• স্রবন্তী বন্দ্যোপাধ্যায়
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বিয়ে নিয়ে অনুশোচনা হতে পারে, ডিভোর্স নিয়ে নেই: মধুমিতা

main
বিয়ে-ডিভোর্স নিয়ে মুখ খুললেন মধুমিতা। নিজস্ব চিত্র।

লকডাউনে ট্যাটু! লেখা ‘অ্যান্ড দ্য কেওস উইদিন মি ফাউন্ড ব্যালান্স’! হঠাৎ?
মধুমিতা: অনেক দিন থেকেই ভাবছিলাম ট্যাটু করব।

কিন্তু শরীরের কোন অংশে করলেন! দেখাই তো যাচ্ছে না...
পায়ের উপরের অংশে করেছি। হট প্যান্ট পরলে দেখা যাবে ( উত্তেজিত)।

 ট্যাটুতে লেখা ‘কেওস’ আর ‘ব্যালান্স’। আপনার কেওসটা কী? আর ব্যালান্সই বা কোথায়?
দেখুন, আমি বরাবর সোজা কথা বলি। কেওস বলতে ব্যক্তিগত স্তরে নিজেকে না বোঝা, নিজের গোল সেট না করা, বিভ্রান্তির মধ্যে থাকা আমার যে জীবন তার কথা বলতে হয়।

যেমন? আর একটু বুঝিয়ে বলুন না।
ওই সময়টায় আমি ‘জাজমেন্ট ডে’ শুট করছি। তখন বাড়িতে খুব অশান্তি।

মধুমিতার পায়ের উপরের অংশে ট্যাটু। নিজস্ব চিত্র।

তখন কি বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন?
না। তখন মনের মধ্যে এমন পরিস্থিতি, আমি ভাবছি আমার বেঁচে থাকার কোনও মানেই হয় না। জীবনে শুধু কাজ আছে। তাই বাঁচছি। মনে হয়েছে ‘জাজমেন্ট ডে’-র কাজ শেষ না করে মরে গেলে কাজটার ক্ষতি হবে। অনেক ঝামেলা তখন, কিন্তু দেখছি কাজে ঢুকলে আর ও সব মনে থাকছে না। ওখান থেকেই কাজের গুরুত্ব বুঝতে শুরু করি। মৃত্যুর চিন্তা ছেড়ে জীবনের দিকে যাই।

আপনার মৃত্যুর ভুল খবর নিয়ে আজও ইন্টারনেটে প্রচুর স্টোরি করা আছে...
হ্যাঁ (উত্তেজিত), প্রায় প্রত্যেক বছরই পেজ ভিউ বা ভিডিয়ো ভিউ বাড়ানোর জন্য আমাকে মরতে হয়। কেউ ভাবে না, মনেও রাখে না, আমাদের মতো অভিনেতাদের উপর এই ধরনের খবরগুলো কেমন চাপ ফেলতে পারে। কী না করা হয়েছে আমায় নিয়ে! আমি তখন ধারাবাহিকে সকলের প্রিয় চরিত্র ‘পাখি’। আমি ছোট পোশাক পরলে আমাকে বলা হচ্ছে আমি ‘পাখি’র শালীনতা নষ্ট করছি। আর তারা কী করেছে? আমার সালোয়ার কামিজ পরা ছবি থেকে ওড়না অবধি রেখে তার পর কেটে নেকেড বডি জুড়ে দিচ্ছে!  কোথায় থাকছে শালীনতা? আমি আজ বলছি। আসলে এগুলো এড়িয়ে চলেছি। সেই ছবিকে বিকৃত করে ভাইরাল করা হয়। আরে, যখন আমি স্ট্রাগল করছি, কম টাকায় শাড়ি বা ওয়েস্টার্ন পরে মডেলিং করছি তখন কেউ কিছু বলেনি। যখন আমি অভিনেত্রী হলাম তখন মানুষের মনে হতে শুরু করল, কেন আমি ছোট জামা পরছি? কেন ক্লিভেজ দেখা যাচ্ছে? এখন আমি নিজেই বিকিনি পরে শুট করব, নিদেনপক্ষে আমার নিজের শরীর তো থাকবে। কাউকে আমার ছবি নিয়ে কাটাকুটি তো করতে হবে না! যৌনতা নিয়ে ছুঁৎমার্গ তো গেল না আমাদের।আর এখন তো সাইবার বুলিং আরও বড় একটা সমস্যা হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন: সুশান্ত-কাণ্ডে তদন্তের অভিমুখ এখন বাঙালি মেয়ে রিয়ার দিকে, কেন?

স্পষ্ট কথা, রিভিলিং পোশাক পরলে কি বেশি করে এই আক্রমণের শিকার হতে হয়?
আমি আসলে ‘রিভিলিং’ পোশাক শব্দটাই বিশ্বাস করি না। এই তো সে দিন একটা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কাজ করা নিয়ে বলতে গিয়ে প্রথমেই বলা হল আমায়, রিভিলিং পোশাক পরতে পারব তো? এটা কোনও প্রফেশনাল অ্যাপ্রোচ? আগেই এই কথা? আর সাইবার বুলিং যে ভাবে বাড়ছে তাতে তো পড়লাম এক কোরিয়ান অভিনেত্রী যে ভাবে সাইবার বুলিং-এর শিকার হয়েছেন যে থাকতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন। অনেক দিন আগে বেশ কয়েকটা পোর্টালে আমাকে নিয়ে খবর হল, গোয়ায় আমি দেহব্যবসায় জড়িত। সবাই ফোন করছে আমাকে বা মাকে। শেষে পরিস্থিতি সামলাতে আমায় লালবাজারে যেতে হয়েছিল। কী করতাম? গলায় দড়ি দেব? ধুর! মানুষ ছবিতে কোনও অভিনেতাকে  ভিলেন হিসেবে দেখছে তো আসল জীবনেও সে কি ভিলেন? এক জন অভিনেত্রী ছোট পোশাক পরে ছবিতে অভিনয় করছে বলেই কি সে বাস্তবেও ‘স্লাট’? আমার হাফ বিকিনির একটা শুটে একটি মেয়ে ভাল কমেন্ট করেছে। তাতে সেই মেয়েটিকে এক জন লিখছে, ‘আপনি নিজে বোরখা পরেন আর আপনি ও রকম একটা ছবিতে লাইক করছেন!’ মানে, আমি কী পরে আছি শুধু নয়, আমার হাফ বিকিনি পরা ছবিতে যে মেয়ে লাইক করবে সে-ও ‘খারাপ’। বিদেশে লোকে অনায়াসে বিকিনি পরে ঘোরে। আমরা কুড়ি বছর আগে পুরী, দিঘা যেতাম গামছা জড়িয়ে।আজও তাই। কোনও বদল নেই। এগুলোই কেয়স আর এর থেকে মুক্ত রাখতে হবে, ব্যালান্স করতে হবে।

যশের সঙ্গে প্রেম? যশের গার্লফ্রেন্ডও জানে এটা মিথ্য়ে। নিজস্ব চিত্র। 

৬ মাস লকডাউনে বাড়িতে। বোর হচ্ছেন না?
আমি তো ফিল্ম নিয়ে পড়াশোনা করছি। শুধু অভিনয় নয়। এই বিষয়টাকে থিওরেটিক্যালিও জানা দরকার। মাঝে মোটা হয়ে গিয়েছিলাম। ‘হুলা হুপ’ করে রোগা হয়েছি। এখন খুব ভাল আছি।

ভাল থাকার অনুভূতি কি সৌরভের সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ার পর?
এখন কোর্ট বন্ধ বলে ডিভোর্স হয়নি। তবে যে দিন বেরিয়ে এসেছি তার পর থেকে যোগাযোগ নেই। ভাল আছি এখন।

আগে খারাপ ছিলেন?
মনেই করতে চাই না।

আরও পড়ুন: বড় পর্দায় একসঙ্গে প্রথম অঙ্কুশ-ঐন্দ্রিলা

তা হলে যশের সঙ্গে প্রেমের বিষয়টা নিয়ে বলুন। ওটা কি সত্যি?
এটা যে মিথ্যে সেটা যশ শুধু নয়, যশের গার্লফ্রেন্ডও জানে। ইন্ডাস্ট্রিও জানে। আসলে এটা ‘বোঝে না সে বোঝে না’ আর ‘পাখি’-র ফ্যানেরা করেছে। ওরা এই জুটি ছাড়া আর কিছু দেখবে না। ভাববে না। তারা মনে করে আমরা চেয়েছি বলে তোমরা বিখ্যাত হয়েছ। এ বার আমরা চাইছি তোমরা বিয়ে কর।

বিয়ে নিয়ে কোনও অনুশোচনা আছে?
বিয়ে নিয়ে হতে পারে। ডিভোর্স নিয়ে নেই।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন