Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৯ অগস্ট ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

অর্ডিনারি কিছু করতে চাইব না: স্বস্তিকা

তিনি ফিরছেন। সৌজন্যে অঞ্জন দত্তর পরিচালনায় ‘আমি আসবো ফিরে’। তিনি স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। আগামী ১৩ এপ্রিল মুক্তি পাবে এই ছবি। তবে আড্ডায় এই ছব

স্বরলিপি ভট্টাচার্য
০৫ এপ্রিল ২০১৮ ১৩:১৩
Save
Something isn't right! Please refresh.
স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়।— নিজস্ব চিত্র।

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়।— নিজস্ব চিত্র।

Popup Close

• ‘আমি আসবো ফিরে’র গল্পটা কেমন?
সবাই কোনও না কোনও ভাবে তাদের জীবনে ফিরে আসার গল্প… এক সেকেন্ড প্লিজ

(ফোন ধরলেন। কথা বলতে বলতে মুচকি হাসলেন। তার পর বললেন…) আমার ব্রাদার ইন ল ফোন করে বলছে, একটা স্টোরে বিয়ার পাওয়া যাচ্ছে। এখনই তুলে নিতে বললাম (হাসি)।

• বিয়ার নিয়ে এই যে হাহাকার, সমস্যা হচ্ছে?
না না। পাড়ার দোকানের সঙ্গে সেটিং আছে। সেলিব্রিটি হওয়ার ওনলি অ্যাডভানটেজ দ্যাট মেকস মি হ্যাপি (অট্টহাসি)।

Advertisement

• গল্পে ফিরি?
অবশ্যই। এই ছবিটা ফিরে আসা নিয়ে। লিটারেলি বলতে গেলে অঞ্জনদার ফিরে আসাও বটে। কম্পোজার অ্যান্ড সিঙ্গার অঞ্জনদার ফিরে আসা। কিন্তু, সেটা ছবির বাইরে। ছবির মধ্যে চরিত্রগুলোর জীবন যুদ্ধে ফিরে আসার গল্প। যুদ্ধ জয় করে ফিরে আসার গল্প। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর গল্প। সত্যিটাকে সাপোর্ট করার গল্প। প্রত্যেকটা চরিত্রেরই যেখান থেকে শুরু সেখানেই আবার ফিরে আসার একটা জার্নি আছে। আমরা অনেক ছবি দেখেছি, যাঁরা গান করেন তাঁদের নিয়ে ছবি বানানো হয়, তাঁদের নিয়ে ছবির গল্প এগোয়। এই ছবিটা যাঁরা গান শোনেন তাঁদের নিয়ে।

আরও পড়ুন, ‘টলিউডের কোন ক্যাম্পে কী ক্যাম্পেনিং করতে হয় সেটাই বুঝি না’

• আপনিই বললেন, লিটারেলি অঞ্জন দত্তর ফিরে আসা। তা হলে অভিনয় করতে রাজি হলেন কেন?
স্ক্রিপ্টটা অসম্ভব ভাল লেগেছিল। চরিত্রটা আমি না করে অন্য কেউ করলে ভীষণ দুঃখ পেতাম। আসলে পারফরম্যান্স ওরিয়েন্টেড ক্যারেক্টার করতে ভাল লাগে। যেটা আগে করিনি, সেটা করতে ভাল লাগে। নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে, সেটা বিশ্বাসযোগ্য ভাবে অডিয়েন্সের সামনে তুলে ধরতে এবং সাকসেসফুল হতে ভাল লাগে, আমি শিওর এই ছবিতে এই সবগুলোই হয়ে যাবে।

• লুক সেট করতে সমস্যা হয়েছিল?
দেখুন, এখানে ২২ বছরের মেয়ের মায়ের রোল করেছি। আমার মেয়ের তো এখনও অত বয়স হয়নি। ফলে সেটাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলে ধরাটা চ্যালেঞ্জ ছিল। এক মহিলা, যে সারা দিন মদ খায়, সিগারেট খায়— এগুলো ক্যারেক্টার বিল্ডআপে এফেক্ট করে। অঞ্জনদা প্রথমে কিছুতেই স্যাটিসফাই হচ্ছিলেন না। কিছুতেই নাকি আমার বয়স বাড়ানো যাচ্ছে না!



• কোনও রেফারেন্স ছিল?
জীবনটাই তো রেফারেন্স। আমার চরিত্র (গার্গী) এখানে আইনজীবী। আর আমার তো জীবনে অনেকটা সময় আইনজীবীদের সঙ্গে কেটেছে। সেখান থেকে রসদ পেয়েছি। এ জন্যই আমার জীবনটা এত ভাল লাগে। এত রকম চরিত্রের সঙ্গে মিশেছি যে, তুলে এনে শুধু পেস্ট করে দিই।

• অঞ্জন দত্তের সঙ্গে অনেক দিন পর কাজ করলেন। কতটা চেঞ্জ মনে হল?
অঞ্জনদার সঙ্গে এটা বোধহয় আমার চার নম্বর ছবি। কিন্তু প্রথম ব্যোমকেশ নেই, এমন একটা ছবি। প্রথম ব্যোমকেশ করার পরই বলেছিলাম, ব্যোমকেশ নেই এমন একটা ছবি করতে হবে। প্রথম ব্যোমকেশ করেছিলাম ২০০৮ বা ’০৯-এ। তার পর ব্যোমকেশহীন একটা ছবি করতে ১০ বছর অপেক্ষা করতে হল। এখন অঞ্জনদা মোর কম্পোসজড। শান্ত। বয়সের জন্য হতে পারে। তা ছাড়া সাহিত্যভিত্তিক ছবি করার একটা চাপ থাকে। পিরিয়ড পিস করার চাপ। লেখকের মাপের বাইরে যাওয়া যাবে না। সময়ের মাপের বাইরে যাওয়া যাবে না। ব্যোমকেশে এ সব মাথায় রাখতে হয়। ওগুলো যদি কনসিডার করি, অঞ্জনদা ইজ ফ্রি নাও। মিউজিক ইজ প্রায়োরিটি ইন হিজ লাইফ। আই অ্যাম আ বিগার ফ্যান অব মিউজিশিয়ান অঞ্জনদা, সিঙ্গার অঞ্জনদা। হি ইজ মেকিং আ মিউজিক্যাল। হি ইজ মোর হ্যাপি।

আরও পড়ুন, ‘পরিচালকের সঙ্গে নয়, সংসারটা একদম অন্য মানুষের সঙ্গে’

• কিন্তু আপনার অডিয়েন্স কিন্তু আনহ্যাপি।
কেন?

• উমা বৌদির এত ক্রেজ তৈরি করলেন। তার পর সেকেন্ড সিজনে ‘দুপুর ঠাকুরপো’ আর করছেন না।
আরে উমা বৌদির ক্রেজ তো থাকবেই। বাট আই অ্যাম নট কমফর্টেবল টু ওয়ার্কিং উইথ টিভিওয়ালা মিডিয়া। ওদের কাজের ধরনের সঙ্গে কাজ করাটা অসুবিধের হচ্ছিল। অভিনেতার বেসিক যেটা দরকার, পরিচালকের নাম আর স্ক্রিপ্ট। সেকেন্ড সিজনের জন্য সেটাই ওরা চার মাস ধরে দিতে পারেনি। তাও বলেছি করব, ডেট দিয়েছি। তার পরও পাইনি।

আরও পড়ুন, প্রথমে ভেবেছিলাম ‘কবীর’ করব না: দেব

• আপনি অডিয়েন্স থেকে এই না করাটা নিয়ে ফিডব্যাক পাননি?
দেখুন, যখন একটা এন্টায়ার শো আমার ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তার ভালটাও যেমন আমার, খারাপটাও আমার। লোকে যখন ভাল বলেছে, সেটা আমি নিয়েছি। আবার গালাগাল দিয়েছে সেটাও আমি শুনেছি। লাস্টের দু-তিনটে এপিসোড আর ভাল লাগল না। সেটা আমাকেই বলেছে। প্রোডিউসারদের থোড়ি না বলতে গিয়েছে, অন্য অভিনেতাদের থোড়ি না বলেছে। যখন আমার ঘাড়ে রয়েছে, যখন দায়িত্বটা আমার তখন বেসিক জিনিসটা তো জানতে হবেই। আমি তো আর বলিনি যে, ফাইভ স্টার থেকে রোজ ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ এনে দাও। ফলে অডিয়েন্সকে বলব, উমা বৌদির জন্য ফার্স্ট সিজনটাই বার বার দেখতে হবে। ওটা তো থেকেই গেল।


‘আমি আসবো ফিরে’র দৃশ্যে স্বস্তিকা।



• বিরসা দাশগুপ্তের ‘ক্রিসক্রস’-এও তো প্রথমে রাজি হয়েছিলেন। পরে আর করলেন না।
একেবারে ভুল কথা। আমি তো স্ক্রিপ্ট পড়িনি। বিরসা তো তার আগেই নামটাম সব ছাপিয়ে দিল। আমাকে ফোনে বলেছিল, আমি একটা ছবি করছি। তাতে পাঁচ জন মেয়ে আছে। তোর চরিত্রটা শুনলে না করতে পারবি না। তার পর গিয়ে দেখলাম পোস্টারে আমার নাম দিয়ে দিয়েছে। তখন বিরসাকে বলেছিলাম, দাঁড়া স্ক্রিপ্ট আগে পড়ি। তার পর হয়তো করলামই না, তখন কিন্তু পুরো কেস খাবি।

• সেটাই তো হল?
হ্যাঁ। তাই তো। স্ক্রিপ্টটা পড়ে আমার রোলটা ভাল লাগেনি। দেখুন ‘আমি আসব ফিরে’তে যে চরিত্রটা করেছি, তার পরে যা ছবি করব, সেই চরিত্রগুলোয় পারফরম্যান্সের সেই লেভেল থাকতে হবে বা তার থেকে বেটার কিছু হতে হবে। তার থেকে কম হলে আমি কেন করব? আমি তো অর্ডিনারি কিছু করতে চাইব না।

আরও পড়ুন, ‘হয়তো রাজনীতির শিকার হয়েছি কোথাও...’

• নাকি, ওখানে আরও অনেক নায়িকা রয়েছেন বলে রাজি হলেন না?
দেখুন, ২২ বছরের মেয়ের মায়ের পার্ট করতে যদি অসুবিধে না হয়, তা হলে ওখানে পাঁচ জন থাকলে আমার কী হবে? যে ছবিতেই অভিনয় করি না কেন, সেখানে বাকিরাও তো থাকে। মেনস্ট্রিম হিরোইন হয়তো থাকে না। কিন্তু বাকি অ্যাক্টরসরা তো থাকে।

• শোনা যায়, ভেঙ্কটেশের সঙ্গে আপনি ঝগড়া মিটিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু ওদের প্রযোজনায় ‘ক্রিসক্রস’ করলেন না। ‘দুপুর ঠাকুরপো’ করবেন না। এতে সম্পর্ক নষ্ট হয় না?
আরে ওরাও তো প্রফেশনাল অ্যাট দি এন্ড অব দ্য ডে। ফলে এক জন অভিনেতার রোল পছন্দ হয়নি, তাই ছবি করেনি। সেটা কেনই বা একটা ইস্যু হতে যাবে? তা ছাড়া ঝামেলা হলে হবে। ঝামেলা হবে ভেবে, যা পছন্দ নয় সেটা করব না। কোনও দিনই করলাম না। এখন কেন করতে যাব? সেটা তো কেরিয়ারের শুরু থেকেই করতে পারতাম। ওই ইনসিকিওরিটিটাতেই তো মানুষ মরে। এটা বাবা বলব না, ও আমাকে কাজে ডাকবে না। ওই টাকাটা চাইব না, না হলে পরের ছবিতে নেবে না। যার যখন আমাকে প্রয়োজন পড়বে নেবে। ১৭ বছর পর এটা তো করবই না।

আরও পড়ুন, পুরনো প্রেম থেকে কী শিখলেন ইমন?

• মুম্বইতে নতুন কাজ কিছু করলেন?
এই তো একমাস ভোপালে ছিলাম। কে কে মেননের সঙ্গে একটা ছবি করলাম। ইটস লাইক আ ড্রিম কাম ট্রু ফর মি।

• বাহ! কী ছবি?
ছবিটার নাম ‘লাভ অল’। ব্যাডমিন্টনের লাভ অল। সুধাংশু শর্মা ডিরেক্টর। ওটা আমার কাছে ফ্যান মোমেন্ট হয়ে গিয়েছিল। আমি তো শুটিংয়ের দু’দিন আগে চলে গিয়েছিলাম। যাতে ফ্যান মোমেন্টের ব্যবস্থা করে নিতে পারি। না হলে তো ডায়লগই ভুলে যাব। মাথা জ্যাম হয়ে থাকবে। হা হা হা…।

• এ ছাড়া আর কোনও কাজ চলছে?
কথাবার্তা চলছে। বলিউডে বড় ব্যানারের ছবি। আমি এখান থেকে অনেকগুলো অডিশন করে পাঠালাম। ওরা অনেক সময় নিয়ে কাজ করে। একটা ছবির পিছনে অনেক সময় দেয়। এক জন ডিরেক্টর হয়তো দু’বছরে তিন বছরে একটা ছবি করে। আমাদের এখানে তো অর্ধেক পরিচালকই একটা ছবি অর্ধেক বন্ধ হয়ে পড়ে থাকার পরও আর একটা ছবি করতে শুরু করে দেয়।



• কলকাতা থেকে অডিশন করে পাঠাচ্ছেন?
ইয়েস। আমার মুম্বইতে অডিশন দেওয়ার খুব উইয়ার্ড এক্সপিরিয়েন্স আছে।

• তাই? কী রকম?
ঘটনাটা ছিল, মুম্বইতে আমি গিয়েছি অডিশন দিতে। আমার যারা ফ্যান তারাও গিয়েছে। ওরা ভাবতেও পারেনি, আমি অডিশন দিচ্ছি। ওরা বিশ্বাসই করেনি, আমি অডিশন দিচ্ছি। ওরা বলছিল, আমরা অডিশন দিচ্ছি, আপনি কেন দিচ্ছেন? অডিশন যারা নিচ্ছে, তাদেরই ওরা ঘুরিয়ে বলছে, আরে বুঝতে পারছ না, হু ইউ শি?

• এমন ঘটনা ঘটেছিল?
হুম। ওটা খুব চাপের হয়ে গিয়েছিল। বাবা তখন কলকাতায়। আমার মনে আছে, বাড়ি অবধি হেঁটে ফিরেছিলাম। হাউহাউ করে কাঁদছিলাম। বাবা বুঝতেই পারছিল না, কী হয়েছে। তখন থেকে ঠিক করেছি, আমার যা অডিশন করার, এখান থেকে করে পাঠিয়ে দেব।

লোকেশন সৌজন্য: দ্য পার্ক

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Tags:
Something isn't right! Please refresh.

Advertisement