ধর্মেন্দ্রের মৃত্যুর পরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন হেমা মালিনী। বার বার শোকপ্রকাশ করেছেন। স্পষ্ট হয়েছে, আজও তিনি স্বামীর প্রেমে ডুবে আছেন। বরাবরই ধর্মেন্দ্র-হেমা মালিনী জুটি নিয়ে কথা হয়েছে বলিউডে। তবে ধর্মেন্দ্রের আগেও হেমার জীবনে এসেছিল আর এক অভিনেতার প্রেম।
১৯৮০ সালে ধর্মেন্দ্রের সঙ্গে হেমা মালিনীর বিয়ে হয়। বলিউডের অন্যতম আলোচিত জুটি ছিলেন তাঁরা। তাঁদের রসায়ন মুগ্ধ করেছিল বটেই। তবে আরও একটি কারণ ছিল। ধর্মেন্দ্র তাঁর প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌরের সঙ্গে বিবাহিত থাকাকালীনই হেমার সঙ্গে গুঞ্জন ছড়ায়। তত দিনে ধর্মেন্দ্র তাঁর চার সন্তান সানি দেওল, ববি দেওল, বিজেতা ও অজিতা দেওলের বাবা হয়ে গিয়েছেন।
তবে অন্য দিকে, ধর্মেন্দ্র জীবনে আসার আগেই অভিনেতা সঞ্জীব কুমারের সঙ্গে হেমা মালিনীর সম্পর্ক নিয়ে বহু বছর ধরে নানা গুঞ্জন শোনা যায়। একসঙ্গে একাধিক ছবিতে কাজ করতে করতেই তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়। বিশেষ করে ‘সীতা অউর গীতা’ ছবির সাফল্যের পর তাঁদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
জীবনীকার হানিফ জাভেরির মতে, সঞ্জীব কুমার নাকি হেমা মালিনীকে বিয়ে করা নিয়ে গভীর ভাবে ভেবেছিলেন। এমনকি, তিনি অভিনেত্রীর পরিবারের সঙ্গেও এই বিষয়ে কথা বলেছিলেন বলে জানা যায়। তবে বিয়ে এবং সংসার নিয়ে দু’জনের ভাবনায় পার্থক্য থাকায় সম্পর্কের দূরত্ব তৈরি হয়।
শোনা যায়, সঞ্জীব কুমার চাইতেন বিয়ের পরে হেমা মালিনী যেন অভিনয় ছেড়ে সংসার সামলান। কিন্তু তখন কর্মজীবনের মধ্যগগনে হেমা। তিনি এই শর্ত মানতে রাজি হননি। অভিনেত্রী নাকি মনে করতেন, বিয়ে নিয়ে সঞ্জীব কুমারের ভাবনা ছিল বেশ পুরুষতান্ত্রিক। ‘শোলে’ ছবির সময়েও সঞ্জীব কুমার বিয়ে করতে চেয়েছিলেন হেমাকে। কিন্তু অভিনয়ের সঙ্গে আপস করেননি বলিউডের ‘ড্রিম গার্ল’। পরে এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, সংসারের জন্য নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলতে তিনি কখনও চাননি। অন্য দিকে, সঞ্জীব আর বিয়ে করেননি। তিনি ৪৭ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছিলেন।