সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

তাল ঠুকছে দক্ষিণ কলকাতাও

Durga Puja

দক্ষিণ কলকাতার এই পুজোগুলো না দেখলেই নয়। আসুন দেখে নিন সেরা কয়েকটি পুজো: 

 

পল্লি উন্নয়ন সমিতি, বাসুদেবপুর

আধুনিক সভ্যতা পৃথিবীকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। কংক্রিটের জঙ্গলে হারিয়ে যাচ্ছে সবুজ। তাই ৫৮তম বছরে আমরা নিবেদন করছি মা দুর্গার শাকম্ভরী রূপ। এখানে মা প্রকৃতি রূপে আবির্ভূতা। তিনি পৃথিবীকে শস্য-শ্যামলা করে তুলছেন। আমাদের মণ্ডপে দর্শনার্থীরা প্রকৃতি রক্ষা করার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হবেন।

 

বড়িশা সর্বজনীন

এ বার আমাদের থিম ‘শূন্যতে শুরু, শূন্যতেই শেষ’। শূন্য শব্দের শক্তি অপরিসীম। এই ভাবনাকে ফুটিয়ে তুলতে মূল মণ্ডপে ঢোকার আগে তিনটি বৃত্তাকার বিষয়কে রূপক হিসেবে দেখানো হয়েছে। নাগরদোলা, সুড়ঙ্গ এবং জলাশয়, তিনটিই শূন্যের প্রতীক। চক্রাকার মানবজীবনে রয়েছে মৃত্যু ও নতুন প্রাণের স্পন্দন। শিশুদের আদর্শে দীক্ষিত করতে দুর্গার চালচিত্রে থাকছে মানবজাতির কল্যাণে নিয়োজিত মণীষীদের ছবি। তাঁদের মতো হলেই জীবন সার্থক— এই আমাদের বার্তা।

 

বড়িশা যুবক বৃন্দ

পাহাড়ি মন্দিরে বাস এক ব্যবসায়ীর। পরে তিনি এলেন বড়িশা অঞ্চলে। তার পরেই পেলেন দেবীর স্বপ্নাদেশ— গড়তে হবে ওই রকম এক মন্দির। বর্তমানে ৩০০ বছরের পুরনো, তিন চালার সেই মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ এলাকাবাসীর হাতে। এই কাল্পনিক কাহিনি ভিত্তি করেই সেজে উঠছে আমাদের মণ্ডপ। থাকছে স্থাপত্য বিষয়ক ড্রয়িং ও কাঠামো। সঙ্গে মানানসই মাতৃমূর্তি। পুজোর দিনগুলোয় শিল্পীরা পরিবেশন করবেন সুফি ও বাউল গান।

এক নজরে দেখে নিন পুজোর মানচিত্র

১) পল্লি উন্নয়ন সমিতি বাসুদেবপুর
২) বড়িশা সর্বজনীন
৩) বড়িশা যুবক বৃন্দ
৪) বড়িশা একতা সঙ্ঘ
৫) বেহালা নূতন দল
৬) বেহালা ফ্রেন্ডস 

৭) বেহালা বুড়োশিবতলা
জনকল্যাণ সঙ্ঘ
৮) নন্দনা যুব সঙ্ঘ
৯) বেহালা ক্লাব
১০) মুকুল সঙ্ঘ বেহালা
১১) বেহালা নস্করপুর সর্বজনীন

 

বড়িশা একতা সঙ্ঘ

কুড়ি বছরে পা দিল আমাদের পুজো। শিল্পী অনির্বাণ কুণ্ডু ও ঋতুরাজ দাসের কল্পনায় থিম ‘ভাবনা দিয়ে সৃষ্টি’। মহারাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রদেশ সীমানার পাহাড়ি অঞ্চলের আদিবাসীদের প্রাচীন শিল্প ‘ওয়ারলি’ নামে পরিচিত। মণ্ডপে থাকছে সেই শিল্পই। সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের নানা শিল্পও। এর মধ্যে দিয়ে শান্তি, মৈত্রী ও ঐক্যের বার্তা দেওয়া হবে। প্রবেশপথে থাকছে দুই শিল্পের মেলবন্ধনে একটি নৌকা ও ঘোড়া— যা দেবীর আগমন সূচিত করবে। মাতৃ প্রতিমাতেও রয়েছে দুই শিল্পের মিশেল।

 

বেহালা নূতন দল

আমাদের পুজো পা দিল ৫২ বছরে। এ বারের থিম ‘অন্তরমহল’। সংসারের অন্দরমহলের রাশ যেমন বাড়ির মহিলাদের হাতে থাকে, মা দুর্গার হাতেও তেমন জগৎ সংসারের ভার। এই ভাবনাই প্রকাশ পাবে মণ্ডপে। মূর্তি থেকে মণ্ডপসজ্জা— সব ভাবনাই শিল্পী যোগেন চৌধুরীর। মণ্ডপে থাকছে লোহার কারুকাজ।

 

বেহালা ফ্রেন্ডস

৫২তম বর্ষে অভিনব মণ্ডপ হাজির করতে চলেছি আমরা। নির্মীয়মাণ দু’টি বাড়ি এবং মাঝের ফাঁকা জায়গা নিয়েই এ বারের মণ্ডপ। কোনও জায়গা দেখে মনে হবে সেটি বাড়ি, কোনও জায়গা দেখে মনে হবে মণ্ডপ। বাড়ির কাজে পড়ে থাকা লোহা, দরজা, জানলাও ব্যবহৃত হয়েছে। মণ্ডপ জুড়ে থাকছে ইনস্টলেশন আর্ট। মূল ভাবনায় ধরা পড়বে শক্তিরূপিণী দুর্গা। থিমের সঙ্গে মানানসই প্রতিমা।

 

বুড়োশিবতলা জনকল্যাণ সঙ্ঘ

১১ বছরে পা দিল আমাদের পুজো। এ বার থিম ‘শিল্পীর ভাবনায় দেবী অঙ্গন/পাল্টে দেবে দৃষ্টিকোণ’। খুব পরিচিত, বহুল ব্যবহৃত একটি জিনিস দিয়ে সেজে উঠছে আমাদের মণ্ডপ। কেজো সেই জিনিসটিকে শৈল্পিক রূপে দেখানোই আমাদের চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া থাকছে মানস সরোবর ও হিমালয় শিখর, যা মানুষকে সুপথে চলতে নির্দেশ দেয়। ভালবাসা ও প্রেমের প্রতীক হিসেবে থাকছে ব্রহ্মকমল ও রাজহাঁস। মাতৃশক্তির প্রতীক ত্রিনয়ন ও পদ্মে সাজবে মণ্ডপ। কাঠ কুঁদে তৈরি হচ্ছে ১৬ ফুট উঁচু প্রতিমা।

 

নন্দনা যুব সঙ্ঘ

৬১তম বছরে থিম হিসেবে আমরা বেছেছি লোহা। লোহার মতো কেজো জিনিসও যে শিল্প সৃষ্টির কাজে লাগানো যেতে পারে, তা-ই দেখাবো আমাদের মণ্ডপে। লোহার পাত কেটে কেটে তৈরি হচ্ছে বাড়িতে ব্যবহৃত নানা দৈনন্দিন জিনিস। সেগুলি দিয়েই সেজে উঠবে মণ্ডপ। তবে প্রতিমার ক্ষেত্রে আমাদের পছন্দ সাবেক রূপই।

 

বেহালা ক্লাব

৭৩তম বর্ষে আমাদের থিম ‘শান্তি’। বিশ্ব জুড়ে চলছে হানাহানি। মানুষের জীবন থেকে হারিয়ে গিয়েছে শান্তি। আমাদের মণ্ডপে ঢুকলে কিছুক্ষণের জন্য দর্শকেরা পৌঁছে যাবেন অন্য এক জগতে। যেখানে দুর্গাপুজো হয়ে উঠবে সব ধর্মের মানুষের মিলনস্থল। মণ্ডপের ভিতরে থাকছে আয়না ও স্ফটিকের সাজ। প্রবেশপথে লোহার তোরণে থাকবে আলোর খেলা। নটরাজ ভঙ্গিতে দেবী। পুজো প্রাঙ্গণে দেখা মিলবে আমাদের পুজো-ম্যাসকট— ঢাক বাজাতে থাকা একটি সিংহের। নাম তার টিগবু।

 

মুকুল সঙ্ঘ, বেহালা

আসল পুজোর দিনগুলোর চেয়ে পুজো আসছে, এই অপেক্ষাটাই উৎসবের আনন্দ বাড়িয়ে দেয়। তাই আমাদের থিম ‘প্রস্তুতি’। মণ্ডপ থাকবে ভাঙা-গড়ার অবস্থায়। কারিগররা সাজানোর কাজ করছেন— এমন মডেল থাকবে ভিতরে। এ দিক-ও দিক ছড়িয়ে থাকবে মণ্ডপ সাজানোর জিনিস। আশপাশের বাড়িগুলিও থিমের অন্তর্ভুক্ত। মা থাকছেন সাবেক রূপে। এ বার আমাদের ৫৭তম বছর।

 

বেহালা নস্করপুর সর্বজনীন

৫৭তম বর্ষে মণ্ডপসজ্জায় ব্যবহার হচ্ছে শুকনো পাতা। তা দিয়েই তৈরি হবে সুন্দর সুন্দর নকশা। থিমের নাম ‘পল্লবী’। এটি মা দুর্গারও নাম। ওড়িশার রঘুরাজপুরের মিনিয়েচার পেন্টিংয়ে সাজবে মণ্ডপ। শুকনো পাতায় করা হবে এই সূক্ষ্ম কাজ। প্রতিমাতেও থাকবে ওড়িশার লোকশিল্পের ছোঁয়া।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন