গত এক মাসে ধারাবাহিক ভাবে টিআরপি কমেছে ছোটপর্দার সব কাহিনির। নম্বর কমার ফলে কিছু কিছু ধারাবাহিক সময়ের আগে শেষও করে দেওয়া হয়েছে বলে শোনা গিয়েছে। এরই মধ্যে লক্ষণীয়, গত এক মাস ধরে কখনও ‘প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি’র কাহিনিতে দেখা যাচ্ছে ‘গঙ্গা’-কে। আবার তটিনী-পরশুরামের কাহিনিতে এসে যাচ্ছে বিদ্যার গল্প।
টিআরপি বাড়ানোর কি এটাই সহজ মাধ্যম? ‘শুধু তোমারই জন্য’ ধারাবাহিকের পরিচালক অনুপম হরি বললেন, “এটা মূলত ঠিক করেন যাঁরা মার্কেটিং-এর দায়িত্বে রয়েছেন তাঁরা। তবে পরিচালক হিসাবে আমার মনে হয়েছে, দিনে দিনে যদি টিআরপি আরও কমে যায় তাতেও অবাক হব না। কারণ, এখন তো সবাই ধারাবাহিক দেখে মোবাইলে।”
যদিও কিছু ধারাবাহিকের কাহিনি যদি মিশিয়ে দেওয়া হয় তা হলে দর্শকের বুঝতে অসুবিধা থেকে যায়, মত ছোটপর্দার গঙ্গার। অভিনেত্রী হিয়া মুখোপাধ্যায় বললেন, “অনেকে তো সময়টাই বুঝতে পারছেন না। এটা আমার মনে হয়েছে। কারণ, ধারাবাহিক সম্প্রচারের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকলে, তা হলে দর্শকের বুঝতে সুবিধা হয়। আমি ভুলও হতে পারি। কিন্তু নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না।”
গত এক মাসে নম্বর কমেছে ‘প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি’-সহ সব ধারাবাহিকের। অভিনেত্রী স্বস্তিকা দত্ত টিআরপি-তে গুরুত্ব দিতে রাজি নন। তিনি বললেন, “টিআরপি এলে আমি সে ভাবে দেখিই না। আমার কাছে এই নম্বর ততটাও গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই টিআরপি বাড়ানোর যদি এই নতুন কৌশল হয়েও থাকে, তা আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়।”
আরও পড়ুন:
তবে অভিনেতা ইন্দ্রজিৎ বসু এই বিষয়ে খুবই আশাবাদী। আগামী ছ’মাস দেখা উচিত এই কৌশলে টিআরপির নম্বর বাড়ে না কমে। প্রযোজক অর্ক গঙ্গোপাধ্যায়ের মত যদিও ভিন্ন। তিনি বললেন, “এখন টিআরপির ভাবনাই বদলে গিয়েছে। পদ্ধতি অনেকটাই বদলে গিয়েছে। স্মার্ট টিভি, ফোনেও এখন সবাই ধারাবাহিক দেখছেন। তাই মাপকাঠি বদলে গিয়েছে। বার্ক আসার পরে অনেক কিছু বদলে গিয়েছে।”
তাই গল্প বদলে টিআরপি নম্বরে ওঠাপড়ার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব, অনেকেই তাতে সহমত নন। সময় এবং ধারাবাহিকের কাহিনিকে মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা কিছু কিছু ক্ষেত্রে যে লাভের মুখ দেখাতে পারে, তা মনে করছেন একাংশ। তবে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং স্মার্ট টিভি আসার পরে সেই অঙ্ক অনেকটাই ভাগাভাগি হয়ে গিয়েছে। তাই নিশ্চিত করে বলা কঠিন যে, এই কৌশল আদৌ আগামী দিনে প্রতিযোগিতায় পরিবর্তন আনবে কি আনবে না।