে?

শুভশ্রী: হুমম, হয়তো অঞ্জনদা ঠিক বলছে।

আর যিশু?

যিশু: দেখুন ভাই, আমি আনফরচুনেটলি ডিপ্লোম্যাটিক নই। ১৭ বছর ধরে শুনেছি ছেলেটা ‘হেব্বি’ দেখতে, কী ব্যবহার! তার পর একদিন শুনলাম অভিনয়টাও ভাই ঠিকঠাকই করে। কিন্তু শালা আনলাকি অ্যাক্টর। এটা শুনতে শুনতে নিজের মধ্যেই একটা জেদ তৈরি করে নিয়েছি। নিজেই বলেছি, আমাকে তোমরা আনলাকি বলছ। আমি তোমাদের ভুল প্রমাণ করব।

বুঝলাম...

অঞ্জন: আর শুধুই কি আনলাকি বলত! বলত যিশু মানেই জিঙ্কসড্ অ্যাক্টর। এই জিনিসগুলো অভিনেতা হিসেবে ওকে আরও বেটার করেছে। আমি বলছি তো, দু’জনেই এই ছবিতে রিভিলেশন। শুভশ্রীর পিছনে অন্য ধরনের পরিচালকরা কী রকম দৌড়য়, দেখুন না এই ছবিটার পর।

আচ্ছা শুভশ্রী, সেট-য়ে অঞ্জনদা কেমন?

শুভশ্রী: অঞ্জনদা সেটে ভীষণ স্পন্টেনিয়াস। সবার বন্ধু। কাউকে কখনও জোর করেন না। নিজে এত বড় মাপের অভিনেতা বলে ছোট ছোট টিপস দেন যা বাকি অভিনেতাদের অসম্ভব সাহায্য করে। আমি তো ভাল শট দিলে আমাকে এসে চুমু খেতেন (হাসি)

কী বলছেন? আপনার বাকি হিরোরা, মানে জিত্‌, অঙ্কুশরা তো ভেঙে পড়বে?

শুভশ্রী: কেন?

আরে আপনাকে ওঁরা চুমু খেতে পারছেন না। অঞ্জনদা চুমু খাচ্ছেন?

শুভশ্রী: হা হা হা হা, যদি ভাল অভিনয় করলে অঞ্জনদা চুমু খায়, তা হলে ব্যাপারটা আমার পক্ষে বেশ ভালই (হাসি)।
শুভশ্রীর কথা শুনে যিশু যেন কিছু বলার জন্য ছটফট করছিলেন

আপনি কিছু বলবেন যিশু?

যিশু: এই হয় ভাই। অঞ্জনদা চুমু খেল। আর আমি মার খেলাম।

মানে?

যিশু: মানে এই ছবিতে আমার আর শুভশ্রীর একটা কনফ্রন্টেশনের সিন আছে। সেখানে আমাকে সত্যি সত্যি কী মারল ভাবতে পারবেন না। আই ওয়াজ বিটন ব্ল্যাক অ্যান্ড ব্লু।

এটা সত্যি শুভশ্রী? না কি যিশু ইয়ার্কি করছেন?

শুভশ্রী: (হেসে) না, না সত্যি। কিন্তু সেটা একেবারেই অভিনয়ের স্বার্থে। এমনি জীবনে কিন্তু আমি ঝগড়া-চেঁচামেচি থেকে অনেক অনেক দূরে। আমার কষ্ট হয়। কেউ উঁচু গলায় কথা বলছে, দোষারোপ করছে দেখলে আমি চুপ করে যাই। আই গো সায়লেন্ট।

আচ্ছা যিশু, আপনি তো এক সময় ঋতুপর্ণ ঘোষ ক্যাম্পের অভিনেতা ছিলেন। সেই সময় অভিনেতা অঞ্জন দত্তর সম্পর্কে আপনার ঋতুপর্ণ ঘোষের সঙ্গে কী রকম কথাবার্তা হত?

যিশু: তখন ‘চিত্রাঙ্গদা’র শ্যুটিং চলছে। আমি নিজের সর্বস্ব দিয়ে দিয়েছি ছবিতে। এডিটিং থেকে ফেরার পর একদিন ঋতুদাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘দেখলে তো অনেকটাই, কী রকম বুঝলে?’ ঋতুদা আমার দিকে তাকিয়ে বলেছিল, ‘তুই খুব ভাল। কিন্তু অঞ্জন বেটার।’ (হাসি)

অঞ্জনদাও হাসছেন আপনার কথা শুনে...

অঞ্জন: এটা ও আমাকে আগে বলেনি কিন্তু। আমি ‘শেষ বলে কিছু নেই’ করতে গিয়ে বুঝেছি। যিশুর এই ভিতরের রাগটা, জেদটা আমার সঙ্গে সব ক’টা সিনেই ও দেখাতে পেরেছে। যিশু আমাকে ব’লে ব’লে গোল দিয়েছে।

এর মাঝে সৃজিত আর মৈনাকের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। ওঁরা বলছিলেন, ‘শেষ বলে কিছু নেই’য়ের ট্রেলার দেখে নিজেদের মধ্যে বলাবলি করেছেন, অঞ্জনদা ইজ ব্যাক।

অঞ্জন: থ্যাঙ্কস্‌ টু বোথ অব দেম। হ্যাঁ, ট্রেলারটা অনেকেরই ভাল লেগেছে। অলরেডি প্রচুর ভিউজ আর লাইকস্‌ হয়ে গেছে। বুঝতে পারছি মানুষের একটা কৌতূহল হয়েছে ছবিটা নিয়ে।

এই ছবিটা তো আপনার কাছেও খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনার আগের দু’টো ছবি তো ডিজাস্টার ছিল?

অঞ্জন: ডিজাস্টার? ডিজাস্টার বললেও কম বলা হয়। স্পেশালি ‘গণেশ টকিজ’। ওটা জাস্ট কিছু হয়নি। দ্যাট ওয়াজ নট মাই কাপ অব টি। আমার কাছ থেকে লোকে ওই কমার্শিয়াল গান, হাই মেলোড্রামা, বাজে জোকস্‌— এগুলো মেনে নিতে পারেন না।

আর আপনি যে রাজ চক্রবর্তী হওয়ার কথা বলেছিলেন আনন্দplus-এর এক সাক্ষাত্‌কারে?

অঞ্জন: ধুর ধুর। ওটা মজা করে বলেছিলাম। তবে এই ছবিতে আমি আমার চেনা পথে আবার ফিরে এসেছি। আমার কাছ থেকে লোকে আধুনিক, আর্বান একটা ফিল্ম এক্সপেক্ট করে। ‘শেষ বলে কিছু নেই’তে সেই জিনিসগুলো আবার ফিরে এসেছে বলেই সৃজিত-মৈনাকদের ভাল লেগেছে।

অনেক কথা হল, থ্যাঙ্কস্‌ আপনাদের তিনজনকেই রোববার সকালে এ রকম একটা আড্ডার জন্য।

যিশু: থ্যাঙ্ক ইউ। অঞ্জনদা, বেশ বেলা হল, এ বার যাই আমরা। না হলে আমার আর শুভশ্রীর রবিবার বলেও আর কিছু থাকবে না।

এই বলে ফ্লুরিজ থেকে একে একে বেরিয়ে গেলেন যিশু আর শুভশ্রী। অঞ্জন দত্ত ততক্ষণে ছবির এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসরের সঙ্গে ছবির পাবলিসিটি প্ল্যান নিয়ে নেক্সট মিটিংয়ে বসলেন।

বুঝতে পারলাম, যিশু-শুভশ্রীর মতো, পরিচালক অঞ্জন দত্তর কাছেও এই ছবি একটা বড় চ্যালেঞ্জ নিজেকে প্রমাণ করার। আবার নতুন করে শুরু করার।

সত্যি। ‘শেষ বলে কিছু নেই’ এই তিন জন মানুষের।

আরও পড়ুন

Advertisement