হঠাত্ কল্যাণ সেন বরাটের বাড়িতে ডাকলেন কেন?
ইমন: রেকর্ডিং করছি একটা। ‘উইকেন্ডে সূর্যোদয়’। কল্যাণদার তো বাড়িতেই স্টুডিও। একটু ব্রেক নিয়ে বেরিয়ে এলাম। কল্যাণদা সত্যিই খুব ভাল মানুষ। আমাদের অ্যারেঞ্জ করে দিলেন…।

‘উইকেন্ডে সূর্যোদয়’ নিয়ে যিনি ব্যস্ত, তাঁর প্রিয় ঋতু বসন্ত?
ইমন: হা হা…। ‘উইকেন্ডে সূর্যোদয়’ নিয়ে সাময়িক ব্যস্ততা রয়েছে। এই ছবিতে অনেক দিন পর কল্যাণদা মিউজিক করছেন। রবীন্দ্রনাথের গান রয়েছে। একটা নতুন গানও গাইব। তবে বসন্ত আমার অল টাইম ফেভারিট।

সে জন্যই আলাদা করে বসন্ত উত্সব করেন?
ইমন: বলতে পারেন সে কথা। জাস্ট দু’বছর বয়স হল আমাদের অনুষ্ঠানের। লিলুয়ার প্রচুর মানুষ এটায় ইনভলভ থাকেন। মু্ম্বই, বাংলাদেশ থেকে শিল্পীরা আসতে চেয়েছেন। আর অনেক শিল্পীই সে অর্থে বিনা পারিশ্রমিকে গান গেয়েছেন।

আরও পড়ুন, অনুষ্কার প্রিয় বাংলা শব্দ? ‘পরী’তে জেনে ফেলেছেন পরমব্রত

এই লিলুয়ার ইমনের জীবনটা কি অনুপম রায় বদলে দিলেন? আপনার জীবনে এই নামটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
ইমন: আমার মিউজিক্যাল কেরিয়ারে অনুপম রায় নামটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা নিঃসন্দেহে বলতে পারি, ‘তুমি যাকে ভালবাসো’র পর আমার জীবনে ভাল যা কিছু হয়েছে তার সব কিছুর জন্য অনুপমদা দায়ী।


বসন্ত উত্সবের মঞ্চে ইমন। ছবি: অ্যাডভার্বের সৌজন্যে।

এই গানেরই কথা, ‘অন্য কারও সঙ্গে বেঁধো ঘর’। এ কথা ব্যক্তিগত জীবনে আপনাকে কখনও বলতে হয়েছে?
ইমন: গানটা গাওয়ার আগেই বলতে হয়েছে। সে সময়টা আই ওয়াজ পাসিং থ্রু আ ভেরি ভেরি ব্যাড ফেজ। মা চলে যান। ব্রেকআপ হয়। সে জন্যই হয়তো সমস্ত ইমোশন দিয়ে গানটার সঙ্গে জাস্টিফাই করতে পেরেছি। সেই সম্পর্কের পরে বোধহয় ম্যাচিওর্ড হয়েছি। বড় হয়েছি।

গানটা অত হিট করার পর প্রাক্তনের সঙ্গে কথা হয়েছিল?
ইমন: গানটা হিট হওয়ার পরে কোনও কথা হয়নি। তবে গানটার জন্য ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার পর তার দিক থেকে একটা ফোন এসেছিল। আসলে একটা সময়ের পরে কী হয়, তুমি তার ভালও চাইছ না, খারাপও চাইছ না। সে আছে তার মতো করে। আর পাঁচটা সাধারণ বন্ধুর মতো তার সঙ্গে কথা হয়। এ জায়গাটা আমরা দু’জনেই বোধহয় মিউচুয়ালি ঠিক করতে পেরেছি।

এখন তো নতুন সম্পর্কে রয়েছেন।
ইমন: হ্যাঁ, শোভন। শোভন গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার রিলেশন রয়েছে। সেটা অনেকেই জানেন।


শোভনের সঙ্গে ইমন। ছবি: ফেসবুকের সৌজন্যে।

ঠিকই। আমার প্রশ্ন, পুরনো প্রেম থেকে কী কী শিখলেন, যেটা এই সম্পর্কে অ্যাপ্লাই করছেন?
ইমন: (সামান্য পজ) কখনও কখনও পলিটিক্যালি কারেক্ট হতে হয়। পুরনো প্রেম আমাকে এটা শিখিয়েছে। শোভন একটু রাগী। হুটহাট মাথা গরম করে ফেলে। কিন্তু, আমাকে খুব বোঝেও। ও কিন্তু আমার কিছু দেখে আসেনি। আমার নাম হওয়ার পর ওর দিক থেকে কিন্তু কিছু চেঞ্জ হয়নি।

আপনারা দু’জনেই গান করেন। কিন্তু, আপনাকে মানুষ বেশি চেনেন। ইগোর সমস্যা হয় না?
ইমন: এটা ভুল কথা। প্র্যাকটিকালি শোভনকে বেশি লোকে চেনেন। কারণ ও যে প্ল্যাটফর্ম থেকে এসেছে সেটা সকলের ঘরে ঘরে ছিল। ফলে ওকে সব অডিয়েন্স চেনে। আর আমাকে ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার পর লোকে বেশি চিনেছেন।

আরও পড়ুন, ‘অপ্রিয় সত্যি বলে ফেললে প্রিয়পাত্রী হওয়া যায় না’

কিন্তু, শোভন আপনার থেকে বেশি হিট তো নন।
ইমন: সেটা ঠিক। কিন্তু সেটা তো সব নয়। আমি মনে করি ওর সময় এখনও শুরুই হয়নি।

ব্যাকিং দেন শোভনকে?
ইমন: শোভনকে ব্যাকিং দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ওর আমার থেকে বেশি শো, বেশি রেকর্ডিং। শোভন আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে।

যেমন?
ইমন: প্রচুর নতুন গান শোনায়। সেটা তো আগে শুনতাম না। দেখুন, একই প্রফেশনে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা খুব কঠিন। কিন্তু ঠান্ডা মাথায় পলিটিক্যালি কারেক্ট হয়ে আমরা দু’জনেই দু’জনের জন্য আছি।

‘দৃষ্টিকোণ’, ‘শুভ নববর্ষ’তে কাজ করলেন তো?
ইমন: হ্যাঁ। জয়দার সঙ্গেও একটা কাজ করলাম। আরও কয়েকটা ছবি আসছে।

এত যে সিনেমায় গান করছেন, তার ভিড়ে অরিজিনাল গান কি হারিয়ে যাচ্ছে?
ইমন: খুব জরুরি বিষয় এটা। সত্যিই এখন সিনেমার গানের ভিড়ে অরিজিনাল মিউজিক হারাচ্ছে। তবে, আমার মনে হয় এখন বাংলা সিনেমায় যে ধরনের মিউজিক হচ্ছে, সেখানে আমরা কোথাও অরিজিনাল মিউজিকটাকেই তুলে ধরছি। একটা সময় আমরা ভাবতে পারতাম না, ‘তুমি যাকে ভালবাস’ বা ‘আমাকে আমার মতো’ গানগুলো বাংলা সিনেমার গান হবে। নচিদা বা লোপাদিরা যখন হিট করেছে, তখন সেগুলো বেসিক গানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল। আরও একটা বিষয় আছে। এফএম-এ আগে বেসিক বাংলা গানগুলো বাজত। কিন্তু, এখন আর সেটা হয় না।

এই সমস্যা থেকে বেরোনোর উপায়?
ইমন: (কিছুটা উত্তেজিত) এফএম-এ বাংলা গান বাজাতে হবে। না হলে উপায় নেই। শুধু ফেসবুক আর ইউটিউব দিয়ে নিজেকে এসট্যাবলিশ করা সম্ভব নয়। আমার বাবা কিন্তু ইউটিউবে গান চালিয়ে শোনেন না। এখনও একটা জেনারেশন আছেন যারা সিডি-ক্যাসেটের যুগেই আছেন। তাঁদের কাছেও তো পৌঁছতে হবে। আমার মনে হয়, এই জায়গাটা সবাই মিলে একটু ওয়ার্কআউট করা উচিত।

আরও পড়ুন, বিয়ে করে কি কেরিয়ারে পিছিয়ে পড়লেন? মুখ খুললেন সমতা

রবি ঠাকুরের গানে স্টেজে আপনার নাচ নিয়ে তো বহু সমালোচনা হয়েছে। আপনার কাছে এটার জাস্টিফিকেশনটা কী?
ইমন: দেখুন, আমি রবিঠাকুরকে শিখেছি, যাপন করেছি। আলাদা করে কাউকে জানানোর দরকার নেই যে, রবি ঠাকুরের গান আমি প্রাণ ভরে গাই। রইল বাকি পারফরম্যান্সের কথা। যাঁরা দেখতে আসছেন, তাঁদের মধ্যে এই প্রজন্মের প্রচুর মানুষ আছেন। আবার অনেকে অথেন্টিক ওয়েতে গানটা শুনতে ভালবাসেন। আমাকে তো দুটোকে মার্জ করতে হবে। আমি স্টেজে ‘তুমি যাকে’ গাইছি, ‘রঙ্গবতী’ গাইছি, আবার রবীন্দ্রনাথও গাইছি। ফলে আমার ড্রেসআপ, মিউজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট সব কিছুর মধ্যে তো একটা সামঞ্জস্য রাখতে হবে। শুধু এস্রাজ, তবলা নিয়ে তো স্টেজে উঠতে পারি না। কারণ রবীন্দ্রনাথের গানের পরের লাইনটাই হবে ‘মায় তু জলে না যাইয়ো’। সেটার অ্যারেঞ্জমেন্ট একদম অন্য রকম। সেটা তো মাথায় রাখতে হবে।

সমালোচনা সামলান কী ভাবে?
ইমন: সমালোচনা না হলে তো মনে হবে, আহা আমি হেবি করছি। আমিই বস। এ জায়গাটা আমি চাই না। যাঁরা আমার সমালোচনা করছেন, তাঁরা আমায় নিয়ে ভাবছেন। আমি সেটা মাথা পেতে নিলাম। কিন্তু আমি আমার ভাবনাচিন্তা অনুযায়ী করব। কারণ সেটা ছাড়া আমার উপায় নেই। ‘দমাদ্দম মস্ত কালান্দর’ গাইলে কেউ যদি ভাবেন, ইমন রবীন্দ্র গান গায়, কী করে এটা গাইল? তা হলে বলব, এগুলো গাইতে গেলে গানটা শিখতে হয়। যখন আমি পারফর্ম করছি, আমি মানুষকে আনন্দ দিতে এসেছি, কোনও কিছু শেখাতে আসেনি।

আরও পড়ুন, দেবলীনা কি আপনার গার্লফ্রেন্ড? মুখ খুললেন গৌরব

এই রাগী ইমনের মন খারাপ হয়?
ইমন: (ম্লান হাসি) ইদানীং মন খারাপ প্রয়োজনে করি। যখন দেখি কোনও একটা গান হচ্ছে না, তখন একটু মন খারাপ করি। আসলে এমন একটা ফেজ গিয়েছে লাইফে, যাতে হুটহাট কোনও কথাকে পাত্তা দিই না। মা ২০১৪-তে চলে গেল। তার পর জাস্ট ম্যাজিক হল আমার জীবনে। প্রচুর বেনো জল ছিল আমার চারপাশে। তারা জাস্ট হাওয়া হয়ে গিয়েছে। আমার এক বন্ধু বলে, তোর মা তো ওপরে গিয়ে তোর জন্য পিআর করছে।