• কুন্তক চট্টোপাধ্যায়
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

পুজো-তারাদের থিমে হাজির শিল্পীও

Dugga
থিমপুজোর গোড়ার দিকে সেলিম-জাভেদ জুটির মতোই ছিলেন অমর-ভবতোষ।

ঠিক যেন বিশ্বকাপের আগে ‘কন্ডিশনিং ক্যাম্প’!

ময়দানের যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে সব দলই নিজেদের তাতাচ্ছে। কিন্তু দুনিয়ার চোখ হাতেগোনা কয়েকটা লোকের দিকে। তাঁরাই বিশ্বকাপের তারকা।

পুজো ময়দানের ছবিটাও এক। সব ক্লাবের শিল্পীরাই নিজেদের শিল্প তুলে ধরতে মরিয়া। কিন্তু লোকের বেশি উৎসাহ ‘অ’, ‘ভ’, ‘স’, ‘প’-এর মতো হাতেগোনা কয়েক জনকে নিয়েই। কোথায় কাজ করছেন তাঁরা, কী করছেন—এ সব জানতে পথেঘাটে হোর্ডিংয়ে জুলজুল করে তাকাচ্ছেন পথচারী, এমন দৃশ্যও বোধহয় অমিল নয়।

থিমপুজোর গোড়ার দিকে সেলিম-জাভেদ জুটির মতোই ছিলেন অমর-ভবতোষ। পরে অবশ্য বলিউডি জুটির মতোই আলাদা হয়ে গিয়েছেন তাঁরা। এবং পুজোর ময়দান মাতাতে সমানে-সমানে টক্করও দিয়েছেন। এ বছর ভবতোষের শিল্প দেখা যাবে চেতলা অগ্রণী এবং ঠাকুরপুকুর এসবি পার্ক সর্বজনীনে। পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের পুজো বলে খ্যাত চেতলা অগ্রণীতে ভারতীয় যোগ, মূলাধারকে তুলে ধরছেন ভবতোষ। দেবীও থাকছেন যোগ-ভঙ্গিমায়। গত কয়েক বছরে পুজো ময়দানে নজর কাড়া এসবি পার্ক সর্বজনীনে শ্রম ও শ্রমিকের থিমে ভবতোষ রেখেছেন বাঁক ও ঝুড়ি। সেখানে লোহার রডে মানুষের সুষুম্নাকাণ্ডের আদলে বিরাট বাঁক দেখতে পাবেন দর্শকেরা।

আরও পড়ুন: সমানে টক্কর দেবে উত্তর কলকাতা

অমর সরকারের হাতে অবশ্য এ বার তিনটি পুজো। বাবুবাগানে থিম বাংলার ব্রতচারী। মিলবে রায়বেঁশে নৃত্য কিংবা ব্রতচারীর গানও। শিল্পীর কথায়, ‘‘ব্রতচারী এখন গ্রামেগঞ্জে টিকে আছে। আর আছে বাংলাদেশে। প্রায় বিস্মৃত হয়ে যাওয়া ওই শিল্পকেই ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।’’ হরিদেবপুর নিউ স্পোর্টিং ক্লাবে থিম হিসেবে অমর বেছে নিয়েছেন ফ্রেমকে। মণ্ডপ সাজছে নানা আকারের ফ্রেমে। এ ছাড়াও এই শিল্পীর হাতে রয়েছে কলকাতা লাগোয়া এলাকার আর একটি পুজোও।

পুজো ময়দানে রাজ্যের আর এক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পুজো সুরুচি সঙ্ঘের নাম সুবিদিত। তার শিল্পী তাঁদের ঘরের ছেলে সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পুজোর থিমের মূল বিষয় তৈরি করে দিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুরুচি এখনও থিম প্রকাশ না করলেও মুখ্যমন্ত্রীর কবিতায় বিশ্ব ভ্রাতৃত্বেরই ইঙ্গিত। সুব্রত বলছেন, কাঠ খোদাই ও চিত্রকলার কাজ দেখা যাবে এখানে। সন্তোষপুর ত্রিকোণ পার্কে সুব্রতর থিম রাজহাঁস। জল ও দুধের মিশেল থেকে দুধ খেয়ে ফেলা রাজহাঁস সেজে উঠছে বাঁশ ও ধাতুর কাজে। এ ছাড়াও শহরের আরও একটি পুজোও রয়েছে সুব্রতর দায়িত্বে।

চলতি দশকের গোড়াতেও তাঁকে উঠতি শিল্পী বলে গণ্য করতেন পুজো ময়দানের ক্লাবকর্তারা। গত বছর দুয়েক তুমুল সাড়া ফেলার পরে এ বার সেই অনির্বাণ দাস উঠে এসেছেন ‘নামী’ শিল্পীদের তালিকায়। পুজো ময়দানে অনির্বাণের খ্যাতি চেনা উপকরণে নতুন নতুন থিম গড়ায়। তাঁর হাতে কখনও ফুটে ওঠে মধুবনী শিল্প, কখনও বা রথের জাদুতে তাক লাগে শহরের।

এ বারও শহরের পাঁচটি পুজোয় নিত্যদিনের চেনা জিনিসপত্রকেই নতুন ভাবে চেনাবেন তিনি। হিন্দুস্থান পার্ক সর্বজনীনে থিম ‘পিছুটান’ সাজাতে ঠাকুরমার জাঁতি, সুপুরি, পক্ষীরাজ ঘো়ড়াকে বেছে নিয়েছেন অনির্বাণ। তিনি জানাচ্ছেন, কয়েক লক্ষ সুপুরি রয়েছে মণ্ডপে। ছোট-বড় মিলিয়ে জাঁতি রয়েছে কয়েকশো। বাদামতলায় অনির্বাণের মণ্ডপে হাজির কোটি কোটি ঢিল। দমদম পার্ক তরুণ দলে আবার উনুনের আদলে মণ্ডপ গড়ছেন শিল্পী। ভিতরে নাটমণ্ডপ বিরাট একটি বঁটির আদলে। এর পাশাপাশি শহরের আরও দু’টি পুজোর দায়িত্বও হাতে নিয়েছেন অনির্বাণ।

আরও পড়ুন: তাল ঠুকছে দক্ষিণ কলকাতাও

সুশান্ত পাল এমনিতেই কলকাতার পুজো ময়দানের পুরনো খেলুড়ে। তার উপরে গত বছর রাজবাড়ির পুজো গড়ে তাক লাগিয়েছিলেন। এ বার তাঁর হাতে নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘ-সহ তিনটি নামী পুজোর ভার। তিনটি পুজোকেই শিল্পী বেঁধেছেন বেদান্ত দর্শনের থিমে। নাকতলায় তিনি তুলে ধরছেন মানুষের ভিতরের সারসত্যকে। যোধপুর পার্ক ৯৫ পল্লিতে তাঁর থিম ইচ্ছাপূরণ। খিদিরপুর পল্লি শারদীয়ায় সুশান্ত বেছে নিয়েছেন ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’-কে। শিল্পীর কথায়, ‘‘মানুষের অন্দরেই যে দেবতার বাস, মানুষ নিজেই যে তার শক্তি— সেটাই তিনটি থিমের সারকথা।’’

বহু বছর আগে পোস্তায় নিজের পাড়ায় গোবরের মণ্ডপ গড়ে তাক লাগিয়েছিলেন শিল্পী প্রশান্ত পাল। তাঁর ডোকরার কাজ দেখতে পোস্তার ওই মণ্ডপে ভিড় উপচে পড়েছিল। এ ভাবেই শিল্পীদের প্রথম একাদশে জায়গা করে নেওয়া প্রশান্তের হাতে এ বার তিনটি পুজো। পটচিত্রের জন্য বিখ্যাত ওড়িশার রঘুরাজপুরকে এ বার লালবাগানে তুলে আনছেন তিনি। থিম হিসেবে বেছে নিয়েছেন ‘রং’-কে। হরিদেবপুর বিবেকানন্দ স্পোর্টিংয়ের মণ্ডপে অবশ্য শিল্পীর থিম ‘শিল্পী’ই। এক জন মৃৎশিল্পী যে ভাবে ধাপে ধাপে মূর্তি গড়েন, তা-ই দেখা যাবে মণ্ডপে। আর বেহালা নতুন সঙ্ঘে কাপড়ের বুননে ‘উৎসব’।

কেউ উনিশ, তো কেউ বিশ। তাল ঠুকছেন নামীরা। শুধু ঢাকে কাঠি পড়ার অপেক্ষা। 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন