বলিউডে পুরুষ ও মহিলা অভিনেতাদের বয়স নিয়ে আলোচনা লেগেই থাকে। পুরুষ অভিনেতার বয়স ৬০ ছুঁলেও তিনি নায়কের চরিত্রে অভিনয় করেন। কিন্তু মহিলাদের ক্ষেত্রে তা হয় না। সম্প্রতি ‘রাজা শিবাজী’ ছবির নামও উঠে আসছে বয়স নিয়ে এই আলোচনায়। রিতেশ দেশমুখের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ভাগ্যশ্রী। কিন্তু বাস্তবে, রিতেশের থেকে ভাগ্যশ্রী মাত্র ১০ বছরের বড়।
এই মরাঠি ছবিতে নামভূমিকায় অভিনয় করেছেন রিতেশ। ছত্রপতি শিবাজীর চরিত্রে দেখা গিয়েছে তাঁকে। শিবাজীর জীবন তাঁর মা জিজাবাইয়ের অবদান ছাড়া অসম্পূর্ণ। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন ভাগ্যশ্রী। ‘রাজা শিবাজী’র সাফল্যের পরে এক সাক্ষাৎকারে বয়স নিয়ে কথা বলেন ভাগ্যশ্রী। নিজের থেকে মাত্র ১০ বছরের ছোট রিতেশের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা কেমন? ভাগ্যশ্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, বয়স যা-ই হোক, মহারাষ্ট্রের ইতিহাসের এত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ তিনি কোনও ভাবেই ফিরিয়ে দিতে পারতেন না।
ভাগ্যশ্রীর কথায়, “যে চরিত্রের গল্প শুনে বড় হয়েছি, সেই চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেলে না বলার প্রশ্নই ওঠে না। তা ছাড়া, জিজাবাইও খুব অল্প বয়সেই মা হয়েছিলেন।” ছবির চিত্রগ্রাহক সন্তোষ শিবন ভাগ্যশ্রীকে ফোন করে বলেছিলেন, “আমি দুঃখিত। ক্যামেরার মাধ্যমে তোমাকে একটু বয়স্ক হিসাবে দেখাতে হয়েছে। কারণ, তোমাকে এখনও তরুণীদের মতোই দেখতে লাগে।” তাই ভাগ্যশ্রী বলেন, “এই প্রশংসাটা আমি সব সময়ে মনে রাখব। তিনি তো একজন কিংবদন্তি চিত্রগ্রাহক।” অভিনেত্রী স্পষ্ট করে দেন, ১০ বছরের ছোট অভিনেতার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে তাঁর কোনও রকমের আক্ষেপ নেই।
জিজাবাইয়ের মতোই ভাগ্যশ্রী নিজেও মহারাষ্ট্রের সাঙ্গলীর রাজপরিবারে বড় হয়েছেন। ছোটবেলায় কী ভাবে ছত্রপতি শিবাজী গল্পের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গে ভাগ্যশ্রী বলেন, “শিবাজী মহারাজের গল্প আমরা অনেক ছোটবেলায় শুনেছি। অন্য বাচ্চারা সমুদ্রতটে বালির দুর্গ বানাত। আর আমরা কাদামাটি দিয়ে শিবাজির কেল্লা বানাতাম।”
‘রাজা শিবাজী’ ছবিতে রিতেশ ও ভাগ্যশ্রী ছাড়াও অভিনয় করেছেন সঞ্জয় দত্ত, অভিষেক বচ্চন, জেনেলিয়া দেশমুখ, সচিন খেডেকর, বিদ্যা বালন, ফরদীন খান।