• অনল আবেদিন, বহরমপুর
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

দুয়ারে দুগ্গা

একই মাঠে ইদ-মিলনী, দেবীদুর্গার আরাধনাও

Murshidabad 1
কেল্লা নিজামত। ছবি: সংগৃহীত।

ঐতিহাসিক শহর বলে কথা! সেই মুর্শিদাবাদ শহরেই কিনা মাত্র খান তিনেক পুজো। শহরের প্রাণকেন্দ্র কেল্লা নিজামত এলাকায় দেবীদুর্গার একটিও থান নেই।

কেল্লা নিজামতে প্রবেশের প্রধান ফটক দক্ষিণ দরওয়াজা এলাকার তরুণরা সক্রিয় হয়ে উঠলেন। উদ্যোগী যুকের অভাব নেই, কিন্তু পুজোমণ্ডপ করার জমি কোথায়? তরুণদের স্বপ্নভঙ্গ হতে দিলেন না নবাব বাহাদুর সৈয়দ ওয়াসেফ আলি মির্জা। পুজো করার জন্য দক্ষিণ দরওয়াজার সামনের চত্বরে বিশাল জমি দান করলেন তিনি। গঠিত হল ‘মুর্শিদাবাদ পুজো সমিতি দক্ষিণ দরওয়াজা’। সে ৫৮ বছর আগের কথা।

নবাব বাহাদুরের দান করা সেই পুজোর থানে উভয় সম্প্রদায়ের মিলিত উদ্যোগে দুর্গাপুজো ছাড়াও নিয়ম করে অনুষ্ঠিত হয় ইদ-মিলনী, পুজোমিলনী, মহরমের শোকপালনের মাতমের অনুষ্ঠানও।

আরও পড়ুন: আগাম বুকিংয়ে ভোগের হাঁসের ডিম

‘মুর্শিদাবাদ পুজো সমিতি দক্ষিণ দরওয়াজা’র সভাপতি ছোটে নবাব ওরফে সৈয়দ মহম্মদ রেজা আলি মির্জা। সম্পাদক অশোক ঘোষ। ৭৪ বছরের বৃদ্ধ ছোটে নবাব আবার জমিদাতা নবাব বাহাদুর ওয়াসেফ আলি মির্জার নাতি। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়াশুনা করা নবাব বাহাদুরেরর মনখানি বরাবর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির তারে বাঁধা। ১৯৩৭ সালে হাজারদুয়ারি প্যালেস ও ইমামবাড়ার মাঝের বিশাল মাঠে ওই নবাব বাহাদুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহাসিক ‘হিন্দু মুসলিম ঐক্য সম্মেলন’।

পুজো কমিটির সম্পাদক অশোক ঘোষ বলেন, ‘‘যে মাটিতে দেবীর আসন পাতা হয়েছে সেই মাটিতেই ইদের পরে ইদ-মিলনী অনুষ্ঠান জীবন্ত হয়ে ওঠে। পুজোর চাঁদা তোলা থেকে যাবতীয় আয়োজন ও বিসর্জনে যাঁরা কাঁধ লাগান, তাঁদের কে হিন্দু, কে মুসলমান তা আলাদা করে দেখার প্রয়োজন পড়ে না। মুশির্দাবাদ শহরের মাটিতে এটাই স্বাভাবিকঁ’’

আরও পড়ুন: ভাঙা ঘরের দুর্গাই লন্ডনে

কেন স্বাভাবিক? ব্যাখ্যা দিলেন ‘সিটি মুর্শিদাবাদ ব্যবসায়ী সমিতি’র সম্পাদক স্বপনকুমার ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘‘মহরমের শোক পালনের জন্য এই শহরের হিন্দু পরিবারের ছেলেরাও বরাবর মাতমে অংশগ্রহণ করে। মহরমের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আজও এই শহরের অনেক হিন্দু পরিবারে ১০ দিন নিরামিষ রান্না হয়। অনেক হিন্দু রমণী তাঁর স্বামী সন্তানের শুভ কামনায় ইমামাবাড়ায় মানত করেন।’’

শহরের বাসিন্দারা বলছেন, এই শহরেই তিনশো বছর ধরে নবাবি আয়োজনে ভাদ্র মাসের শেষ বৃহস্পতিবার লক্ষাধিক দর্শক সমাগমে অনুষ্ঠিত হয় সম্প্রদায় নির্বেশেষের আলোর উৎসব ‘ব্যারা’। সেই শহরে উভয় সম্প্রদায়ের উদ্যোগে অসুরদলনীর আরাধনা হওয়াটাই
তো স্বাভাবিক।    

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন