ঠিক আছেন এখন?
যশ: হ্যাঁ, আমি তো পারফেক্ট। গাড়ির পিছনে অটো এসে মেরে দিল।

কী হয়েছিল?
যশ: (স্পষ্টতই বিরক্ত) আরে, এখানেই আসছিলাম। ইন্টারভিউ দিতে। হঠাত্ই আমার গাড়ির পিছনে অটো এসে মারল। নেমে দেখলাম, অটোর পিছনে লেখা সেফ ড্রাইভ, সেফ লাইফ! সত্যি কথা বলতে মনে হচ্ছিল নেমে পেটাই ওকে। কিন্তু তার পর ভাবলাম, সেটা তো ঠিক নয়। ওকে বোঝালাম এ ভাবে চালানো ঠিক নয়।

‘টোটাল দাদাগিরি’র ইন্টারভিউ দিতে আসতে গিয়ে রিয়েল ‘দাদাগিরি’র সিচুয়েশন! অদ্ভুত তো!
যশ: সিরিয়াসলি মনে হচ্ছিল, নেমে পেটাই। ওফ!...

আরও পড়ুন, সত্যিই কি যশ এ ভাবে ‘দাদাগিরি’ করতেন!

রিয়েল লাইফে সত্যিই ‘দাদাগিরি’ করেন?
যশ: (হা হা…) আমি ছোটবেলা থেকেই দাদাগিরি করতাম। তবে কখনও আমার জুনিয়রকে সমস্যায় ফেলিনি। আমার সিনিয়ররা যদি আমার গ্রুপের কোনও ছেলেকে র‌্যাগ করত, ওরা এসে আমাকে বলত। আমি তখন দাদাগিরি ফলাতে যেতাম।

আর ‘টোটাল দাদাগিরি’র সেটে দাদাগিরি করেছেন?
যশ: সেটে অ্যাজ সাচ ‘দাদাগিরি’ কেউই করেনি। ডিওপি সৌমিকদা ছিলেন সবচেয়ে সিনিয়র। আর আমাদের ডিরেক্টর পথিকৃত্ সবচেয়ে জুনিয়র। ওকে খুব খচাতাম। ২২ দিনে শুটিং শেষ করেছি। ‘দাদাগিরি’ ফলাতে গেলে আর শুটিংটা হত না।

ছবিটা কি মজার?
যশ: রোম্যান্টিক কমেডি বলতে পারেন। ফোর্সড কমেডি নয়। সিচুয়েশনাল কমেডি। যেখানে ক্যারেক্টার সিরিয়াস। কিন্তু অডিয়েন্স মজা পাচ্ছে।

আরও পড়ুন, ‘বিশ্বাস করুন, আমি বেকার, আমার কাছে কোনও কাজ নেই’

আপনার চরিত্র কেমন?
যশ: আমার চরিত্রের নাম জয়। বাবা-মার একমাত্র ছেলে। কেয়ার ফ্রি থাকতেই পছন্দ করে। এখানে দাদাগিরি মানে কিন্তু পাড়ার মস্তান, এমন নয়। জয় পড়াশোনায় ভাল নয়। চার বছর ধরে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পাশ করার চেষ্টা করছে। পারেনি। তার পর কিছু একটা করে ফাইনালি পাশ করে। জোনাকি, মানে যে চরিত্রে মিমিকে দেখবেন আপনারা, ওকে দেখার পর লভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট হয়। সেখানেই শেষ নয়। টুইস্ট আছে। মেয়েটার বাবা এখানে বড় ফ্যাক্টর। তারপর কী হয়, সেটা নিয়েই স্টোরি।

‘গ্যাংস্টার’ এবং ‘ওয়ান’-এর পর এটা তৃতীয় ছবি। একদম আলাদা চরিত্র মনে হচ্ছে?
যশ: ঠিক বলেছেন। ‘গ্যাংস্টার’-এ সিরিয়াস ব্যাপার ছিল। স্যাড লভ স্টোরি ছিল ওটা। ‘ওয়ান’ও সিরিয়াস ক্যারেক্টার। কিন্তু ‘টোটাল দাদাগিরি’ তেমন নয়। আমাকে বাড়ির লোকও বলছিল, তুই এত সিরিয়াস রোল করিস কেন? এ বার সেটা ভাঙতে চেয়েছিলাম। ভাবলাম কিছু এন্টারটেনিং করি। দর্শকদের লাইফেও তো অনেক সমস্যা আছে। সেটা সরিয়ে যাতে ছবিটা দেখে তাঁরা মজা পেতে পারেন, সেই চেষ্টা করেছি।


‘টোটাল দাদাগিরি’র একটি দৃশ্যে যশ এবং মিমি।

তিনটে ছবি হয়ে গেল সিভিতে। কতটা বদল এল?
যশ: কাজে পার্থক্য এসছে। থার্ড ফিল্মের সঙ্গে এক্সপিরিয়েন্স গ্যাদার করেছি। তবে সে দিনও টেনশন ছিল, আজও টেনশন আছে। প্রত্যেকবার ভাবি, ছবি করতে করতে হয়তো টেনশন কমে যাবে। কিন্তু দেখছি রিলিজ ডেট কাছে আসলেই টেনশন বেড়ে যায়। আমি নিজেকে সবার থেকে আলাদা করে একটা ঘরে বন্ধ করে রাখি। যাতে লুকিয়ে থাকতে পারি। পরীক্ষার রেজাল্ট বেরোনোর সময়ও এমন টেনশন হয়নি।

ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা তৈরি হল নিশ্চয়ই?
যশ: দেখুন, এটা ১০০ মিটারের কোনও রেস নয়। এটা ম্যারাথন। এ ব্যাপারে সবচেয়ে বড় ইন্সপিরেশন পেয়েছি বুম্বাদার থেকে। প্রায় ৩৬০টা ছবি করেছেন উনি। সবার কেরিয়ারেই আপস্ অ্যান্ড ডাউনস্ আছে। আর আদৌ কি কেউ কারও জায়গা নিতে পারে?সেটা তো হতে পারে না। কেউ তো কারও রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে আসতে পারে না। সকলেরই নিজস্ব জায়গা রয়েছে। সবার নিজস্ব ইউএসপি রয়েছে। নেগেটিভ পয়েন্টও আছে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রি এত ছোট যে, উই অল ক্যান পিসফুলি কোএগজিস্ট। সেটা হয় না কেন আমি জানি না। কিন্তু অ্যাকচুয়ালি ইট ইজ পসেবল। বম্বেতে যখন হচ্ছে, আমাদের এখানে তো হাতে গোনা লোক!

আরও পড়ুন, ‘মা দুর্গার বুক নিয়েও কমেন্ট করছে লোকে, আমি তো কোন ছার’

‘দাদাগিরি’ শব্দটার সঙ্গে প্রথম কী রিলেট করতে পারেন?
যশ: দাদাগিরি বলতে সবার আগে সৌরভদার কথা মাথায় আসে। এই ছবিতে কিন্তু নিজের ভালবাসার প্রতি দাদাগিরি ফলানো হচ্ছে। ঠিক জায়গায় দাদাগিরি ফলানো হলে সেটা কিন্তু খারাপ নয়।