• স্বরলিপি ভট্টাচার্য
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

‘বিজয়া’য় পদ্মা-নাসিরের মিলন হবে কি?

কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত ‘বিজয়া’ মুক্তি পেতে চলেছে আগামী চার জানুয়ারি। আড্ডায় দুই প্রধান চরিত্র জয়া আহসান এবং আবির চট্টোপাধ্যায়।

Abir-Jaya
ছবির দৃশ্যে আবির-জয়া।

Advertisement

‘বিজয়া’র পদ্মা ‘বিসর্জন’-এর তুলনায় কতটা বদলেছে?

জয়া: পদ্মা কেমন আমরা জানি। প্রথম থেকেই একটু পরিণত। শেষের যবনিকা ‘বিসর্জন’-এ সেই টানে। তার মতো করেই হয় সব কিছু। খুব ম্যাচিওর একটা চরিত্র ছিল। এখন জীবনের অভিজ্ঞতা, বয়সের অভিজ্ঞতা যোগ হয়েছে। মাতৃত্ব এসেছে। বৈবাহিক অবস্থার পরিবর্তন এসেছে। পদ্মা সকলকে নিয়ে তার ভালবাসার মানুষের দেশ ভারতে আসছে। একা কিন্তু আসছে না। তার কী অবস্থা সেটা দেখা যাবে। নানা প্রশ্নও তো রেখে গিয়েছিল ‘বিসর্জন’। সেই প্রশ্নের উত্তর রয়েছে ‘বিজয়া’তে। আবার আরও প্রশ্ন রেখেও যাবে।

এই পদ্মাকে কখনও বাস্তবে দেখেছেন?

জয়া: গ্রাম বাংলার অনেক মহিলার ভিতরে পদ্মার এই ডিগনিটিটা আছে। অনেককেই আমি দেখেছি ছোটবেলায়। পদ্মার মতো না হলেও, অনেকটা এক। জীবন থেকেই তো তুলে আনা চরিত্রটা। নিশ্চয়ই এগজিস্ট করে।

আর নাসির? আপনি কতটা পরিণত?

আবির: নাসির পরিণত। তার থেকেও অনেক বেশি কনফিডেন্ট এ বার। কারণ এ বার সে নিজের দেশেই আছে। আগের বার একে অন্য দেশ। তার পর কাগজ পত্র নেই…।

আরও পড়ুন, পরকীয়া মানেই গুজগুজ নয়, সম্মানেরও হতে পারে, বললেন কৌশিক

জয়া: মোটামুটি বাক্ প্রতিবন্ধী।

আবির: হ্যাঁ, শরীরে চোট। নড়াচ়ড়া করতে পারছে না। তার মধ্যে প্রাণে বাঁচাতে পদ্মা একটা অন্য আইডেনটিটি দিয়েছে। চুপচাপ থাকত। নাসিরও বুঝতে পারত, পদ্মার মধ্যে একটা ইমোশনাল ফিলিং চলছে। তার মধ্যে ওরকম পরিস্থিতি। শ্বশুর অসুস্থ। গণেশ মণ্ডলের মতো একটা লোক যার সারাক্ষণ যাতায়াত। সেখানে নাসির গিয়ে আরও বিপদ বাড়িয়েছে। এই সব কিছুর মধ্যে নাসির খুবই সঙ্কুচিত হয়েছিল। এ বার সে সব নেই। নিজের দেশে আছে। শারীরিক অসুস্থতাও নেই। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচিওরিটি এসেছে। অভিজ্ঞতা মানুষকে অনেক কিছু শেখায়। ভালবাসার ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি। স্মৃতি হালকা হয়ে যায়। আবার কখনও স্মৃতি এত কড়া হয় যে, সেটা ভোলা যায় না। বরং বাস্তবের থেকে বেশি অতীত এফেক্ট করে। এই সব মিলিয়ে এ বারের নাসির।


এ বারের পদ্মা কতটা পরিণত?

‘বিসর্জন’-এ তো কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় ইচ্ছে করেই গণেশ মণ্ডলের মতো চরিত্র নিজের জন্য সরিয়ে রেখেছিলেন…

আবির: (প্রশ্ন থামিয়ে) কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এমনই একজন অভিনেতা, চরিত্রের দৈর্ঘ্য যাই হোক না কেন, সেটাতেই নজরে পড়তে বাধ্য। ওয়ান অব দ্য ফাইনেস্ট অ্যাক্টর উই হ্যাভ। সেটা শুধু বাংলা নয়, ভারতীয় সিনেমার ক্ষেত্রে বলছি আমি। গণেশের চরিত্রটা এত রঙিন, যদিও সে সাদা জামা পরে থাকে। অন আ সেকেন্ড থট, পদ্মাকে পাওয়ার পদ্ধতিটা হয়তো তার ভুল ছিল। কিন্তু ভালবাসায় কোনও খামতি ছিল না। আকণ্ঠ ভালবেসেছে। হ্যাঁ, সেটা প্রকাশের ভঙ্গিতে কিছু সমস্যা ছিল।

কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্যকে মিস করেছে টিম ‘বিজয়া’?

আবির: অবশ্যই। খুবই দুর্ভাগ্য যে কালিকাদা ‘বিসর্জন’ দেখে যেতে পারেননি। এ বারও কালিকাদার সুর নিয়েই কাজ হয়েছে। ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত আগের ছবিতেও কিছুটা ব্যাকগ্রাউন্ড করেছিলেন কালিকাদার সঙ্গে থেকেই। আইডি (ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত)-র সবচেয়ে ভাল যেটা, বিজয়াতেও কালিকাদার ধরনটাকে রেখেই করেছেন। সেটা বোঝাও যাচ্ছে, যে দুটো গান বেরিয়েছে সেখান থেকে। দুটো গানেই ওই ফিলটা আছে।

আরও একটা জাতীয় পুরস্কার হবে তো? অডিয়েন্স কিন্তু এক্সপেক্ট করছে।

আবির: দেখুন, ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ডের ব্যাপারটা আগে থেকে কখনও ভাবা উচিত নয়। মানুষের এক্সপেক্টেশন রয়েছে বলেই তো কাজ করা। যাতে এই ছবিটা ফোর্সড মনে না হয়। ‘বিসর্জন’-এর গল্পের স্বাদটা ভাগ না হয়ে যায়, সেটাও ভাবা হয়েছে। অ্যাওয়ার্ডের ব্যাপারটা আমার তো মনে হয় না, কেউই আমরা ভেবেছি। আর কৌশিকদা, জয়ার তো বাড়িতে আর রাখার জায়গা নেই (হাসি)।

আরও পড়ুন, আমার এক্সাইটমেন্টটা ভেতরেই থাকবে, বলছে জোজো

জয়া: (আবিরকে থামিয়ে দিয়ে) আরে যাহ! কী সব ওলট পালট বলছে (হাসি)।

আবির: কোথায় রাখবে আর?

জয়া: এ বারে কিন্তু আবির ফাটিয়ে দিচ্ছে। আমরা দু’জন স্যান্ডউইচ। আমি তো স্যান্ডউইচ এ বার।

আবির: এটা ও আগেও বলেছে। সব সময়ই বলে। দ্যাটস ভেরি সুইট অফ হার। এমনিতে খুবই খারাপ ব্যবহার করে। লাথি, ঝ্যাঁটা মারে। কিন্তু বাইরের লোকের সামনে ভালই বলে (হাসি)।

জয়া: (বড় বড় চোখে) শাসন তো করতেই হবে।

আচ্ছা বেশ। এই যে একই টিমের সঙ্গে কাজ। তার অনেক সুবিধে তো আছেই।

জয়া: অফকোর্স। আসলে চরিত্রগুলো শরীরে বসে যায়। আমরা ওই জীবনটা যাপনও করি। আর একই টিম, একই মানুষ। তাই তো?

আবির: একেবারেই। চরিত্রগুলো যেহেতু আমরাই পোর্ট্রে করেছি, নিজেদের মতো করে গড়েপিঠে নিতে পারি। কোনও সিচুয়েশনে এ ভাবে রিঅ্যাক্ট করবে। বা এ ভাবে রিঅ্যাক্ট করবে না। সেরকম একটা ফ্রেম ওয়ার্ক থাকে। তবে হ্যাঁ, এক সঙ্গে অভিনয় করার অনেক অসুবিধে আছে।


নাসির এ বার নিজের দেশে।

আমি এটাই জানতে চাইছিলাম। অসুবিধাগুলো কী?

আবির: আমি মনে করি, আমার মনে হয় জয়াও মনে করে অভিনয়টা ভীষণ ভাবে লেনদেনের ব্যাপার। আমি যেমন পাচ্ছি, তেমনই দিচ্ছি।

জয়া: একেবারেই। এই বোঝাপড়াটা আছে আমাদের।

আবির: যতই আমাকে হ্যাটা করুক, অনেকগুলো ছবি হয়ে গিয়েছে এক সঙ্গে আমাদের। তার মানে এই নয় যে পরবর্তী কালে এক সঙ্গে ছবি করব না।

জয়া: করব না বলছিস?

আবির: নয় বললাম। দেখেছিস, উল্টো বুঝিস তুই।

জয়া: হ্যাঁ, আমি সোজাই বুঝি (হাসি)।

অসুবিধাগুলো বললেন না তো…

আবির: হ্যাঁ, বলছি সেটাই। এত ভাল অভিনয় করে মাঝেমাঝে (জয়ার দিকে তাকিয়ে)। সেটা একটু..

আরও পড়ুন, বিয়ের পরের জীবনটা এনজয় করছি, বলছেন শুভশ্রী

জয়া: এই যা, আজেবাজে ওলট পালট কথাবার্তা (হাসি)।

আবির: আমি এগুলো বলছি কারণ ও এ বার বলতে শুরু করবে। ও কমপ্লেন করে কৌশিকদাকে জানেন, যে কেন আবিরকে পার্ট দেওয়া হয়েছে। খারাপ, অশ্লীল কথা বলে। বলে যে ওর জন্ম হয়েছে আমাকে তিতিবিরক্ত করে মারার জন্য। সারা শুটিংয়ে কমপ্লেন করে ও। সেগুলো যাতে না বলতে পারে, তাই আমি আমারটা বলে দিলাম ভাল ভাবে (হাসি)।

জয়া: এ বার নাসির আলি কাউকে দাঁড়াতে দেয়নি। দেখবেন। জানেন, এমনও হয়েছে। কিউ দিয়েছে। কিন্তু ওর অভিনয় দেখে ডায়লগ ভুলে গিয়েছি।

আবির: ওরে বাবা (হাসি)

জয়া: সত্যি এরকম হয়েছে।

আবির: আরে না না, আমরা মজা করছি। ওর সঙ্গে কাজ করাটা সব সময়ই আনন্দের।

জয়া: আমারও ভীষণ কমফর্ট জোন আবির।


ছবির দৃশ্যে আবির-জয়া।

জয়া আপনার এখন দায়িত্ব কিন্তু আরও বেশি। শুধু অভিনেত্রী নন, আপনি প্রযোজকও। আবিরকে কাস্ট করছেন কবে?

আবির: (চওড়া হাসি) গুড কোয়েশ্চেন।

জয়া: এত দামি একজন অ্যাক্টর (চিত্কার করে)।

আবির: তুই একবার বলে দেখ না। বন্ধুদের জন্য আমরা কত কী করি…।

জয়া: তুই সত্যি করবি, কথা দিলি। অন রেকর্ড কথা দিলি কিন্তু। আমি বলতেই ভয় পাই বাবা। আবিরের যা ভক্ত বাংলাদেশে। দিনে যে কত টেক্সট মেসেজ আর গিফট পাই আবিরের জন্য। আমিও গিফট পাই।

আবির: (হাসি)

জয়া: তুই ভুলে যাচ্ছিস? বলব?

আরও পড়ুন, একটা ফাঁকা ছেলে খুঁজে দিন, আই উইল লভ টু ডেট, বলছেন স্বস্তিকা

আবির: না না, পেয়েছি।

জয়া: যাই হোক বেশি বলছি না। বাংলাদেশ থেকে অনেক প্রেমপত্র, চিঠি, মেসেজ, আমায় ক্যারি করে করে দেখাতে হয়। বাংলাদেশে মহিলা দর্শকেরা ভাবতে পারবেন না…

আবির: এটা ঘটনা। প্রচুর মানুষ আছেন। আমরাও চেষ্টা করছি, আমাদের ছবি একই সঙ্গে যাতে দেখতে পান ওখানকার দর্শক। এটা শুধু বাংলাদেশে নয় কিন্তু, বড় অংশের বাঙালি বাইরেও আছেন। আমাদের আফশোস হয়, এত মানুষ অপেক্ষা করেন, আমরা দেখাতে পারি না।

জয়া আপনি ভারতে প্রযোজনা শুরু করবেন তো?

জয়া: এখানে সকলে সাহায্য করলে নিশ্চয়ই শুরু করব। কিন্তু কিছু জটিলতা তো আছেই। সেগুলো মেটাতে হবে।

(সেলেব্রিটি ইন্টারভিউ, সেলেব্রিটিদের লাভস্টোরি, তারকাদের বিয়ে, তারকাদের জন্মদিন থেকে স্টার কিডসদের খবর - সমস্ত সেলেব্রিটি গসিপ পড়তে চোখ রাখুন আমাদের বিনোদন বিভাগে।)

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন