মঞ্চে সলমন খান থাকলে খানিক রসিকতা হবে না, এমন হয় না। আবার এক বার তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে রসিকতা করে নজর কাড়লেন অনুষ্ঠানের সকলের। শনিবার মুম্বইয়ে আয়োজন করা হয়েছিল ‘ডেভিড ধবন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-এক। সেখানে ডেভিডের দীর্ঘ কর্মজীবনকে সম্মান জানানো হয়। উপস্থিত ছিলেন ছেলে বরুণ ধবনও। যদিও অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন সলমন। সেখানেই মজার ছলে বরুণকে একপ্রকার বিঁধলেন তিনি।
কালো টি-শার্ট, লেদার জ্যাকেট ও ডেনিম পরে সলমন যেন তাঁর ৯০-এর দশকের স্টাইলকেই ফিরিয়ে আনেন। সমাজমাধ্যমে তাঁর একাধিক ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানেই দেখা যায়, ডেভিড ও বরুণের সঙ্গে হাসি-মজায় মেতে উঠেছেন সলমন। একসঙ্গে ছবি তোলার পর্বও চলে। মজার পরিবেশেই সলমন হঠাৎ বরুণকে নিয়ে ঠাট্টা করে বলেন, “ও আবার আমার আর একটা গান নিয়ে নিয়েছে!” সলমনের কথা শুনেই সকলে হেসে ওঠেন। খানিক লজ্জায় পড়ে যান বরুণ। বলেন, “থাক না, ভাই”!
আসলে ১৯৯৯ সালের ছবি ‘বিবি নং ১’-এর জনপ্রিয় ‘চুনরি চুনরি’ গানের একটি নতুন সংস্করণ ব্যবহার করা হয়েছে ডেভিড পরিচালিত ও বরুণ অভিনীত আসন্ন ছবি ‘হ্যায় জওয়ানী তো ইশক হোনা হ্যায়’-তে। এ নিয়ে বিতর্ক চলছে বেশ কিছু দিন ধরেই। ওই ছবির গান ব্যবহার করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ‘বিবি নং ১’-এর প্রযোজক বাসু ভগনানী। ১৯৯৯ সালের সেই গানে দেখা গিয়েছিল সলমন ও সুস্মিতা সেনকে। গত বছর, ‘হ্যায় জওয়ানী তো ইশক হোনা হ্যায়’ ছবির সেট থেকে একটি ভিডিয়ো ফাঁস হয়ে যায়। সেখানেই দেখা যায় যে, ‘চুনরি চুনরি’ গানের একটি নতুন সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে। সেই গানে বরুণ, মৃণাল ঠাকুর ও পূজা হেগড়েকে নাচ করতেও দেখা যায়। সেই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার পরেই পুরনো ছবির প্রযোজনা সংস্থা ‘পূজা এন্টারটেনমেন্ট’ ও নতুন ছবির গানের দায়িত্বে থাকা ‘টিপ্স মিউজ়িক’-এর মধ্যে স্বত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ফলে, সেই রেশ টেনেই যে সলমন রসিকতা করেছেন, তা বুঝতে বাকি নেই অনুরাগীদের। তবে গোটা বিষয়টাই মজার ছলে গ্রহণ করেছেন সকলে।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, এর আগেও সলমনের বেশ কিছু জনপ্রিয় গানের নতুন সংস্করণে দেখা গিয়েছে বরুণকে। ‘চলতি হ্যায় কেয়া ৯ সে ১২’ ও ‘উঁচি হ্যায় বিল্ডিং’— এই দু’টি গানই সলমনের, যেগুলির ‘রিমেক’-এ দেখা গিয়েছে বরুণকে। সেই তালিকায় নয়া সংযোজন ‘চুনরি চুনরি’। উল্লেখ্য, ‘হ্যায় জওয়ানী তো ইশক হোনা হ্যায়’-এর প্রচার-ঝলক মুক্তির অনুষ্ঠানে প্রযোজক রমেশ তৌরানি জানান, গান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও সেই বিষয়ে কাজ চলছে এবং এর ফলে ছবির প্রচার বা মুক্তিতে কোনও প্রভাব পড়বে না। অথচ, প্রযোজক বাসুর দাবি, এই বিষয়ে কোনও আইনি সমাধান এখনও হয়নি। নতুন ছবিটি আগামী ৫ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা।