• স্বরলিপি ভট্টাচার্য
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

‘যেখানে প্রোমোশনের সুযোগ থাকে, সেখানেই হয়তো কাস্টিং কাউচ আছে’

Jaya Prada
অন্য মুডে জয়াপ্রদা।

বৃষ্টির কলকাতা। হোটেলের সাত তলার ঘরে টাচ আপ করছেন জয়া প্রদা। মাঝেমধ্যে চোখ রাখছেন বৃষ্টিতেও। আগামিকাল মুক্তি পাচ্ছে অতনু বসুর পরিচালনায় তাঁর বাংলা ছবি ‘আত্মজা’। তারই প্রচারে ঝটিতি সফরে অভিনেত্রী।

বৃষ্টি ভাল লাগে আপনার?

জরুর… (হাসি মুখে)। কিন্তু প্রোমোশন চলছে। তাই এখন বৃষ্টি এনজয় করার মুড নেই। আপনার সঙ্গে গল্প করার মুডে আছি।

অফকোর্স। অনেক দিন পরে বাংলা ছবিতে ফিরছেন…।

ইয়েস। আসলে আমার কাছে সব সব সময় ফার্স্ট প্রায়োরিটিতে থাকে স্ক্রিপ্ট অ্যান্ড ডাইরেক্টর। দেন প্রজেক্ট। অতনুদা গল্পটা শুনিয়েছিল আমাকে। তখনই ভাল লাগে।

এই ছবিতেও তো আপনি অভিনেত্রী।

হুম। তানাজ, আমার ক্যারেক্টার। শি ইজ লেজেন্ড অ্যাকট্রেস।

বাস্তবেও আপনি লেজেন্ড…

(হাসি)… সত্যিই আপনারা আমাকে প্রথম থেকেই এত সাপোর্ট করেছেন। বাট আই হ্যাভ টু গো ফার। স্টিল আই হ্যাভ টু লার্ন সো মাচ।

আরও পড়ুন, তিন এক্কে তিন, কেয়ার অব সুদীপ্তা

‘তানাজ’ কেমন?

দেখুন, মায়ের চরিত্র অনেক করেছি। এখানেও আমি মা। কিন্তু এই চরিত্র কালারফুল, স্টাইলিশ, অ্যাটিটিউড আছে। কামব্যাকের জন্য এমন গল্পই দরকার ছিল। আজকালকার দিনে বাবা-মা আর সন্তানদের মধ্যে অনেক গ্যাপ। বাবা-মা নিজের প্রফেশনে ব্যস্ত থাকেন। বাচ্চাদের সময় দিতে পারেন না। বাচ্চারাও একা বোধ করে। কলেজ গোয়িং, স্কুল গোয়িংরা কিন্তু শনি-রবিবার পাবে যায়। অথচ বাবা–মাকে বলে না। আমার চরিত্র আজকের মায়েদের মতো। মা আর মেয়ের মধ্যে কত গ্যাপ এসেছে। সেখান থেকেই কী ভাবে মেয়েকে বড় করছে তানাজ, সেটা দেখানো হবে। তানাজ ইজ নাও ভেরি ক্লোজ টু মাই হার্ট। খুব স্টাইলিশ ক্যারেক্টার। দুনিয়া উনকে পিছে হ্যায়, লেকিন উও আপনি বেটে কে পিছে হ্যায়। খুব টাচি। প্রদীপদা (প্রযোজক প্রদীপ শেঠ), অতনুদাকে ধন্যবাদ।

জয়াপ্রদার সঙ্গে ‘তানাজ’-এর কতটা মিল?

অ্যাকট্রেস হিসেবে মিল আছে। বাকিটা তো ক্রিয়েটিভ।

আরও পড়ুন, তনুজাকে নিয়ে শুটিং করেছি, ভাবতেই হয়নি, বলছেন পরমব্রত

আপনি এটা বাংলায় কামব্যাক ফিল্ম বলছেন। কামব্যাক করতে এত সময় লাগল কেন? অফার ছিল না? নাকি অফার পছন্দ হয়নি?

না। অফারের বিষয় নয়। আসলে আমি রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। চার-পাঁচ বছর রাজনীতিতে অনেক বেশি ইনভলভ ছিলাম। আপনি জানেন হয়তো, উত্তরপ্রদেশের খুব কঠিন লোকসভা কেন্দ্র ছিল আমার,রামপুর। তবে অখিলেশ আর মুলায়ম সিংহজিকে ধন্যবাদ দেব, আমাকে ভাগ্যিস দল থেকে বের করে দিয়েছিলেন।

‘আত্মজা’র একটি দৃশ্যে জয়া।

সেকি! ধন্যবাদ দেবেন কেন?

আসলে ওরা ওই ব্যবহার করার পর আমি রিয়ালাইজ করি,অভিনয়টাই আমার বেস। আমি আসলে অভিনেত্রী। আমি মুলায়ম সিংহজিকে সাপোর্ট করেছিলাম বলে আমার সঙ্গে ওটা করা হয়েছিল। আসলে মা শিখিয়েছিলেন, বড়দের সম্মান করবে। তাঁদের বিপদে পাশে থাকবে। সেটাই করেছিলাম মুলায়ম সিংহজিকে সাপোর্ট করে। সেটা অখিলেশের খারাপ লাগল। ফলে এই গোটা প্রসেস থেকে আমি বুঝলাম আমি জন্মেইছি অভিনেত্রী হতে।

আপনি মুলায়ম সিংহকে সাপোর্ট করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা কি ঠিক ছিল?

আমি এখনও বলছি, মুলায়মজির কী দোষ? উনি পার্টি তৈরি করেছেন। জিরো থেকে শুরু করে এত বড় পার্টি করেছেন। তার পর তা অখিলেশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। অখিলেশ কী করল? মুলায়মজিকে ছোট করে দিল। বড়দের বিপদে পাশে দাঁড়ানোটা যদি দোষের হয়, তা হলে আমি ভুল করেছি। তবে অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে রাজনীতিতে।

আরও পড়ুন, লোকনাথ কে? ‘উনি ধ্যান করতেন’, উত্তর পর্দার লোকনাথের

আপনার এত দীর্ঘ কেরিয়ার, কী কী বদল দেখলেন ইন্ডাস্ট্রিতে?

দেখুন, আমি যখন শুরু করেছিলাম,‘সিনেমা’ বানানটাও জানতাম না। ১৩ বছর বয়স তখন আমার। স্কুলে পড়তাম। সেখান থেকেই শুরু করেছিলাম। আমি প্ল্যানড ছিলাম না। এখন প্রত্যেকে প্ল্যান করে। হিরোইন বননে কা ভি এক প্ল্যান হোতা হ্যায়। পরিচালকরাই আমার কেরিয়ারের ইনস্টিটিউশন। এখন সবই খুব দ্রুত হয়। এখন যত তাড়াতাড়ি সবাই ছবি পাচ্ছে, আবার তত তাড়াতাড়ি অদৃশ্যও হয়ে যাচ্ছে। আমরা এখনও লতাজিকে সম্মান করি। আমি গর্বিত, লতাজি-আশাজির গান আমার ছবিতে ছিল। কত হিট হয়েছিল সে জন্য।

আর এখন?

এখন তো লোকে গানের কথা ভুলে যায়। কনটেম্পোরারি গানও হয় এখন। তবে মেকআপ বলুন, অ্যাক্টিং বলুন, টেকনোলজি সবেতেই বদল এসেছে।

আরও পড়ুন, ‘আমাকে শুনতে হয়েছিল, কীর্তন? কী হবে এটা করে?’

এখনকার দিনে কার অভিনয় আপনার ভাল লাগে?

রণবীরকেও ভাল লাগে। আবার রণবীরকেও ভাল লাগে (উচ্চারণে কপূর এবং সিংহের ফারাকটা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিলেন)। দু’জনেই ট্যালেন্টেড। আমি রণবীরকে ছোট থেকেই চিনি।আসলে ঋষি কপূরের সঙ্গে কাজ করেছি। ওঁর বাড়িতে যাতায়াত ছিল। ফলে রণবীরকে ছোট থেকে দেখেছি। আবার রণবীর (সিংহ)ও ভাল।আর অবশ্যই সলমন। ওর অ্যাটিটিউড ভাল লাগে আমার। ও খুব ভাল মানুষ। ব্যক্তিজীবনে গরিবদের সাপোর্ট করা, বন্ধুদের সাপোর্ট করা,ওর এই হেল্পিং নেচারটাই আমার ভাল লাগে।

অভিনয় তো বটেই, নাচও আপনার খুব কাছের। কিন্তু কোনটা বেশি প্রিয়?

আসলে এটা হাত আর গ্লাভসের মতো। আলাদা করতে চাইলে আইডেন্টিটি ঠিক থাকবে না। আমার অভিনয়ে ডান্স অ্যাড অন হয়েছে, এটা বলতে পারি। মিউজিক বেসড ফিল্ম আমাকে হেল্প করেছে।


‘কাস্টিং কাউচ আগেকার দিনেও হত হয়তো, তবে এখন বেশি শোনা যায়।’

হলিউড হোক বা বলিউড, ‘কাস্টিং কাউচ’-এর কথা এখন প্রায়ই শোনা যায়। এ ব্যাপারে আপনার কী মত?

দেখুন, কাস্টিং কাউচ আগেকার দিনেও হত হয়তো। তবে এখন বেশি শোনা যায়। আমাদের সময়ে এসব কখনও হয়নি। আসলে আমাদের শুরু হয়েছিল স্কুল থেকে। প্রথম থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত সব ফিল্ম হিট। ফলে আমাদের সেই সুযোগ ছিল না, যে চরিত্র পাওয়ার জন্য ওর কাছে যাও, বা তার কাছে যেতে হবে।

এখন বেশি শোনা যাচ্ছে মানে কি এখন এই ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে?

দেখুন, ফিল্মের জন্য তো একটা পাগলামো আছে। অনেক লোক কেরিয়ার তৈরি করার জন্য মুম্বই আসে। সিনেমার একটা আলাদা ক্রেজ আছে। ফলে এই শব্দটা হয়তো এখন বেশি শোনা যাচ্ছে। আমরা যখন শুরু করেছিলাম, লোকে ভাবত, মেয়েকে কি ফিল্মে দেব? আজকাল বাবা-মা সাপোর্ট করছে বাচ্চাদের। তাদের অভিনয় শেখাচ্ছে। ফলে ভাবনার ধরন বদলে গিয়েছে।

আরও পড়ুন, নচিকেতার গানটা কি আপনাকে নিয়ে লেখা? রাজশ্রী বললেন...

আচ্ছা, রাজনীতিতেও কি ‘কাস্টিং কাউচ’ রয়েছে?

মানে?

আপনার তো রাজনীতিতেও অভিজ্ঞতা রয়েছে,আপনি ফিল্ম এবং পলিটিক্স— দুটো জগৎই খুব ভাল করে চেনেন। সে কারণেই জানতে চাইছি, ফিল্ম ছাড়াও অন্য সেক্টরে এই সমস্যা রয়েছে?

যেখানে যেখানে প্রোমোশনের সুযোগ থাকে, সেখানেই হয়তো এ সব আছে।

যাঁরা আপনার অনুরাগী, আপনাকে দেখে সিনেমা করবেন ভাবছেন, তাঁদের জন্য কিছু বলবেন?

একটাই জিনিস। ডিসিপ্লিন। প্রযোজককে হেল্প করার মানসিকতা থাকা দরকার। এখনও শুটিংয়ে দেরিতে আসার কালচার রয়েছে। একটা কথা মনে রাখতে বলব নতুনদের, প্রযোজক আমাদের ভগবান। আর ফিট থাকো। বিগ স্ক্রিনে থাকতে গেলে গ্ল্যামারাস হতে হবে…।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন