Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৯ নভেম্বর ২০২১ ই-পেপার

দুই রণবীর সঙ্গে বরুণ

২৯ অক্টোবর ২০১৪ ০০:০০

এক জন রণবীর কপূর।

অন্য জন রণবীর সিংহ।



ছবি: সুব্রত কুমার মণ্ডল।

Advertisement



এঁরা আগে একই নায়িকার সঙ্গে আলাদা আলাদা ছবিতে অভিনয় করেছেন।

গুজবে কান দিলে শোনা যায় বাস্তব জীবনে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কেও তাঁরা একে একে জড়িয়ে পড়েছেন ওই একই নায়িকার সঙ্গে।

তবে এখন কহানি মে অন্য টুইস্ট।

এ বার দুই নায়ক ভাগ করে নিলেন অন্য এক সহ-অভিনেতাকে।

প্রথম যখন ‘চতুষ্কোণ’য়ের প্রিমিয়ারে ব্যাপারটা জানালেন বরুণ চন্দ, তখন বেশ মজাই লেগেছিল। সামনে পর্দায় তিনি অপর্ণা সেনের স্বামীর ভূমিকায়। ‘ওথেলো’র রিহার্সাল দৃশ্যে দরাজ গলায় শেক্সপিয়রের লাইন বলে চলেছেন। গত বছর বলিউডে রণবীর সিংহ-সোনাক্ষী সিংহ অভিনীত ‘লুটেরা’তে কাজ করেছেন বরুণ। আর সেই তিনি আবার কিছু দিন আগে রণবীর কপূরের সঙ্গে মালয়েশিয়াতে গিয়ে অভিনয় করে এসেছেন। ছবির নাম ‘রয়’। রণবীরের চরিত্রের নামও তাই। মুখ্য ভূমিকায় রণবীর ছাড়াও রয়েছেন জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ আর অর্জুন রামপাল।

এর পাশাপাশি একটা জাতীয় বিজ্ঞাপনের শ্যুটিংও করছেন বরুণ। কয়েক মাস আগে মুম্বইয়ের একটা এজেন্সি থেকে তাঁকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করা হয় পাসপোর্টটা ঠিক আছে কিনা। হ্যাঁ বলতেই পেয়ে গেলেন লন্ডনে পাঁচ দিনের জন্য গিয়ে একটা বিজ্ঞাপন শ্যুট করার অফার।

আর রণবীরের সঙ্গে শ্যুটিং? সেটার জন্য উড়ে গিয়েছিলেন কুয়ালা লামপুর। সেখান থেকে ল্যাংকাওয়ি গিয়ে শ্যুটিং করেছিলেন ছবির জন্য। তবে সেখানে শেক্সপিয়র আওড়ানোর কোনও সুযোগ নেই। ছবিতে রণবীর কপূরের বসের ভূমিকায় বরুণ। “রণবীরকে আমি অ্যাসাইনমেন্ট দিই বড় রকমের চুরি করার জন্যে। গল্পে একটা পেইন্টিং দু’ভাগে ভাগ করা হয়। একজনের কাছে একটা পার্ট থাকে। সে অন্য পার্টটা পাওয়ার জন্য যে কোনও দাম দিতে প্রস্তুত। পেইন্টিংয়ের এই অংশটা চুরি করার দায়িত্ব আমি দিয়েছিলাম রণবীরকে,” বরুণ জানান।

এই রোলটার জন্য তাঁকে কোনও অডিশন দিতে হয়নি। পরিচালক নতুন। বিক্রমজিত্‌ সিংহ। ‘লুটেরা’তে বরুণের অভিনয় দেখে মুগ্ধ। “এটা বলা দরকার যে দুটো ছবিতে আমার চরিত্রগুলো একেবারে বিপরীতমুখী। ‘লুটেরা’তে আমি ধর্মভীরু এক জমিদার। আর এখানে আমার চরিত্রটা হল ‘মাস্টার ক্রুক’-এর। ‘রয়’য়ের সেটে পরিচালকের সহকর্মীরা আমাকে কেউ চিনতেন না। আমাকে দেখে বোধ হয় ভেবেছিলেন কাকে নিয়ে এসে এ চরিত্র করানো হচ্ছে! সেটা শুনে সঙ্গে সঙ্গে পরিচালক সবাইকে বলেন ‘লুটেরা’ দেখতে। সত্যি ওটার মতো গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র পাওয়াটা বেশ কঠিন।”

‘রয়’য়ের লুক টেস্টের সময় মেক আপ আর্টিস্ট চেয়েছিলেন কুচকুচে কালো চুল ব্যবহার করতে। কিন্তু পরিচালক মানতে নারাজ। ঠিক হল বরুণকে বাস্তবে যেমন দেখতে তেমনি রাখা হবে।



সহ-অভিনেতা হিসেবে দুই রণবীর কতটা আলাদা জানতে চাইলে বরুণ বলেন, “রণবীর সিংহ বেশ মিশুকে। বরুণদা বলে ডাকত আমায়। হাসি-ঠাট্টা পছন্দ করে। কিন্তু রণবীর কপূরকে দেখে মনে হল খুব রিজার্ভড। নিজেকে নিয়েই থাকত। খানিকটা আশ্চর্য হয়েছিল এটা শুনে যে আমি কলকাতায় থাকি। ওর ধারণা ছিল ‘লুটেরা’ করেছি যখন আমি হয়তো মুম্বইনিবাসী। ও আমাকে স্যর বলে সম্বোধন করতে, আমি নিজেই বলেছিলাম ও সবের দরকার নেই। আসলে মুম্বইতে সিনিয়রদের আবার স্যর স্যর বলে সম্বোধন করার চলটা রয়েছে...”

আচ্ছা সেটে কি সব্বাই জানতেন তিনি... প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই বরুণ বললেন, “...আমি ‘সীমাবদ্ধ’ করেছি কিনা? না ও সব প্রসঙ্গ তুলিনি। আমার মনে হয় না ওরা ‘সীমাবদ্ধ’র নাম শুনেছে। ওখানে কাজ করতে গিয়ে একবারও আমি বলিনি যে আমি ‘রে অ্যাক্টর’। এখনকার দিনে মুম্বইতে কাজ করতে গিয়ে যদি ওই পুরনো কথা বারবার বলি তা হলে লোকে ভাববে আমি বেশি ‘শো অফ’ করছি।”

কিন্তু একটা সময় তো ছিল যখন এই সব কথা বলার সুযোগ থাকত, তাই না? “হ্যাঁ, তা ছিল। মনে আছে কবীর বেদির সঙ্গে আলাপ হওয়ার সময় উনি আমায় দেখেই বলেছিলেন, ‘ও ইয়েস, আই নো ইউ।’ তখনকার ছবির ধারা আলাদা ছিল। কবীরের চার্ম ছিল ঠিকই তবে পড়াশোনাও কম ছিল না। ও নিশ্চয়ই মানিকদার সব কটা ছবি দেখেছিল।”

‘চতুষ্কোণ’য়ের পরে তাঁর আরও তিনটে ছবি মুক্তির অপেক্ষায়। ‘‘দুটোতে ছোট কিন্তু মনে রাখার মতো চরিত্র। ‘এক ফালি রোদ’য়ে আমি এক ডিটেকটিভের ভূমিকায়। ‘নয়নচাঁপার দিনরাত্রি’তে আমি এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। আমার বাড়িতে রূপা (গঙ্গোপাধ্যায়) কাজ করে। আর আছে ‘যোগাযোগ’।”

আর ‘চতুষ্কোণ’? ‘‘এখানেও আমার খুব ছোট্ট কাজ। ছবিটা আমাকে দিয়ে একটা ইমোশনাল জায়গায় শেষ হয়েছে বলে হয়তো লোকে আমার কথা বলছে! তবে ভাবতে ভাল লাগছে যে আজকে বলিউড-টলিউড মিলিয়ে নানান চরিত্র করার সুযোগ আসছে। আমার কেরিয়ারের থার্ড ইনিংসটা এনজয় করছি।”

আরও পড়ুন

Advertisement