• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

শূন্যে গুলি ছুড়ে সপ্তমী

Durgapuja Preperation
জোরকদমে: চলছে মূর্তি তৈরির কাজ। নিজস্ব চিত্র

আজও শূন্যে ৫ রাউন্ড গুলি ছুড়ে দুর্গাপুজোর সূচনা হয় তিলাসনের জমিদার রায়বাড়ির পুজোয়। সপ্তমীর সকালে বাড়ির কাছেই পুনর্ভবা নদীতে দেবীর ঘট ভরানোর সময় শূন্যে গুলি ছুড়বেন রায় পরিবারের সদস্য রাকেশকুমার রায়। টানা ৩৬ বছর ধরে তিনি ওই রীতি পালন করে আসছেন।

জমিদার বাড়ির পুজো শুরুর বার্তা গ্রামবাসীদের কাছে পৌঁছনোর জন্যই শূন্যে গুলি ছোড়ার এই রেওয়াজ চালু হয় বলে কথিত আছে। শুধু তাই নয়, রায় পরিবারের পুজোয় সাধু-সন্যাসীদের উপস্থিতিতে সপ্তমীতেই কলাবৌকে পঞ্চবাদ্য বাজিয়ে পুনর্ভবা নদীতে স্নান করানো হয়। দুর্গা পুজোর সঙ্গেই রায় বাড়ির মন্দিরে থাকা রাধাকৃষ্ণ, গৌড়-নিতাই, মহাবীর ও শিবের পুজোও হয়। ২১৬ বছর ধরে এ ভাবেই নানা নিয়ম মেনে এই পুজো হয়ে আসছে। রায় বাড়িতে এখন জোরকদমে দেবীমূর্তি গড়ার কাজ চলেছে। এই পুজোকে ঘিরেই ফি-বছর মেতে ওঠেন আদিবাসী অধ্যুষিত তিলাসন গ্রামের বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন: দমদমে গুজরাতের শিল্পকলা

রায় পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের কথায়, প্রায় আড়াইশো বছর আগে উত্তর প্রদেশের গাজিপুর জেলার সোনারি গ্রাম থেকে তিলাসনে এসেছিলেন রায় পরিবারের পূর্বপুরুষ অবোধনারায়ণ রায়। জমিদারির পাশাপাশি সে সময় নদীপথে তাঁদের নানা ব্যবসাও ছিল। সন্ন্যাসী বিদ্রোহ চলাকালীন রায় বাড়িতে তিন সন্ন্যাসী এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং এই বাড়িতেই সেই সন্ন্যাসীরা স্বেচ্ছায় সমাধি নেন। সেই সমাধিস্থল এখনও রয়েছে। তাঁদের কথা অনুযায়ীই বৈষ্ণব পদ্ধতিতে দুর্গা পুজো শুরু হয় জমিদার বাড়িতে।

অবোধনারায়ণের ছেলে শিবপ্রসাদ প্রথম দুর্গা পুজো শুরু করেন। এর পর ব্রজেন্দ্রনারায়ণ রায়, শঙ্করপ্রসাদ রায় ও বর্তমানে তাঁদের উত্তরসূরীরা এই পুজো নিয়ম-নিষ্ঠার সঙ্গে করে আসছেন।

রায় পরিবারের অন্যতম সদস্য রাকেশকুমার রায় (পাপ্পু) বলেন, ‘‘পরিবারের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্যই পূর্ব পুরুষেরা বন্দুক ব্যবহার করতেন। লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থেকেই পুনর্ভবা নদীর পাড়ে শূন্যে গুলি ছুড়ে পুজোর সূচনা করা হয়ে থাকে। চার দিনই মাকে নানা ব্যঞ্জনে অন্নভোগ দেওয়া হয়।’’ রীতি মেনে দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনের পরে আদিবাসী মানুষদের মধ্যে খিচুড়ি ভোগও বিলি করা হয়।

মালদহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের পাশাপাশি বিএসএফের কর্তারাও এই পুজোয় প্রতিবার আসেন। গ্রামবাসীদের কথায়, ‘‘গ্রামে আগে এই জমিদার বাড়ির পুজোই শুধু হতো। এখন এলাকায় আরও কয়েকটি পুজো হলেও জমিদার বাড়ির পুজোর মাহাত্ম্যই আলাদা।’’

 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন